বই নোটঃ একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণ-তার থেকে বাঁচার উপায়

একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণ: তার থেকে বাঁচার উপায় বইটির নিম্নোক্ত নোটটি পিডিএফ ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন

লেখক পরিচিতিঃ

লেখকঃ জনাব আব্বাস আলী খান

জন্মঃ ১৩২১ সালের ফাল্গুন মাসের শেষ সপ্তাহে 

স্থানঃ জয়পুরহাট 

পড়ালেখাঃ

   প্রথমে নিজ ঘরে কোরআনের ছবক নেন।

   ১৯২১ সালে ২য় শ্রেণীতে ভর্তি হন।

   ৬ষ্ঠ শ্রেনীর পর হুগলী মাদ্রাসায় পড়তে যান।

   রাজশাহী ও কারমাইকেল কলেজে পড়েন।

   ১৯৩৫ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিস্টিংশনসহ বি. এ. পাশ করেন। 

স্কলারশীপঃ ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ১ বছরের গভর্নমেন্ট বৃত্তি ও চারবার মেয়াদী বৃত্তি লাভ করেন।

কর্মজীবনঃ

   ১৯৩৫ সালে তিনি চাকুরী গ্রহণ করেন। কিন্তু নামাযে বাধা দেয়ায় চাকুরীতে ইস্তফা দেন।

   ১৯৩৬ সালে বেঙ্গল সেক্রেটারীয়েটে যোগ দেন এবং শেরে বাংলার সেক্রেটারি হন।

   দেশ বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের সার্কেল অফিসার হন।

   ১৯৫২ সালে জয়পুরহাট স্কুলের প্রধান শিক্ষক হন।

রাজনীতি ও আন্দোলনঃ

   ১৯৫৫ সালে তিনি মুত্তাফিক ফরম পূরণ করেন। 

   ১৯৫৬ সালে জামায়াতের রুকন হন। 

   ১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিভাগীয় আমীর হন। 

   ১৯৭৯ সাল থেকে মৃত্যু পযর্ন্ত সিনিয়র নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

   ১৯৭৯ থেকে ৯২ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। 

   ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হন। আইয়ুব খানের মুসলিম পারিবারিক আইন বাতিলের জন্য আন্দোলন করেন।

   ১৯৭১ সালের মন্ত্রী পরিষদের শিক্ষামন্ত্রী হন।

   ১৯৮০ সালের ৭ ডিসেম্বর ইসলামী বিপ্লবের ৭ দফা গণদাবী ঘোষণা করেন।

   ষাটের দশকের পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের অন্যতম নেতা ছিলেন। গণ আন্দোলন কর্মসূচী ও কেয়ারটেকার সরকারের জন্য আন্দোলন করেন।

   ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর সফর করেন।

   ১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে বৃটেন সফর করেন।

সাহিত্য চর্চাঃ

অনুবাদ ও মৌলিক রচনা ৩৫টি মৌলিক গ্রন্থের মধ্যে 

১. বাংলার মুসলমানদের  ইতিহাস

২. সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক 

৩. মুসলিম উম্মাহ  ইসলামী আন্দোলন ও তার দাবী 

অনুদিত গ্রন্থের মধ্যে 

   পর্দা ও ইসলাম

   সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং 

   জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের ভিত্তি

   ইসলামী অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য।

ইন্তেকাল  : ৩ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে ১:২৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।  

 

প্রকাশকের কথাঃ

   বইটি ১৯৯৮ সালে প্রথম প্রকাশিত ।

   ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য দরকার একটি আদর্শবাদী মজবুত সংগঠন

   দলের সাফল্যের জন্য যেমন কারণ থাকে, পতনের জন্যও তেমনি কারণ থাকে। কর্মীকে জানতে হয় কি কি কারণে পতন হয় এবং কিভাবে তা থেকে বাঁচা যায়।

   বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক দল। বিধায় এই বইটি নেতা কর্মীদের গাইড বুক হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।

আদর্শবাদী দলঃ 

   প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যবস্থা যদি মূল থেকে উপড়ে ফেলে সেখানে ভিন্ন ধরণের সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার প্লান থাকে, হালে একটা আদর্শ বেছে নিতে হবে।

   ভিন্ন আদর্শের সাথে থাকে ভিন্ন চিন্তাধারা।

   চিন্তা আর আদর্শএই দুই দিক দিয়ে যারা একমত, তাদের নিয়ে গঠিত হয় দল।

   এই দৃষ্টিভংগী থেকে গড়া দলকে বলা হয়ঃ আদর্শিক দল।

   আদর্শিক দল ইসলামী হতে পারে আবার ইসলাম বিরোধীও হতে পারে।

   সমাজ বিপ্লব করা আগে যে আদর্শের ভিত্তিতে সমাজ বিপ্লব হবে, সেই আদর্শের আলোকে ব্যক্তি গঠন করা দরকার।

   ঐ ব্যক্তিরা আদর্শ বাস্তবায়নকে জীবনে লক্ষ্য ও মিশন গ্রহণ করবে এবং এজন্য অকাতরে জীবন দিতেও প্রস্তুত হবে।

   এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিরা হবেঃ

§  প্রতিপক্ষের শত নির্যাতনেও দমিত হবে না।

§  নির্ভীক, সাহসী, ধৈয্যশীল।

§  নেতৃত্ব হবে গতিশীল, দুরদর্শী, সমস্যা মোকাবেলায় সচেতন, সংকট মুহুর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী।

§  নেতা কর্মীরা হবে নিয়ম শৃংখলার আনুগত্যকারী।

   উপরের গুণ গুলো হতে হবে সকল ধরণের দলে, তা ইসলামী হোক অথবা অনৈসলামিক।

   কিন্তু আদর্শবাদী দলটা যদি হয় ইসলামী দল, তাহলে তাতে আরো অতিরিক্ত গুনাবলী থাকতে হবে। যে সব গুনাবলী আল্লাহ দেখতে চান। যেমনঃ

§  লক্ষ্য হবেঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। 

§  করতে হবেঃ ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নিরলস সংগ্রাম।

   বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শবাদী দল। যার শুরু ১৯৪১ সালে।

 

দারূল ইসলাম ট্রাস্ট গঠন ও ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্যে দল গঠনের পটভূমি রচনাঃ

   আল্লামা ইকবাল ও মাওলানা মওদূদীঃ

§  আল্লামা ইকবাল মাওলানা মওদূদীর প্রতি আকৃষ্ট হোন তরজমানুল কুরআনের মাধ্যমে।

§  আল্লামা ইকবাল অসুস্থতা ও শারিকি দূর্বলতার কারণে তরজমানুল কুরআন পড়তে পারতেন না। তাই তিনি শুনতেন। পড়ে শুনাতেন সাইয়েদ নাযীর নিয়াযী ও মিয়া মুহাম্মদ শফী।

§  ১৯৩৭ সালে আল্লামা ইকবাল মাওলানা মওদূদীকে হায়দারাবাদ থেকে পাঞ্জাবে হিজরত করার আহবান জানান।

   চৌধুরী নিয়ায আলী (অবসরপ্রাপ্ত এসডিও) এর পরিকল্পনাঃ

§  ৬০/৭০ একর জমিতে একটা কমপ্লেক্স করবেন। যাতে থাকবে বিভিন্ন ধরণের ঘর। যাতে দ্বীনের বৃহত্তর খেদমত করা হবে।

§  পরামর্শ করলেন আল্লামা ইকবালের সাথে।

§  আল্লামা ইকবাল এই প্রজেক্টের জন্য মাওলানা মওদূদীকে একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি মনে করলেন।

