আমার লিখা আর্টিক্যাল লেখালেখি

আমি যে বিষয়ে এক্সপার্ট কেবল সেই বিষয়ে কথা বলি

আল্লাহর রাসূল সা. এর পরে ইসলাম রক্ষা, ইসলামের প্রচার ও প্রসার অথবা প্রতিষ্ঠার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন কারা? উত্তর: হযরত আবু বকর রা. হযরত উমর রা. হযরত উসমান রা. এবং হযরত আলী রা.

 

কুরআন সংরক্ষণ অথবা কুরআনের তাফসীর সংক্রান্ত ব্যাপারে কাদের অবদান বেশী? উপরোক্ত ৪জন? না। বরং এখানে নাম আসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা., আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. কিংবা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. দের।

 

হাদীস সংরক্ষণের কাদের ভূমিকা বেশী? উপরোক্ত সাহাবীগন? না। বরং এখানে নাম আসে হযরত আবু হুরায়রা রা., হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. হযরত আনাস বিন মালিক রা. ও হযরত আয়েশা রা. দের।

 

তাফসীরুল কুরআনের পাতায় পাতায় অথবা বুখারী মুসলিম সহ হাদীস গ্রন্থ সমূহের পাতায় পাতায় আমরা যে সব সাহাবীদের নাম পাই, ইসলামের ইতিহাস যখন আমরা পড়ি-তখন তাদের নাম আমরা খুব খোঁজে পাইনা। অপর দিকে ইসলামের ইতিহাসে যাদের নাম পাই, ইসলাম প্রতিষ্ঠা, প্রচার, প্রসারে যাদের নাম বারবার আসে-তাদের নাম আমরা আমরা তাফসীর হাদীসের পাতায় খুব একটা পাইনা।

 

তাহলে কি হযরত আবু বকর রা., উমার রা., উসমান রা. কিংবা আলী রা. কুরআন হাদীসের জ্ঞান রাখতেন না? (নাউযুবিল্লাহ)।

তাহলে কি হযরত আবু হুরায়রা রা., ইবনে আব্বাস রা., ইবনে উমর রা. কিংবা ইবনে মাসউদ রা. ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে ছিলেন না? (নাউযুবিল্লাহ)

যারা কুরআন ও হাদীসের এতো বিশদ জ্ঞানের অধিকারী, তারা কি কখনো হযরত আবু বকর রা., উমার রা., উসমান রা. কিংবা আলী রা. এর আনুগত্য করতে কখনো পিছপা ছিলেন অথবা কখনো উনাদের চেয়ে নিজেদেরকে কখনো বড় মনে করতেন? (নাউযুবিল্লাহ)

 

আমাদের দেশের উলামায়ে কিরাম এবং ইসলামী দল গুলোর মাঝে যে বিরোধ বা অনৈক্য-তার মূলে রয়েছে এই কাহিনী। আমার মতে এই বিষয়টাকে বিবেচনায় না নেয়া পর্যন্ত ইসলামী ঐক্য সম্ভব নয়। ঐক্যের জন্য যা করা প্রয়োজন:

১. যারা ইসলামী রাজনীতির ময়দানে আছেন-সংগঠকের ভূমিকা পালন করছেন, তাদেরকে সবজান্তা মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। উলামায়ে কিরামদের যথাযথ সম্মাণ দিতে হবে। নিরেট দ্বীনি ব্যাপার সমূহে উলামায়ে কিরামদের কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে।

২. যারা ইলম এর ময়দানে আছেন, তাদেরকে রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামানো পরিত্যাগ করতে হবে। ঐ ময়দানে যারা কাজ করছেন, তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে আসা অনুরোধ বা দিকনির্দেশনাকে নির্দেশ হিসাবে মেনে নিয়ে আনুগত্য করতে হবে।

৩. যারা রাজনীতির ময়দানে আছেন এবং সংগঠকের ভূমিকা পালন করছেন, তারা ইলমের ময়দানকে যথাযথ পৃষ্টপোষকতা করতে হবে। যাতে করে ইলমের ময়দান থেকে বড় বড় মুফাক্কির, মুবাল্লিগ এর পাশাপাশি জ্ঞানী ও মেধাবী রাজনীতিবীদ প্রোডাকশন হয়।

৪. যারা ওয়াজের ময়দানে আছেন, তাদেরকে ইলমের ময়দানে এবং রাজনীতির ময়দানে অবস্থানকারীদের উপদেশ মেনে চলতে হবে। তাদেরকে বিষয় ভিত্তিক ও পজেটিভ বক্তব্য প্রদান করতে হবে।

৫. যিনি সংগঠক, তিনি ইলমী বিষয়ে বক্তব্য প্রদান পরিত্যাগ করতে হবে। যিনি বক্তা, তাকে যে সব বিষয় মাদ্রাসার দাখিল আলিম শ্রেণীতে পড়ানো হয়, সে সব বিষয় ওয়াজের মাহফিলে বলা পরিত্যাগ করতে হবে। যিনি ইলমের ময়দানে আছেন, তাকে গবেষণামূলক পেপারস তৈরী করে রাজনীতিবীদ ও ওয়ায়েজদের ভূল গুলো ধরে দিতে হবে।

 

আর তা যদি করতে হয়, তাহলে:

চরমোহনাই-এর বার্ষিক সম্মেলনে জুনাইদ বাবু নগরীকে দাওয়াত দিয়ে বক্তব্য প্রধান করার সুযোগ দিতে হবে।

