প্রশ্নোত্তরঃ রিয়াদুস সালেহীন-চতূর্থ খন্ড

রিয়াদুস সালেহীন-চতূর্থ খন্ড

০০১. “কিতাবুদ্ দাওয়াত” অর্থ কি?

উত্তরঃ দোয়ার অধ্যায়।

০০২. “তোমাদের রবকে ডাক বিনয়ী হয়ে ও চুপে, কারণ তিনি ভালবাসেন না-কদের?

উত্তরঃ সীমা আতিক্রমকারীদেরকে।

০০৩. “দোয়া হচ্ছে ইবাদত” হাদীসটির রাবী কে?

উত্তরঃ হযরত নুমান ইবনে বাশীর রা.।

০০৪. রাসূল সা. কোন ধরনের দোয়া পছন্দ করতেন?

উত্তরঃ পূর্ণ অর্থবোধক দোয়া।

০০৫. “কারণ বাক্য গুলো তোমার দুনিয়া ও আখেরাতের নিয়ামত একত্র করে দেবে”-কোন বাক্যগুলো?

উত্তরঃ ০০৬. আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত হাদীসে কয়টি বিষয়ে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে?

উত্তরঃ চারটিঃ ক. কঠিন পরীক্ষা খ. চরম দুর্ভাগ্য গ. খারাপ তাকদীর ও ঞ. শত্রুদের আত্মতুষ্টি থেকে।

০০৭. “আমাকে এমন একটি দোয়া শিখান যা আমি নামাজের মাঝে করব” আবু বকর ছিদ্দীক রা. এর চাওয়া এই দোয়াটি কি?

উত্তরঃ الَّلهُمَّ إنِّي ظـَلَـمْـتُ نَـفْـسِـي ظُـلْـمًا كَـثِـيْـرًا وَلاَ يَغْـفِـرُ الذُّ نُوْبَ إلاّ أنْتَ فَاغْــفِــْرلِـيْ مَـغْـفِـرَةً مِنْ عِـنْـدِ كَ وَ اْرحَـمْـنِـيْ إنَّكَ أنْتَ الْـغَـفُـوْرُ الرَّحِـيْـمُ

০০৮. “নিকৃষ্ট শয়নসঙ্গী ও নিকৃষ্ট অভ্যাস” কি?

উত্তরঃ ক্ষুধা ও অনাহার

০০৯. কোন দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ পর্বত সমান ঋণ পরিশোধের ব্যাবস্থা করেন?

উত্তরঃ اللَّـهُـمَّ اكْـفِـنِـيْ بِـحَـلا لِـكَ عَـنْ حَـرَامِـكَ و أغْـنِــنِــيْ بِــفَــضْــلِــكَ عَــمَّــنْ سِــوَاكَ

০১০. ‘মুকাতাব’ দাস কি?

উত্তরঃ এমন কৃতদাস যে তার মালিকের সাথে এমন লিখিত চুক্তি করেছে যে, সে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করলে তাকে আযাদ করে দেয়া হবে।

০১১. ‘হে রাসূলের চাচা! আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন’ -কে কাকে কথাটি বলেছেন?

উত্তরঃ স্বয়ং রাসূল সা.নিজ চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রা. কে।

০১২. দাউদ আ. এর একটি দোয়া কি ছিল?

উত্তরঃ اللَّــهُــمَّ إنِّي أسْـئَــلُـكَ حُـبَّـكَ وَ حُـبَّ مَـنْ يُــحِــبُّــكَ وَ اْلـعَـمَـلَ الَّـذِي يُـبَـلِّـغُـنِـيْ حُـبَّـكَ، اللَّـهُـمَّ اجْـعَــلْ حُــبَّــكَ أحَــبَّ إلَــيَّ مِــنْ نَــفْــسِــيْ وَ أهْــلِــيْ وَ الْــمَــاءِ الْـبَــارِدِ

০১৩. কোন দোয়াটি রাসূল সা. বেশী বেশী করতে বলেছেন?