§  চৌধুরী নিয়ায ৬০/৭০ একর জমি ওয়াকফ করলেন।

§  মাওলানা মওদূদী আল্লামা ইকবালের সাথে আলোচনা করে ১৯৩৮ সালের ১৬ মার্চ পূর্বপাঞ্জারে পাঠানকোটে হিজরত করেন।

   দারুল ইসলাম ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠাঃ

§  হিজরতের পর উপরোক্ত ৬০/৭০ একর জমিতে দারুল ইসলাম ট্রাস্ট গঠন করেন।

§  দারুল ইসলাম ট্রাস্ট গঠনের পর মাওলানা তার এক বক্তৃতায় বলেনঃ

   এখন সময় এসেছে, আমাদের মুসলমান থাকা বা না থাকার ফয়সালা করার।

   মুসলমান থাকতে হলে নিজ এলাকাসহ গোটা দুনিয়াকে দারুল ইসলাম বানানোর লক্ষ্যে ময়দানে নামতে হবে।

   লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেহ মন বিলিয়ে দেয়ার পুর্ণ ঝুঁকি নিতে হবে।

   যদি আমরা হিম্মত না করি, তা হলে ইসলাম থেকে চিরদিন দূরে থাকার জন্য তৈরী থাকতে হবে। কারণঃ

§  ভারত জন্ম গ্রহণ করছে বৃটিশ শাসনের গর্ভে, ভৌগীলক জাতীয়তার ভিত্তিতে ধর্মহীন গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে।

§  ভারতের বিকাশ সমাজতান্ত্রিক ধ্যাণ ধারণার স্তন্য পান করে।

§  যার পরিণাম হলোঃ মুসলমান এক সর্বব্যাপী সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার স্রোতে তৃণখন্ডের ভেসে যাবে।  ভারতের অবস্থান হবে আকীদা ও আমল উভয় দিক দিয়ে সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী।

কতিপয় উম্মাদের (দেওয়ানা) প্রয়োজনঃ

   সেই সময়ে কুফরী শক্তি ছিল এমন শক্তিশালী, যে অবস্থায় দারুল ইসলাম কায়েমের জন্য ময়দানে নামা মানে এমন ব্যক্তি সেই ব্যক্তির ন্যায় যে, পাগলযে আগুন নিয়ে খেলতে প্রস্তুত।

   উদাহরণঃ বাজিতে প্রায় হেরে গেছি অবস্থা দেখে, ময়দান হাত ছাড়া হয়ে গেছে দেখেএমন অবস্থায় যদি কেউ মোকাবেলার জন্য উঠে দাড়ায়, তাহলে সে উম্মাদ।

   দারুল ইসলাম কায়েমের জন্য যারা উম্মাদ হয়েছেন, তাদেরকে বুঝতে হবে জানতে হবে যেঃ

§   দারুল ইসলাম শব্দটা নিম্নোক্ত মানুষের নিকট চ্যালেঞ্জ হিসাবে উপস্থাপতি হবে, কেউ বরদাশত করতে চাইবে না। বিধায়ঃ

   আসমান যমীনের ছোট বড় সকল বস্তু আপনার দুশন হবে।

   সকল কুফরী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনাকে নিষ্পেষিত করতে চাইবে।

   সকল মুনাফেকযারা আপনার কওমের লোকতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনাকে নিষ্পেষিত করতে চাইবে।

§  এমন পরিস্থিতিতে আপনাকে পর্যালোচনা করতে হবে যে, আপনি ‍মুসলমান থাকার জযবা আপনার মধ্যে উম্মাদনার পর্যায়ে পৌছেছে কি না?

§  দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ প্রকাশ্য অসম্ভবই দেখা যাচ্ছে। এমতাবস্তায় এই কাজের জন্য আপনি আপনার জান ও মালের নিশ্চিত ক্ষতি করে কুরবানী দিতে যাবে কি না।

§  এরপরও যারা এই ধরণের পাগল হতে প্রস্তুত, যারা ব্যর্থতা সহ মৃত্যু বরণকে দুনিয়ার সফলতার উপর অগ্রাধিকার দিতে চান, তারাই দারুল ইসলাম আন্দোলনে পরিচলনা করতে পারেন।

   দারুল ইসলাম ট্রাস্ট ইসলামী আন্দোলনের উদ্দেশ্যে দল গঠনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে থাকে।

   আর এমনি প্রেক্ষাপটে ১৯৪১ সালের আগষ্ট মাঝে কথিত ৭৫জন পাগলকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় জামায়াতে ইসলামী।

   সেই জামায়াতে ইসলামীর উত্তরসূরী হলোঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

   মাওলানা মওদূদীর ভাষায় সেই দলের পরিচয়ঃ

§  এ দলের সদস্যদের সভ্যতা সংস্কৃতির ভ্রান্ত ব্যবস্থা ও রাজনীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করতে হবে।

§  এ দলের সদস্যদের আর্থিক কুরবানী থেকে কারদন্ড ও ফাঁসির ঝুকি নিতে হবে।

§  আর তাই, এই দলের সদ্যদেরঃ

   এ দলের সদস্যদের ঈমানের দিক দয়ে সুদৃঢ় ও অবিচল হতে হবে।

   আমলের দিক দিয়ে হতে হবে প্রশংসনীয় ও উচ্চ মানের।

জামায়াতের কাজ কি?

   মাওলানা মওদূদীর ভাষায় জামায়াতের কাজ হলোঃ

§  দুনিয়াতে জামায়াতে ইসলামীর কাজের কোন সীমারেখা নাই। পুরো মানব জীবনই জামায়াতে ইসলামীর কাজ।

§  যে সব বস্তুর সাথে মানুষের সম্পর্ক, ইসলামের সাথেও সেই সব বস্তুর সম্পর্ক।  বিধায় ইসলামী আন্দোলন এক সর্বব্যাপী আন্দোলন।

§  যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করবেন, তাদেরকে বুঝে নিতে হবে যে, জামায়াতে ইসলামী কাজ হচ্ছেঃ

. দুনিয়ার নীতি নৈতিকতা, রাজনীতি, সভ্যতা সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সকল কিছুর পরিবর্তন।

. খোদাদ্রোহীর উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার পরিবর্তন করে আল্লাহর আনুগত্যের উপর ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করা।

§  যেহেতু এই কাজ সকল শয়তানী শক্তির বিরোদ্ধে সংগ্রাম, সেহেতু প্রতিটি পদক্ষেপের আগে ভাল ভাবে বুঝে নিতে হবে যে, আমি একটি কাটাযুক্ত পথে পা বাড়াচ্ছি।

   মাওলানা মওদূদী উপরের এই কথাগুলো বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠান দিনে দেয়া ভাষণে। ভাষণের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেনঃ

§  আমার জন্য এই আন্দোলন আমার জীবনের উদ্দেশ্য।  আমার জীবন মরণ এজন্য। বিধায় কেউ না আসলে, সহযোগী না হলে, বিরোধীতা করলেসর্বাবস্তায় আমি এ পথে একা লড়াই করবো।  এতে ভয় পাবো না।

   জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত হয়ে বিদায়ী ভাষণে সাথীদের উদ্দেশ্যে যা বলেনঃ

. জামায়াতের সদস্যদের কুরআন, সীরাতুন্নবী ও সীরাতে সাহাবা বারবার এবং মনোযোগের সাথে পড়তে হবে। এর প্রতি অনুরাগ থাকতে হবে।

