ফেইসবুক জিহাদ ও কিছু কথা

আমার লিখা আর্টিক্যাল লেখালেখি

আমি দাবী করিঃ আমি একটি আদর্শ সংগঠনের কর্মী। অথবা আমার লিখনির মাধ্যমে আমি একটি নির্দিষ্ট দলকে সাপোর্ট করি। আমি সাপোর্ট করি অথবা না করি, কিন্তু আমার পাঠকরা মনে করেন যে, আমি এই সংগঠনের একজন বড় কেউ।

আমি একটি আদর্শ সংগঠনের জন্য অনলাইন জিহাদে ব্যস্ত। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে সেই সংগঠনের আদর্শ এবং প্রতিদিনকার করণীয় আমার প্রেকটিসে নাই।

আমি যখন লিখি, তখন আমার পাঠকদের কাছে কি ম্যাসেজ পাঠাই। আপনারা এই করছেন, সেই করছেন। অথচ আমার সংগঠন এই করেছিল সেই করেছিল।

আমি দলের প্রতি প্রচন্ড মহব্বতে সোস্যাল মিডিয়াতে নিজে নিজে বিভিন্ন ধরণের গ্রুপ তৈরী করেছি অথবা নিজেকে বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত করেছি। সেই সব গ্রুপের প্রচার প্রসারে আমি নিয়মিত শেয়ার করছি, লাইক দিচ্ছি। অথচ আমার সংগঠন এই সব গ্রুপের পরিচালনায় নেই, ধারে কাছেও নেই। এই সব গ্রুপে প্রদত্ত বক্তব্যের সাথে সংগঠনের দূরতম সম্পর্ক নাই। এই সব গ্রুপে এমন কিছু আবেগময় স্ট্যাটাস আসে, যা সংগঠনের অনুসৃত নীতিমালারও পরিপন্থী।

বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে আমি আমার ফেইসবুক টাইমলাইন গরম করে ফেলে। কোন কোন সময়ে আমরা বিভিন্ন বিষয় ভাইরাল করি। অথচ আমার সংগঠন এই বিষয়ে নিরব।

আমি মিজানুর রহমান আযহারী, মামুনুল হক, অমুক তমুক সমর্থক ফোরাম ইত্যাদির পোষ্ট গুলো সমানে শেয়ার করি। কিন্তু আমার সংগঠনের মূল দায়িত্বশীলের বক্তব্যটি একবারের জন্য শেয়ার করিনা।

বিভিন্ন ব্যক্তি আমার সংগঠনের ভাবধারায় কথা বলেন, তাদের লাইভ গুলো শেয়ার করি, লাইক করি। যার ভিউ আমি লক্ষ লক্ষ বানিয়ে ফেলি। অথচ আমি আমার সংগঠনের মূল দায়িত্বশীলের লাইভে নিজেই উপস্থিত থাকিনা, শেয়ার করিনা, ভাইরাল করিনা।

প্রতিদিন আমার সংগঠনের দায়িত্বশীলের কোন না কোন স্ট্যাটাস থাকে। আমি লক্ষ করি যে, সেই স্ট্যাটাস গুলো তার অধীনস্ত দায়িত্বশীলরা তাদের টাইমলাইনে শেয়ার করেন। অথচ আমি? আমি তখন অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত। আমি আমার দায়িত্বশীলের স্ট্যাটাসটি শেয়ার করার প্রয়োজনীতা অনুভব করিনা।

বিভিন্ন চলমান ইস্যুতে আমি আমার বক্তব্য প্রদান করি। অথচ এই বিষয়ে আমার করণীয় কি? আমার দায়িত্বশীলরা এবিষয়ে নিবর, না স্বরব। বিষয়টি আমি একটুও ভাবিনা। আমি নিজে বক্তব্য না দিয়ে দায়িত্বশীলের বক্তব্য কি তার জন্য অপেক্ষা করিনা। আমি আমার দায়িত্বশীলের বক্তব্যকে হাইলাইট করিনা।

আমি সংগঠনের জন্য ফানাফিল্লাহ। অথচ সংগঠনের আনুগত্য, নিয়মনীতি, নীতি আদর্শ ইত্যাদির সাথে আমি নাই। অথচ সোস্যাল মিডিয়া জানে যে, আমি বড় একজন নেতা। তাহলে আমি আসলে কি এই সংগঠনের একজন? না আমি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে পক্ষান্তরে সংগঠনের ক্ষতি করছি?

সংগঠন করলে করার মতো করি। সংগঠনকে সমর্থন করলে নিয়ম অনুযায়ী করি। সংগঠনের বিরোধীতা করলে তাও করি। কিন্তু সংগঠনের একজন সেজে, সংগঠনের সমালোচনা যেমন না করি, সংগঠনের একজন সেজে সংগঠনের অনুসৃত নীতির বিরুদ্ধে না বলি। সংগঠনের ভাল চাইলে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের বক্তব্যকে শেয়ার করি, নিজে নিজের বক্তব্য প্রদানে বিরত থাকি।

আমি এমন বড় কেউ নই যে, আমাকে বক্তব্য দিতে হবে। আমি ছোট হই, তাহলে বড় হতে পারবো।

লেখাটি আপনার ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.