মওদূদীবাদের স্বরূপ উম্মোচন শীর্ষক মহাসম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরকে দাওয়াত দিয়ে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ সম্মেলনে হেফাজত বা ফুলতলী ঘরণার দায়িত্বশীলদের দাওয়াত দিয়ে তাদের বক্তব্য শুনতে হবে।

 

আর যারা এই তিন শ্রেণীর কোন শ্রেণীতে পড়িনা, তাদেরকে দয়া করে মুখ এবং কলম বন্ধ রাখতে হবে। আপনি হয় ডাক্তার হবেন, নতুবা ইঞ্জিনিয়ার কিংবা চাকুরীজবি অথবা শিক্ষক। বিধায় আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সেই বিষয়ে কথা বলতে পারেন। কিন্তু মাদ্রাসার বারান্দায় না গিয়েও কেন আমি আলেমদের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করবো? আমি ডাক্তার হয়ে কেন ইঞ্জিনিয়ারের বিষয়ে নাক গলাবো? আমি সাধারণ চাকুরীজীবি হয়ে কেন রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে হবে?

 

আসুন! আমি আমাকে প্রশ্ন করি!! আমি কতটুকু জানি!!! আমি কোন বিষয়ে জানি!!!!

 

আমি যে বিষয়ে এক্সপার্ট, কেবল সেই বিষয়ে কথা বলি।

1 COMMENTS

  1. সবার আগে যেটা প্রয়োজন তা আলোচনায় অনুপস্থিত। এই আলোচিত বিষয় ইঙ্গিত দিচ্ছে আলোচনার সূচনা মধ্য যুগ বা আরো পরে থেকে করা হয়েছে। আগে গোড়া থেকে শুরু করুন ইসলামের প্রাথমিক যুগে কারা কেন বিভাজন সৃষ্টি করেছিল ও তার ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া কি কি। এসব বিস্তারিত না আনলে যাচিত সুরাহা অসম্ভব। কারণ বর্তমানের সকল সঙ্কটের মূল সেখানে। আপনার আলোচনা থেকে মনে হচ্ছে আপনি আলিয়া নেছাবে পড়েছেন। আমি বাংলাদেশের আলিয়া পন্থী সৌদি বিরোধী একটা গোষ্ঠীকে দেখেছি কওমী তাবলীগের বিরুদ্ধে ওহাবী দোষারোপ করে ঘৃণ্য বিষোদগার করতে। কতোই না হাস্যকর তা, কারণ উপমহাদেশে আলিয়া ভিত্তিক ইসলাম শিক্ষা প্রবর্তন করেন ওহাবীদের মূল গুরু ব্রিটিশ ইহুদি রাজবংশ। অপরদিকে কওমী আলেমরা ও ওহাবী সংস্পর্শ মুক্ত নয় এমনকি তাবলীগে যারা আলেম উলামা আছেন তাদের দুএক জনের সাথে কথা বলে দেখেছি তারাও ওহাবী দুর্গন্ধ যুক্ত। কারণ তাবলীগের কেতাবে মধ্য যুগের ইমাম তাইমিয়াহ ও ইমাম আব্দুল কাইয়ুম এর কিছু নসিহত লিপিবদ্ধ করেছে। বলাবাহুল্য আমি ৪০ বছর যাবৎ তাবলীগে যুক্ত ছিলাম। অর্থাৎ মোদ্দা কথায় ভারতবর্ষে কেউই ওহাবী নোংরা মুক্ত নয়। ঐ গোষ্ঠী যারা নিজেদের ওহাবী মুক্ত দাবি করেন তারা ওহাবী অন্তর্নিহিত মূল তাৎপর্য কিছুই জানেনা অথবা মুখের পুঁজি দিয়ে করার বানিজ্য করে। টুইটারে আমার দুটো ইংলিশ আর্টিকেল ও ইনষ্টাগ্রামে একটি বাংলা আর্টিকেল আছে। ফেসবুকে অনেকগুলো আছে কিন্তু আমি এখন সাসপেন্ড। পারলে টুইটার দেখে নিন অথবা আমি আপনার টুইটে লিন্ক দিচ্ছি। মূল সমস্যা ইহুদিবাদ বা NWO বা বিশ্বব্যাপী দাজ্জাল রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তারা পৃথিবীতে কয়েকটি কৌশল নিয়েছে। মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে ওহাবী, গরীব অমুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে মারক্সবাদ ও ধনী বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে কোথাও তথাকথিত গণতন্ত্র কোথাও ফ্যাসিবাদ কোথাও সাম্প্রদায়িকতা কোথাও জাতীয়তাবাদ সবগুলোই ইহুদিবাদের কৌশলী পণ্য। তাই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এদেশে যা দিয়েছে তার গোড়া ইহদিবাদে। কারণ ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দের ব্রিটিশ রাজবংশে রাণী ইসাবেলার হাতে খাজারিয়ান বা খারিজি মাফিয়ার সংযোগ ঘটে এবং তারপর থেকে রাজপরিবার মুখে খ্রিষ্টান দাবি করলেও ধর্মীয় ভাবে শয়তানি কাববালাহ। ্

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published.

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম চান্দগ্রাম বড়লেখা মৌলভী বাজার। উম গুয়াইলিনা, দোহা-কাতার।