. তাওয়াক্কুল বিল্লাহঃ যা আন্দোলনের প্রাণ। যা দূর্বল হলে ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠা করা বা তা সাফল্যের সাথে চালানো যাবে না। আর এজন্য প্রয়োজনঃ নামাযের সাথে নফল ইবাদতযা মানুষের মাঝে ইখলাস ও ঐকান্তিকতা সৃষ্টি করে।

. রুকনদের উপলব্দির বিষয় যে, তারা বড় একটি কাজের ময়দানে। বিধায় তাদের চরিত্র, আচার আচরণ হতে হবে সে অনুযায়ী। আর সেজন্য আল্লাহর সাথে সাথে সৃষ্টির সামনেও কঠিন দায়িত্ব রয়েছে।

. জামায়াতের লোকদের চরিত্র, আমানতদারী, দিয়ানতদারী হবে দৃষ্টান্ত মূলক। যে যে এলাকার অধিবাস, সে এলাকার মানুষের চেয়ে উন্নত। সামান্য পদস্খলন শুধু জামায়াতের নয়, বরং ইসলামের প্রতি কালিমা আরোপ করবে এবং অনেকের গোমরাহীর কারণ হবে।

. রুকনদেরকে ফিরকা সৃষ্টিকারী কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকাতে হবে। যেমনঃ

      . সাধারণ মুসলমানের নামাযের চেয়ে পৃথক ধরণের নামায না পড়া।

      . সাধারণের জামায়াতের সাথে জামায়াত আদায়, নিজেদের জন্য পৃথক জামায়াত না করা।

      . কোন বিতর্কে লিপ্ত না হওয়া।

   ১৯৪১ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে এমন ধরণের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শরু করে আদর্শবাদী দল জামায়াতে ইসলামী। আজ অবধি সেই আদর্শ বাস্তবায়নের সংগ্রাম চলছে। জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস পড়তে হবে।

 

আদর্শবাদী দলের পতনের কারণঃ তার থেকে বাঁচার উপায়

   একটি দলের উন্নতি, অগ্রগতি ও সাফল্যের পেছনে যেমন কিছু কারণ থাকে, তেমনি বিকৃতি ও পতনের পিছনেও কিছু কারণ থাকে।

যেহেতু কোন দলই চায়না যে, দলের বিকৃতি ও পতন ঘটুক, সেহেতু কারণ গুলো ভাল করে জেনে নিয়ে তা সৃষ্টির আগেই প্রতিরোধ করতে পারলে বিকৃতি ও পতন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আদর্শবাদী দলের পতনের কারণঃ তার থেকে বাঁচার উপায়

পতনের কারণঃ ১৩টি

বাঁচার উপায়ঃ ১২টি

১. দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহন না করা।

২. কুরআন হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন না করা ।

৩. সময় ও আর্থিক কুরবানীর প্রতি অবহেলা ।

৪. দলীয় মূলনীতি মেনে না চলা ।

৫. ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না করা।
৬. ভ্রাতৃত্ববোধের অভাব।

৭. নিম্নলিখিত কারণে পারষ্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়ঃ

৮. নিম্নলিখিত কারণে একটি ইসলামী দল তার প্রকৃত পরিচয় হারিয়ে ফেলে এবং নিষ্ক্রিয় ও প্রাণহীন হয়ে পড়েঃ
৯. জনশক্তির মধ্যে নৈরাশ্য ও হতাশা সৃষ্টি হওয়া।

১০. নেতৃত্বের অভিলাষ।

১১. অর্থ-সম্পদের প্রতি লালসা ।
১২. জীবন মান উন্নত করার প্রবণতা।
১৩. সহজ সরল জীবন যাপন না করা।

১. নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন।

২. অতিরিক্ত যিকির আযকার।

৩. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
৪. আত্মসমালোচনা।

৫. ক্রোধ দমন করা।

৬. মৌলিক বিষয়ে একমত পোষণ ।

৭. বিরোধী পরিবেশ পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া ।

৮. নেতৃত্বে দুর্বলতা পরিহার।
৯. নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা আন্দোলনের পতন ডেকে আনে।

১০. সমস্যার ত্বরিত ও সঠিক সমাধান ।
১১. ত্যাগ ও কুরবানী।

১২. বাইতুলমালে আমানতদারীতা ও সততা।

বিকৃতি ও পতনের কারণগুলো নিম্নরুপঃ মোট ১৩টি

১. দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহন না করা।

   জামায়াতে যোগদানকারী লোকেদের দ্বারাই জামায়াতের বিরাট সমস্যা সৃষ্টি হবে এবং তাদের মাধ্যমে জামায়াতের অগ্রগতি ব্যাহত হবে। যখন তারাঃ

. জামায়াতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তথা ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে নিজেদের জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য না বানাতে পারেন।

. জামায়াতকে সঠিক ভাবে না বুঝে কেবল আবেগের বশীভূত হয়ে জামায়াতে যোগ দেন।

. জানমালের কুরবানী না করে কেবল জামায়াতে যোগদাল করলেই নাজাত পাওয়া যাবে।

   আর এই ধরণের মানসিকতা বেশী ছড়ালে দলের বিকৃতি ও পতনের পথ খুলে যায়।

   জীবনের সকল ধরণের কাজের উপর আন্দোলনের কাজকে অগ্রাধিকা না দিলে আন্দোলনের প্রাণশক্তি বিনষ্ট হয়, পতন রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যেমনঃ

§  ব্যক্তিগত কাজ।

§  পারিবারিক কাজ।

§  বৈষয়িক স্বার্থ।

 

২. কুরআন হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন না করা ।

   ইসলামী জ্ঞান ও চরিত্র হলো ইসলামী আন্দোলনের হাতিয়ার।

   আর এ হাতিয়ার সংগ্রহের জন্য নিয়মিত পড়তে হবেঃ

§  কুরআন (তাফহীমুল কুরআনটীকা সহ)

§  হাদীস।

§  সীরাতুন্নবী।

§  সীরাতে সাহাবা।

§  ইসলামী সাহিত্য।

§  ইতিহাস।

§  সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতির জ্ঞান।

   অধ্যয়নের মাধ্যমে শুধু জ্ঞান লাভ হয়না, জিহাদী প্রেরণা জাগ্রত হয়।

   অধ্যয়ন বন্ধ হলে নিষ্ক্রিয়তা ও কর্মবিমুখতা দেখা দেয়যা বিকৃতির অন্যতম কারণ।


৩. সময় ও আর্থিক কুরবানীর প্রতি অবহেলা ।

   ইসলামী আন্দোলন দাবী করেঃ ১. বেশী বেশী সময়ের কুরবানী। ২. বেশী বেশী আর্থিক কুরবানী।

   কুরআনের নির্দেশঃ জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করো।

   এই কুরবানীর অনুপস্থিতি বা হ্রাসঃ

§  আন্দোলনের অগ্রগতি বন্ধ করে।

§  আল্লাহর সাহায্য বন্ধ হয়।

 

৪. দলীয় মূলনীতি মেনে না চলা ।

   আদর্শবাদী দলের মূলনীতি থাকে, যা সদস্যদের মেনে চলা লাগে।

   মূলনীতি লঙ্ঘিত হলে দলের বৈশিষ্ট নষ্ট হয়, বিকৃতি শুরু হয়।

   মূলনীতি লঙ্ঘিত হওয়া পরিলক্ষিত হলে সাথে সাথে বন্ধ করতে হবে।

 

৫. ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না করা।

   মতপার্থক্য একটি স্বাভাবিক বিষয়। আর মতপার্থক্যের কারণে অন্যায় আচরণ হয়।

   মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিঃ ইনসাফপূর্ণ বিচার ফায়সালা।