উত্তরঃ يَــا ذَا الْــجَــلاَلِ وَ الإكْــرَامِ

০১৪. কোন দোয়াটি সকল দোয়াকে শামিল করে?

উত্তরঃ الَّلـهُــمَّ إنِّـيْ أسْـئَـلُـكَ مِنْ خَـيْـرِ مَا سَـأَلَـكَ مِـنْـهُ نَـبِـيُّــكَ مُحَـمَّـدٌ صَلَّـي اللهُ عَـلَـيْـهِ وَ سَـلَّـمَ وَ أعُـوْذُ بِـكَ مِـنْ شَـرِّ مَـا اسْـتَـعَـاذَكَ مِـنْـهُ نَـبِـيُّـكَ مُـحَـمَّـدٌ صَـلَّـي اللهُ عَـلَـيْـهِ وَ سَـلَّـمَ، وَ أنْـتَ الْـمُـسْـتًـعَـانُ وَ عَـلَـيْـكَ الْـبَـلاَغُ وَ لاَ حَـوْلَ وَلاَ قُــوَّةَ إلاّ بِـاللهِ

০১৫. কারো অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে ফিরিশতারা কি বলে?

উত্তরঃ “তোমার জন্যেও অনুরূপ।”

০১৬. কোন দোয়াটিকে উপকারীর পুরোপুরি প্রতিদান বলা হয়েছে?

উত্তরঃ جَـزَاكَ اللهُ خَـيْـرًا দোয়াটিকে।

০১৭. রাসূল সা. কোন ব্যাপারে বদ্দোয়া করতে বিশেষভাবে নিষেধ করেছেন?

উত্তরঃ তিনটি ব্যাপারেঃ ক. নিজেদের জন্যে খ. সন্তানদের জন্যে ও গ. নিজের সম্পদের জন্যে।

০১৮. বান্দা কোন সময়ে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটে থাকে?

উত্তরঃ সিজদার সময়ে।

০১৯. কোন সময়ের দোয়া বেশী কবুল হয়?

উত্তরঃ ক. শেষ রাতের মধ্যকালে। খ. ফরজ নামাজের পরের দোয়া।

০২০. দোয়ার আদব কি?

উত্তরঃ ক. আহার বস্ত্র ও উপার্জনে হারাম বর্জন করে দোয়া করা খ. শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে দোয়া করা গ. পবিত্র অবস্থায় দোয়া করা ঘ. দোয়ার শুরুতে ও শেষে হামদ ও সালাত বলা ঙ) হাত তুলে দোয়া করা চ) বিনয়-নম্রতার সাথে দোয়া করা।

০২১. ‘আর খেজুরের ঐ কান্ডটি নিজের দিকে ধরে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার জন্য পড়বে তরতাজা খোর্মা’-সূরা র্মায়ামে এই কথাটি কাকে বলা হয়েছে?

উত্তরঃ হযরত ঈসা আ. এর মাতা মারইয়াম আ. কে।

০২২. যখনই যাকারিয়া আ. তাঁর কাছে আসতেন তখন তার কাছে খাদ্য দেখতে পেতেন-কার কাছে?

উত্তরঃ হযরত মারইয়াম আ. এর কাছে।

০২৩. কাদের জন্য সূর্য ডান দিক থেকে উপরে উঠে যেত?

উত্তরঃ আসহাবে কাহ্ফ এর জন্য।

০২৪. ‘গুনসার’ শব্দের অর্থ কি?

উত্তরঃ নিরেট মূর্খ।

০২৫. ‘আমার চোখের প্রশান্তি, এতো দেখছি আগের চাইতে তিনগুন হয়ে গেছে’-কথাটি কার?

উত্তরঃ আবু বকর রা. এর স্ত্রী’র।

০২৬. ‘মুহাদ্দাস’ কি? এই উম্মতের মুহাদ্দাস বলে রাসূল সা. কাকে বুঝিয়েছেন?