   দলে বিভিন্ন পর্যায়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা অনিবার্যঃ স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব, আঞ্চলিকতা ইত্যাদি কারণে ইনসাফের অন্তরায়যা দলের বৈশিষ্ট নষ্ট করে, পতনের পথ খুলে।


৬. ভ্রাতৃত্ববোধের অভাব।

   গভীর ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে সদস্যগন আবদ্ধ হওয়াইসলামী আদর্শবাদী দলের বৈশিষ্ট। যার উদাহরণঃ সীসাঢালা প্রাচীর।

   দল একটি প্রাসাদের মতোযা ভেঙে পড়েঃ ভ্রাতৃত্ববোধের অভাব, পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতিতে।

 

৭. নিম্নলিখিত কারণে পারষ্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়ঃ

   কুরআন হাদীসের এই আচরণের পরিণাম ভয়াবহ বলা হয়েছে।

   এই সব কারণে শুধু দল নয়, মুসলিম মিল্লাতের ফাউন্ডেশন নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

            . পারস্পরিক হিংসা বিদ্বেষ।

            . গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা।

            . পরশ্রীকাতরতা।

            . একে অপরকে সন্দেহের চোঁখে দেখা।

            . কারো বিপদে আপদে তার খোঁজখবর না নেয়া।

            . পরস্পর বৈষয়িক স্বার্থে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হওয়া।

            . অযথা কারো প্রতি কুধারণা পোষণ করা।

  

৮. নিম্নলিখিত কারণে একটি ইসলামী দল তার প্রকৃত পরিচয় হারিয়ে ফেলে এবং নিষ্ক্রিয় ও প্রাণহীন হয়ে পড়েঃ

        . কৃত শপথ পুরণ না করা।

§  আল্লাহর সাথে করা শপথ।

§  মানুষের সাথে করা শপথ।

§  জামায়াতে যোগদানে করা শপথ।

§  শপথ ভাঙ্গলে কথা ও কাজের মিল থাকে না।

§  শপথ ভঙ্গ করা বিশ্বাসঘাতকতা।

§  শপথ ভঙ্গের পরিনাম খুব মারাত্মককুরআন হাদীস অনুযায়ী। যেমনঃ ওয়াদা ভঙ্গকারী দ্বীন বহির্ভূত।

        . নিয়মিত দাওয়াতী কাজ না করা।

§  বেশী বেশী লোক ইসলামী দলভূক্ত করা দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্য।

§  ইসলামের পক্ষে জনমত ততবেশী সৃষ্টি হবে, যত বেশী লোক দলভূক্ত হবে।

§  ব্যাপক জনমত সৃষ্টি ছাড়া ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

§  দাওয়াতী কাজ অব্যাহত না চললে নিজেদের লোকও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে এবং দল থেকে দূরে সরে যায়।

        . মাসিক সাহায্য নিয়মিত না দেয়া।

§  জান মালের কুরবানীর শপথ করে দলে শামীল হওয়ার পর কুরবানী না করলে দল চালানো সম্ভব নয়।

        . সংগঠনের ডাকে ব্যক্তিগত ও দুনিয়াবী কাজ বাদ দিয়ে হাজির না হওয়া।

§  একটি দলকে তখনই আদর্শবাদী ও বিপ্লবী বলা হবে, যখন দলের জনশক্তি দায়িত্বশীলের পক্ষ থেকে বলে দেয়া তারিখ, সময় ও স্থানে যথা সময়ে উপস্থিত হবেন।

§  আদর্শিক ও নৈতিক মান মানই আসল কথা। তা প্রমাণিত হলে আর কিছুর প্রয়োজন নাও হতে পারে। এজন্য মাঝে মাঝে পরীক্ষা করা যেতে পারে। আসবে, তার পর বলা হবে চলে যান।

        . সার্বক্ষনিক আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের জবাবদিহির অনুভূতি জাগ্রত না থাকা।

§  এই অনুভূতি বিলুপ্ত হলে মুসলমান হিসাবে জীবন যাপন সম্ভব নয়।


৯. জনশক্তির মধ্যে নৈরাশ্য ও হতাশা সৃষ্টি হওয়া।

   হতাশা সৃষ্টি হয় ভ্রান্ত চিন্তাধারা ও পরিশুদ্ধ ইসলামী চিন্তার অভাবে।

   কিছু কিছু চিন্তার দ্বারা নেতৃত্বের প্রতি পরোক্ষ অনাস্থা প্রকাশ করা হয়। যা পতনের পূর্বাভাস। যেমনঃ

§  এতদিন থেকে আন্দোলন হচ্ছে, বিজয়ের কোন লক্ষণ নাই।

§  সরকার গঠন অনেক দূরে, সংসদে কাংখিত আসনই পাওয়া যাচ্ছে না।

§  দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করা যাচ্ছেনা।

§  দলের নীতি নির্ধারণে ভূল হচ্ছেসংশোধন করা দরকার।

   প্রশ্ন হচ্ছেঃ এই ধরণের চিন্তাধারা অনুযায়ী জয় বা পরাজয়ের মানদন্ড কি? চেষ্টা সাধনা করার পর যদি সহসাই সুফল না পাওয়া যায় অথবা হই জগতে যদি কোন সুফল পাওয়া না যায়তাহলে তা পরাজয়। কিন্তু এই ধরণের চিন্তা ভাবনা বস্তবাদী চিন্তা ধারা।

   মনে রাখতে হবেঃ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা তরজমানুল কুরআনের মাধ্যমে জামায়াত গঠনের আগে ৯ বছর যাবতঃ

§  ইসলামকে সত্যিকার রূপ ও আকৃতিতে উপস্থাপন করেছেন।

§  জড়বাদী চিন্তা ও মতবাদের বিপরীতে ইসলামী চিন্তা ও চেতনা সৃষ্টির কাজ করেছেন।

   মাসিক তরজমানুল কুরআনে বর্ণিত এই সম্পর্কিত কিছু কথাঃ

§  মুসলিম জাতির অবস্থা সেই অনুর্বব জমির মতো, যেখানে আগাছা বাড়ে ও ফুলে ফলে শুশোভিত হয়। আর ভাল গাছ বাড়তেও পারে নাবিকশিতও হতে পারে না। বহু কল্যাণ ও সংস্কারের বীজ হয় জমিতে বিনষ্ট হয়েছে অথভা অংকুরিত হলেও বিস্তার লাভ করেনিযা আমাদের চোঁখের সামনে।

§  নিজে যখন সংস্কারের কাজ শুরু করেন, তখন শুভাকাংখিরা নসিহত করেছেন অনুর্বব জমিতে বীজ ফেলে নষ্ট করো না

§  খারাপ জমি, অনুপযোগী মওসুম বা পানির স্বল্পতা দেখে হিম্মত হারানো কোন মর্দি মুমিনের কাজ নয়।

§  মর্দে মুমিনের ভাগ্য লিখে রাখা হয়েছে এই ভাবেঃ

   অনুর্বর জমিতে চাষ করা, অনুর্বরতা ও চাষের অনুপযোগিতার বিরুদ্ধে লাড়াই করা।

   ফলাফলের পরওয়া না করে বীজ বপন করবে।

   প্রয়োজনে নিজের ঘাম আর রক্ত দিয়ে জমিনকে সিক্ত করবে।

   যদি জমিকে সিক্ত ও উর্বর করা হয়, তাহলে সাফল্য নিশ্চিত।

   যদি সিক্ত না হয়, এ অবস্থায় জীবনও চলে যায়, তাহলেও বিফলকাম নয়।

§  মুমিনের জীবনের সফলতা হলোঃ সে এই কাজকে ফরয মনে করতো, তার জন্য জীবনের শেষ সময় অবধি অটল ছিল এবং ব্যর্থতা কর্তব্য পালনে বিরত রাখতে পারেনি। আর এজন্য রয়েছে আখেরাতে পুরস্কার।

   মাওলানা মওদূদীর আরো কিছু কথা উল্লেখিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর কার্যবিবরণীতেঃ

§  প্রত্যেক সত্যানুসন্ধানী ব্যক্তির বক্তব্য হলোনিজের মধ্যে ইকামাতে দ্বীনের তীব্র অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। আর তার ফলাফল কিসে আলোচনা না করে।

§  মুমিনের ব্যর্থতা কোন ব্যর্থতা নয়। আর তা যদি হয়ঃ

   মুমিনকে মাটির উপর দিয়ে টেনে হেঁচড়ে নেয়া হয়।

   মুমিনকে জ্বলন্ত কয়লার উপর নিক্ষেপ করা হয়।

   মুমিন যদি মরে যায় আর তার মৃতদেহ কাক চিল খায়।

§  আমরা যে কাজ করছি এবং যে কাজ সর্বাবস্তায় আমাদেরকে করতে হবে, সেই কাজ থেকে কোন ধরণের ব্যর্থতার আশংকা অথবা অনিশ্চয়তা আমাদেরকে মুক্তি দান করতে পারবেনা।

   আমাদের দায়িত্বঃ ইসলামী বিপ্লবের জন্য সর্বাত্মক সংগ্রাম। যারা ক্ষুদ্র জীবনে সুফল না দেখে হতাশাগ্রস্থ, তাদের চিন্তা হলো ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা। যা দলের বিকৃতি ও পতনের কারণ।

 

১০. নেতৃত্বের অভিলাষ।

   ইসলামী আন্দোলনের তথা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করতে হবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যএকেভাবে নিঃস্বার্থ ভাবে।

   নেতৃত্বের অভিলাষ এক ধরণের স্বার্থযাকে বলে ব্যক্তি স্বার্থ। এটি থাকলে দ্বীনের খেদমত করা যায় না।

   নেতৃত্বের জন্য কোন পদপ্রার্থী হওয়া যেমন ইসলামে নিষিদ্ধ। জামায়াতে ইসলামীতেও তেমন কোন প্রার্থী হওয়া যায় না।

   কারো মাঝে নেতৃত্বের অভিলাষ থাকা, আঁকারে ইংগিতে তদবির বা গোপন প্রচারণাএই সবই নেতৃত্বের অযোগ্যতা বলে বিবেচিত।

   এই ধরণের বিষয় দেখা দিলে অংকুরে বিনষ্ট করতে হবে। কারণ তা সাংগঠনিক সমস্যার সৃষ্টি করে এবং বিকৃতির পথ খুলে যায়।

 

১১. অর্থ-সম্পদের প্রতি লালসা ।

   অর্থের লালসা একটি বস্তুবাদী মানসিকতাযা ইসলামী দলের জন্য মারাত্মক। যা মানুষকে চরম নৈতিক অধঃপতনে নিয়ে যায়।

   দায়িত্বশীল কর্তৃক বায়তুলমালের অর্থ আত্মসাৎ আন্দোলনের বুকে ছুরিকাঘাত করার শামীল।

   অর্থের লালসা মানুষকে নানান ধরণের অবৈধ পন্থা অবলম্বনে বাধ্য করে। আর তখন আল্লাহ ভীতি ও আখেরাতের জবাবদিহির অনুভূতি থাকেনা।

   আমানত বিষয়ে আখেরাতের জবাবদিহি ও খেয়ানতের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে অনুভূতি জাগ্রত থাকলে আনানত খেয়ানত সম্ভব নয়।

   ইসলামী দলে খেয়ানত নামক রোগ শুরু হলে দল আর টিকে থাকে না। আর তার প্রতিকার হলোঃ প্রতিমাসে বাইতুলমালের হিসাব বৈঠকে পেশ করা।


১২. জীবন মান উন্নত করার প্রবণতা।

   ইসলামী আন্দোলনের পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা হলোঃ জীবন মান উন্নত করার প্রবণতা।

   এর মাধ্যমে লক্ষ পরিবর্তন হয়ে যায়। আখেরাত বা আল্লাহ মুখী না হয়ে মানুষ হয়ে পড়ে দুনিয়ামুখী।

   জীবনের মান বাড়াতে অবৈধ পথ অবলম্বল করা লাগে।

   এই প্রবণতা ইসলামী দলের আদর্শের পরিপন্থী।


১৩. সহজ সরল জীবন যাপন না করা।

   সংগ্রামী জীবনের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয় হলোঃ সাদা মাটা জীবন যাপনের বদলে বিলাসী জীবন যাপন।

   সাদামাটা জীবন মানে নয়ঃ

§  সামর্থ থাকার পরও ছিন্ন ও তালি দেয়া পোষাক পরিধান।

§  সামর্থ থাকার পরও নিম্ন মানের খাবার গ্রহণ।

   সাদামাট জীবন মানেঃ যার উদাহরণ ইসলামী মনীষীগন

§  অতিরিক্ত ব্যয় না করা।

§  মিতব্যয়ী হওয়া।

   গরীবের ছেলে সরকারী চাকুরী বা সংসদ সদস্য হয়ে গেলে জীবন মান বেড়ে যায়। পেছনে কারণঃ অবৈধ পন্থা অবলম্বন। ইসলামী আন্দোলনের যে সব কর্মী এমন সুযোগ পাবেন, তারা নিজেদেরকে মডেল হিসাবে উপস্থাপন করতে হবে।

   বর্তমান সময়ে উদাহরণঃ মালয়েশিয়ার পাসএর রাজ্য সরকার পরিচালনা। কেলান্তান রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী নিক আব্দুল আজীজ। যিনি সরকার নির্ধারিত বাড়ীতে বসবাস না করে নিজের পৈত্রিক বাড়ীতে বসবাস করেন। নাই কোন সিকিউরিটি ও প্রটোকল। মজলিসে কোন সোফা বা কার্পেট নাই। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রাপ্ত ভাতার ৬০ ভাগ সরকারকে ফেরত দেন, ২০ ভাগ সংগঠনকে দেন এবং ২০ ভাগ দিয়ে জীবন যাপন করেন।

   ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলরা এমন মডেল হতে না পারলে আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষন্ন হয়।

 

তার থেকে বাঁচার উপায়ঃ মোট ১২টি

১৪. নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন।

   তায়াল্লুক বিল্লাহ বা আল্লাহর সাথে সম্পর্কঃ ইসলামী আন্দোলনের প্রাণ।

   আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন মানেঃ

§  প্রতি মূহুর্তে আল্লাহকে স্মরণ।

§  আল্লাহকে প্রভূ হিসাবে স্মরণ করা।

§  বান্দা হিসাবে আল্লাহর হুকুম পালন করা।

   আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সর্বোত্তম উপায় হলোঃ নামায।

§  নামায মানে সত্যিকার নামায, আল্লাহর মনঃপুত নামায, প্রতি রাকাতের ৬বারের আল্লাহু আকবার অন্তরের কথা হওয়া।

§  এই ধরণের নামায পড়তে পারলে আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের মাঝে গন্য করে বলবেনঃ আমার প্রিয় বান্দাহদের মধ্যে শামীল হয়ে যাও এবং তার পর জান্নাতে প্রবেশ করো।

   নামাযের মতো নামায না হলে ইসলামী আন্দোলনে সঠিক ভূমিকা পালন করা যায় না।

   নামায ঠিক হলে যাবতীয় আচরণ সঠিক হবে।

   বিধায় হেদায়াত বই থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, সাহাবীদের মতো নামায পড়তে হবে।

   আল্লাহর উপর ঈমান আনার পর নামাযই ফরয হয়েছে।

   আখেরাতে সর্ব প্রথম পরীক্ষা হবে নামাযের।

   ইকামতে দ্বীনের জন্য প্রয়োজনীয় মন মানসিকতা, চরিত্র, গুনাবলী সৃষ্টি করে নামায।

   নামাযের ক্ষেত্রে লক্ষনীয়ঃ

§  একাগ্রতা ও বিনয় নম্রতা সহ নামায আদায় করা।

§  তাড়াহুড়া পরিত্যাগ করা।

§  সবার আগে মসজিদে প্রবেশ এবং সবার পরে বের হওয়া।

§  তাদীলে আরকানের সাথে নামায আদায়।

§  নামাযে পোষাক পরিচ্ছেদের পরহেজগারীর চাপ থাকতে হবে।

   তাহাজ্জুদ নামাযঃ

§  যা ফরয নয়। কিন্তু আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর ও নিবিড় করা করার মাধ্যম।

§  সকল যুগের মুজাহিদদের নিয়মিত তাহাজ্জুদের অভ্যাস ছিল।

§  রাতের শেষ ভাগে নরমগরম ও সুখকর শয্যা ত্যাগ করে আল্লাহর দরবারে ধরনা দিতে না পারলে দূর্গম পথে জান মালের কুরবানী দেয়া সম্ভব নয়।

§  কুরআনে তাহাজ্জুদ নামাযের বিশেষ তাকীদ রয়েছে। তাদেরকে মুহসীন ও মুত্তাকী বলা হয়েছে।

§  সূরা আল যারিয়াতঃ ১৬১৮, আল ফুরকানঃ ৬৩৬৪, আলে ইমরানঃ ১৭, হাদীস সমূহ।

 

১৫. অতিরিক্ত যিকির আযকার।

   আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য সহায়ক বস্তু হচ্ছে যিনি আযকার।

   ইসলামের ৫ রুকনএর সাথে কেবল যিকির আযকার শুধু ইসলামএকথাটা যেমন ঠিক নয়। যিকির আযকার পরিহার করাও তেমন ঠিক নয়।

   মাসনুন যিকির আযকার পরিহার করা যাবে না।

 

১৬. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

   আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনইসলামী আন্দোলনের পরম লক্ষ্য। আর এর প্রেরণা স্তিমিত হওয়া মানে আন্দোলনের পতন ত্বরান্বিত।

   আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রেরণা শুধু অক্ষুন্ন রাখা নয়, বরং বাড়াতে হবে। সকল কাজ হবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্ঠির জন্য।

   এজন্য দোয়া করতে হবে।


১৭. আত্মসমালোচনা।

   আত্মসমালোচনাকে বলে মুহাসাবায়ে নফস।

   ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক সমালোচনা আদর্শবাদী দলকে বিকৃতি ও পতন থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

   অন্যের সামালোচনার ক্ষেত্রে ইসলামে সুনির্দিষ্ট নীতি পদ্ধতি রয়েছে।

   শয়তান যেহেতু মানুষের পিছনে আছে, তাই শয়তানের ফাঁদ থেকে বাঁচানোর জন্য আত্মসমালোচনা করতে হবে। তাওবা করতে হবে। নিজেকে সংশোধন করতে হবে।

   নিজের অনেক ভূল নিজে নিজে ধরা যায় না। তাই অন্য ভাইকে ভূল ধরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করতে হবে।

 

১৮. ক্রোধ দমন করা।

   ক্রোধ সংগঠনে বিশৃংখলার কারণ।

   ক্রোধ স্বাভাবিক বস্তু। কিন্তু তাকে দমন করে রাখতে হবে।

   ক্রোধের ফলাফল অশালীন কথা, গালি ও রূঢ় কথা। যার পরিণতি সম্পর্ক অবনতি, মনোমালিন্য ও প্রতিশোধ প্রবণতা।

   এ ব্যাপারে রয়েছে কুরআনে নসিহতঃ সূরা আলে ইমরানঃ ১৩৪, ১৫৯

   দায়িত্বশীলদের দায়িত্বঃ যার অনুপস্থিতি নৈতিক বিকৃতি

§  লোকদের মন জয় করা।

§  লোকদের কাছে টানা।

§  লোকদের দূরে ঠেলে না দেয়া।

§  নম্র, ভদ্র, ক্ষমাশীল হওয়া।

 

১৯. মৌলিক বিষয়ে একমত পোষণ ।

   সেকুলার দল, ইসলাম বিরোধী দল, অনৈসলামিক দলএ সব দলে অনৈক্যের কারণ ব্যক্তি স্বার্থ।

   স্বাধীন ভাবে চিন্তা ও স্বাধীন মতামত প্রকাশ ব্যক্তির অধিকার। কিন্তুঃ

§  যে কোন দলে মৌলিক প্রশ্নে সকলকে একমত হতে হয়। না হলে দল গঠন হয় না।

§  নীতিগত প্রশ্নে ঐক্যের অভাব হলে দল ভাঙ্গনের সম্মুখীন হয়।

   ইসলামী দলেঃ

§  আদর্শিক ও আধ্যাত্মিক দিকে রয়েছে স্বাতন্ত্র ও বৈশিষ্ট মন্ডিত।

§  চিন্তা চেতনা ও আবেগ অনুভূতির উৎস কুরআন সুন্নাহ।

§  তাই ইসলামী দলে মৌলিক বিষয়ে মতানৈক্য থাকতে পারে না।

   চিন্তার ঐক্যের জন্যঃ

§  পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন।

§  ঐক্যের মূল উৎসের প্রতি দৃষ্টি রাখা।

§  তরজমানুল কুরআন পড়া।

§  রাসায়েল মাসায়েল পাঠ্য তালিকাভূক্ত করা।

§  তাফহীমুল কুরআন টীকাসহ পড়া।

 

২০. বিরোধী পরিবেশ পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া ।

   ইসলামের বৈশিষ্ট বিরোধী পরিবেশ পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত হলে বিকৃতি শুরু হয়।

   ইসলামযা প্রভাবিত করে, প্রভাবিত হয়না। স্রোতের সাথে ভেসে যাওয়া নয়, স্রোতের বিপরীতে চলা।

   ইসলাম বিরোধী পরিবেশ প্রভাব বিস্তার করেঃ মনমস্তিষ্কে, চিন্তাচেতনায়, কর্মকান্ডে। সৃষ্টি হয় দ্বিধাদ্বন্দ্বের।

   প্রতিফল দেখা যায় কথাবর্তায়, আচারআচরণে, রাজনৈকি কর্মকান্ডে, মিটিংমিছিলে, শ্লোগানে, ভাষণে, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, বোমা নিক্ষেপ, অগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ইত্যাদির মাধ্যমে।

   পর্যায়ক্রমে সেকুলার দল ও ইসলামী দলের আচরণের মধ্যে পার্থক্য থাকে না।

   তাই ইসলাম জাহেলিয়াত সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। পড়তে হবেঃ ইসলাম ও জাহেলিয়াতের চিরন্তন দ্বন্দ্ব বই।

   প্রসংগে ক্রমে নারী স্বাধীনতা বিষয়টি আলোচিত। যা মুসলমানদের প্রভাবিত করছে। ইসলামী আন্দোলন নারী পুরুষের মিশ্র সমাবেশ ও একই কর্মক্ষেত্র এলাউ করতে পারে না। বিধায়, নারী পুরুষ মিশ্র সমাবেশ পরিহার করতে হবে।

   ইসলামী আন্দোলন চলবে তার নিজস্ব গতিতে। আন্দোলনকারীরা ইসলামিক হলে যখন তাদের প্রতি আস্তা আসবে যে, তাদের উপর দায়িত্ব দেয়া হলে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করবেনা বা দ্বীনের খেদমতের কথা বলে নিজেদের খেদমত করবে না, কেবল তখনই আল্লাহ তাদেরকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করবেন।

   আল্লাহ কারো নেক আমল নষ্ট হতে দেন না। বিধায়, দেশ পরিচালনার যোগ্যতা ও গুনাবলী অর্জন হলে আল্লাহ দায়িত্ব প্রদানে বিলম্ব করবেন না।

 

২১. নেতৃত্বে দুর্বলতা পরিহার।

   নেতৃত্বের দূর্বলতা করেয়ক ধরণের হয়। যেমনঃ

§  ইসলামী জ্ঞান ও নৈতিক চরিত্রের দুর্বলতা।

§  ব্যক্তিত্বের দূর্বলতা।

§  সকলকে নিয়ে কাজ করার যোগ্যতার অভাব।

§  যথা সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষমতা।

   নেতৃত্ব প্রদানের জন্য যে সব ‍গুণ দরকার, তার অভাব হলে দল সঠিক পথে চলতে পারে না

   জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের স্তরঃ স্তর মান অনুযায়ী নেতৃত্বের মান হতে হবে। নেতৃত্বের মান উন্নত হলে দলের মান উন্নত হবে।

§  কেন্দ্র।

§  জেলা।

§  পৌরসভা।

§  থানা।

§  ইউনিয়ন।

   নেতৃত্বের গুণঃ

§  সকলকে সমান চোঁখে দেখা।

§  সকলের প্রতি সমানভাবে ইনসাফ।

§  কাউকে আপন ও কাউকে পর মনে না করা।

§  কাউকে বেশী আস্তাভাজন, কাউকে কম আস্তাভাজন মনে করে আচরণ নয়।

   মাওলানা মওদূদী নেতৃত্বের উদাহরণ, যার সাথে যে কেউ একান্তে দেখা করেছেসে মনে করেছে যে, মাওলানা তাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসেন।

   জামায়াতে ইসলামী ঐতিহ্যঃ

§  সংগঠনের প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি রাখা।

§  নৈতিক, আদর্শিক ও সাংগঠনিক বিকৃতিতে প্রথমতঃ সংশোধনের সুযোগ দেয়া।

§  নির্দিষ্ট সময়ে সংশোধিত না হলে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা।

§  এই নিয়ম নেতা ও কর্মী সকলের জন্য একই ভাবে প্রযোজ্য।

   দলের জন্য ব্যক্তিঃ

§  ব্যক্তির সমষ্টি হলো দল। ব্যক্তি ভাল হলে দল ভাল হয়।

§  একটি দলে ব্যক্তিগঠনের সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়।

§  আখেরাতে জবাবদিহি করতে হবে ব্যক্তিগত ভাবে।

§  ব্যক্তি বিকৃতি থেকে বাঁচতে পারলে দল বিকৃতি থেকে বাঁচবে।

   সংগঠনে লোক প্রবেশ করাতে দেখতে হবেঃ

§  কাংখিত মানের চরিত্র তৈরী হয়েছে কি না।

§  ফেৎসা সৃষ্টিকারী মহলের কেউ কি না।

§  দৃশ্যত ভালমানুষ সেজে সংগঠনের অনুপ্রবেশকারী কি না।

   চরিত্র গঠনের জন্য যা করণীয়ঃ

. কুরআন হাদীসের জ্ঞান ও সে অনুযায়ী চরিত্র গঠন। সাথে সীরাত ও তাফহীম।

. সার্বক্ষনিক আল্লাহর স্মরণ, ভয় ও আখেরাতের জবাবদিহির অনুভূতি।

. ইবলিস ও নফস শয়তানের বিরোদ্ধে সদাতৎপর ও কাতর কন্ঠে আল্লাহর সাহায্য কামনা।


২২. নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা আন্দোলনের পতন ডেকে আনে।

   নেতা নির্বাচনের সঠিক পন্থাঃ

§  জনশক্তির স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে।

§  সবচেয়ে বেশী নেতৃত্বের গুনাবলী সম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষে গোপনে রায় প্রদান।

§  গোপন ব্যালটে রায় প্রদান।

§  সর্বাধিক রায় প্রাপ্তকে নির্বাচিত ঘোষনা।

§  বিপক্ষে রায় থাকলেও তাকে নেতা হিসাবে মেনে নেয়া।

§  নিজ সমর্থিত ব্যক্তির পক্ষে গোপনে তৎপরতা চালানো বিশ্বাস ঘাতকতা।

   এমন ব্যক্তির আন্দোলনের সাথে থাকার কোন অধিকার নাই।

   এমন ব্যক্তিকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা অপরিহার্য।

   এমন ব্যক্তিরা দলের মধ্যে দল সৃষ্টি করে।

   এমন ব্যক্তিরা দলে ভাঙ্গন ধরায়।

   এমন ব্যক্তি বিশ্বাসঘাতক।

   এই ধরণের মানসিকতা অংকুরে বিনষ্ট করতে না পারলে সংগঠনের পতন অনিবার্য।

 

২৩. সমস্যার ত্বরিত ও সঠিক সমাধান ।

   সমস্যার উদাহরণঃ

§  কারো অন্যায় আচরণের কারণে মতবিরোধ সৃষ্টি ও এর মাধ্যমে দুইটি দলে বিভক্তি।

   এমন অবস্থায় সমাধান করতে হবে দ্রুত।

   সমাধান হবেঃ

§  টীম গঠন ও ঘটনাস্থলে প্রেরণ।

§  উভয় পক্ষের স্বাধীন বক্তব্য শোনা।

§  টীমের দল বা দল প্রদানের আচরণ পুলিশী আচরণের মতো না হওয়া।

§  ধমক দিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে চাপা না দিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন।

§  ইনসাফপূর্ণ সমাধান।

   কোন কোন সময় বিশেষ ব্যক্তিকে নির্দোষ প্রমানের চেষ্টা করা হয়যা ইসলামী দলে উচিত নয়। যেমনঃ পুলিশ কর্মকর্তা বা সরকারী চাকুরে।

   ইনসাফঃ

§  যা প্রতিষ্ঠা করা কুরআনের নির্দেশঃ সূরা আল মায়িদা১৮

§  যা প্রতিষ্ঠার জন্য নবীদের আগমন।

§  যা প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের আবির্ভাব।

   ইনসাফের দাবী হলোঃ নেতা যদি ইসলামের মূলনীতি ভঙ্গ করেন, দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত হোন, তাহলে তাকে ক্ষমা না করা, ধামাচাপা না দেয়া।

   যিনি ন্যায় সংগত সমালোচনা বরদাশত করতে পারেন না, তার দ্বারা ইনসাফ কায়েমের আশা করা যায় না। তাই প্রেয়োজনঃ

§  ধৈর্য।

§  সহনশীলতা।

§  আল্লাহভীরুতা।


২৪. ত্যাগ ও কুরবানী।

   এমন বিপ্লবের নজির ইতিহাসে নাই, সেখানে বিপ্লব হয়েছে ত্যাগ ও কুরবানী ছাড়া।

   ত্যাগ ও কুরবানীর মাধ্যমে তৈরী হয় বিপ্লবের কাংখিত চরিত্র।

   ঈমান আনার পর ঈমানের সত্য মিথ্যা প্রমাণিত হয় পরীক্ষার মাধ্যমে।

   ঈমানের পরীক্ষায় প্রয়োজন হয় জান মালের কুরবানী।

   ইসলামের বিপ্লবী চরিত্র তৈরী হয়ঃ

§  দুনিয়াপ্রীতি পরিত্যাগ।

§  দুনিয়া পরস্তি পরিত্যাগ।

§  ত্যাগ ও কুরবানী স্বতঃস্ফুর্তভাবে করতে পারা ইত্যাদির মাধ্যমে।

   দুনিয়াপ্রীতি যাতে ইসলামী আন্দোলন থেকে সরিয়ে দিতে না পারে, সেজন্য আল্লাহর কাছে চাইতে হবেঃ সূরা আলে ইমরান

   আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য গড়ে উঠা পার্শসংগঠন সমূহের মাধ্যমেঃ

§  বস্তুবাদী মানসিকতা তৈরী হতে পারে।

§  অর্থের লোভে মানুষ দলে যোগদান করে।

§  এসব মানুষের ত্যাগ কুরবানীর মানসিকতা তৈরী হয় না।

§  এসব সংগঠন আন্দোলনের জন্য সহায়ক নয়, ক্ষতিকর।

   আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে অর্থকরী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার প্রস্তাব ইতিমধ্যে রুকুন সম্মেলন প্রত্যাখ্যান করেছে।

   হালাল পন্থায় ব্যবসা করতে হবে, আন্দোলনে শরীক হলে আর্থিক কুরবানী দিতে হবে।

   আন্দোলনের ২/৪জন মিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে পারে। তবেঃ

§  নিয়মিত দাওয়াতী কাজ করতে হবে।

§  জামায়াতের নিয়ম শৃংখলা মানতে হবে।

§  আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করতে হবে।

§  কর্মচারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না।

§  কর্মচারীদের সাধ্যের চেয়ে বেশী কাজ দেয়া যাবে না।

§  কর্মচারীদের সাথে ইনসাফ পূর্ণ আচরণ করা।

   ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচলনায় ব্যর্থতা প্রমাণ করবে যে, দুনিয়ার সামান্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়ই ব্যর্থ। এদের পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।

   মাওলানা মওদূদী বলেছেনঃ দল হবে এমন, যার সদস্যরা দিনদারী ও দুনিয়াদারী উভয় ক্ষেত্রে প্রচলিত পরহেজগার ও সাধারণ দুনিয়াদারদের চেয়ে হবে অধিকতর যোগ্যতা সম্পন্ন ও ক্ষমতা সম্পন্ন।

২৫. বাইতুলমালে আমানতদারীতা ও সততা।

   রাসূলের কথাঃ আমানতদারীর অভাব মানে ঈমানের অভাব।

   আমানত খেয়ানত কে করে? যে দুনিয়ার স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়।

   বাইতুলমাল সম্পাদককে হতে হবে পূর্ণ আমানতদার।

   তহবিল তসরুফকারী সংগঠনে থাকার অধিকার নাই।

   হাদীসঃ চাদর বা কূর্তা চুরি করেছে এমন একজন খায়বারের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করে। নবী সা. বলেন, তাকে আমি জাহান্নামে দেখেছি।

   ইসলামী আন্দোলন করলেও আমানতের খেয়ানত করার কারণে বেহেশতে যাওয়া যাবে না।

 

দাওয়াত ও তাবলীগ এবং তরবিয়তি নিজাম

দাওয়াত ও তাবলীগ

   ইসলামী জামায়াতের প্রথম কাজ মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত প্রদানঃ

§  বুদ্ধিমত্তাসহ হৃদয়গ্রাহী ভাষায়।

§  সকল নবী এই কাজ করেছেন।

   দাওয়াতী কাজে ২টি সুফলঃ

১. দাওয়াতের মাধ্যমে লোক আন্দোলনে যোগ দেয়, ইসলামের পক্ষে জনমত তৈরী হয়।

২. দাওয়াত প্রদানকারী ইসলামের মডেল হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। ইসলাম মেনে চলার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়।

   ইসলামী দলে দাওয়াত বন্ধ হলে সংগঠন প্রাণহীন ও অর্থহীন হয়ে পড়ে।

 

তরবিয়তি নিজাম

   তরবিয়তি নিজাম হলো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।

   তরবিয়তি নিজাম প্রয়োজন দায়ীর মাঝে প্রয়োজনীয় গুণ ও যোগ্যতা অর্জনের জন্য।

   জামায়াতের মধ্যে তা আছে, তা ফলপ্রসু হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।

   মাওলানা মওদূদী রহ. বিভিন্ন সমাবেশে কর্মী ও রুকনদের তারবিয়াত ও তাযকিয়ার জন্য যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা ইসলামী আন্দোলন সাফল্যের শর্তাবলী বইতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাহলোঃ

. কর্মীদের জন্য অতিআবশ্যক ব্যক্তিগত গুনাবলী। যেমনঃ

. ইসলামের সঠিক উপলব্দি।

. ইসলামের উপর পাকাপোক্ত ঈমান।

. কথা ও কাজের মধ্যে পূর্ণ সামঞ্জস্য।

. দ্বীনকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসাবে গ্রহণ।

. কর্মীদের সামাজিক গুনাবলী। যেমনঃ

. ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা।

. পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিকে কাজ করা।

. নিয়মশৃংখলা পুরোপুরি মেনে চলা।

. সংশোধনের নিয়তে সমালোচনা করা।

. পূর্ণতাদানকারী গুণাবলী। যেমনঃ

. আল্লাহর প্রতি গভীর সম্পর্ক ও তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা।

. আখিরাতের জবাবদিহিকে স্মরণ রাখা।

. চরিত্র মাধুর্য।

. ধৈর্য।

. প্রজ্ঞা।

   তারবিয়াত ও তাযকিয়ার জন্য নিম্নোক্ত বই গুলো পড়তে হবেঃ

. তাহরিক আওর কারকুনআন্দোলন সংগঠন কর্মী: সংকলন ও সম্পাদনা: মাওলানা খলিল আহমদ হামীদি।

. তামীরে সীরাত কে লাওয়াযেমচরিত্র গঠনের মৌলিক উপাদান: নঈম সিদ্দিকী।

. তাযকিয়ায়ে নফস

. ইসলাম আপসে কিয়া চাহতা হ্যায়ইসলাম আপনার কাছে কি চায়: সাইয়েদ হামেদ আলী।

. আপনি ইসলাহ আপ।

. ইসলাম এক নিযামি তরবিয়াত।

. তাহরিকে ইসলামী মে।

. বাহামী তায়াল্লুকাত।

 

উপসংহার

   পতনের অন্যতম কারণ হলো

§  নিয়মিত দ্বীনি সাহিত্য পড়াশুনা বন্ধ হওয়া।

§  তাফহীম, সীরাতে সরওয়ারে আলম, রাসায়েল মাসায়েল, মাওলানার অন্যান্য বই না পড়ার পরিণাম

   চিন্তার ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।

   ঐক্যের অভাব ঘটে।

 

   নৈরাশ্য, অবসাদ, ক্লান্তি, আন্দোলন বিমুখতা ও নিষ্ক্রিয়তা আসে।

লেখাটি আপনার ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.