উত্তরঃ যার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহাম হয়। হযরত উমর রা.।

০২৭. ‘বুড়ো হবার কারণে তার চোখের পাতা চোখের উপর ঝুলে পড়েছিল’-কার? কেন?

উত্তরঃ হযরত সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. এর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দাতা আবু সাদ উসামা ইবনে কাতাদার। হযরত সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. এর বদ্ দোয়ার কারণে।

০২৮. কুফাবাসীগণ হযরত সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. এর ব্যাপারে কি মিথ্যা অভিযোগ করেছিল? বনী আব্স্ মসজিদের অভিযোগকারীর নাম কি?

উত্তরঃ তিনি নামায ভাল করে পড়ান না এই মিথ্যা অভিযোগ। আবু সাদ উসামা ইবনে কাতাদা।

০২৯. জুলুম করে যে এক বিঘত জমিও নেবে তার পরকালীন শাস্তি কি?

উত্তরঃ কিয়ামতে তার গলায় সাত পরত জমির বেড়ী পরিয়ে দেয়া হবে।

০৩০. ওহুদ যুদ্ধের সর্বপ্রথম শহীদ কে?

উত্তরঃ জাবের রা. এর পিতা হযরত আব্দল্লাহ ইবনে আমের রা.।

০৩২. ‘তাদের দু’জনের সামনে চলছিল প্রদ্বীপের মত দু’টি আলো-কাদের সামনে? কখন?

উত্তরঃ সাহাবী হযরত উসাইদ ইবনে হুদাইর রা. ও হযরত আব্বাদ ইবনে বিশ্র রা.এর সামনে। গভীর অন্ধকার রাতে রাসূল সা.এর দরবার হতে ফেরার পথে।

০৩৩. হযরত আসেম ইবনে সাবেত আনসারীর নেতৃত্বে প্রেরিত সামরিক তথ্য সংগ্রহকারী দলের সদস্য সংখ্যা কত ছিল? তাদের পরিণতি কি হয়েছিল?

উত্তরঃ ১০ জন। হাদ্আত নামক স্থানে হুযাইল (বনু লাহইয়ান) গোত্র কতৃক আক্রান্ত হয়ে নির্মম ভাবে তারা সবাই শাহাদাত বরণ করেন।

০৩৪. ‘আল্লাহর কসম! আমি খুবাইবের চেয়ে উত্তম কয়েদী আর দেখিনি।’ অথবা ‘আল্লাহর কসম! একদিন আমি তাকে দেখেছি তিনি শিকলে বাঁধা অবস্থায় আঙ্গুরের ছড়া হাতে নিয়ে ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছিলেন’-কথাটি কে কার সম্পর্কে বলেছে?

উত্তরঃ হারিস ইবনে আমের ইবনে নওফেল এর মেয়ে-বন্দী অবস্থায় মহানুভব আচরণের কারণে হযরত খুবাইব রা. সম্পর্কে সে কথাটি বলেছে।

০৩৫. নিহত হবার পূর্বে নামায পড়ার সুন্নত কে জারি করেন?

উত্তরঃ হযরত খুবাইব রা.।

০৩৬. ‘কারামত’ ও ‘ইসতিদরাজ’ এর মধ্যে পার্থক্য কি?

উত্তরঃ প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম যে ঘটনা আল্লাহর নেক সালেহ বান্দাহদের মাধ্যমে সংঘটিত হয় তা ‘কারামত। ফাসেক, ফাজের ও আল্লাহর বিধানের প্রতি বৈরী ভাবাপন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে এসব হলে তা ‘ইসতিদরাজ’। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফিতনা বা পরীক্ষা বিশেষ।

০৩৭. হযরত আসেম বিন সাবিত রা. শহীদ হবার পর কিভাবে তার লাশ সংরক্ষিত হয়?

উত্তরঃ মেঘ খন্ডের মত আসা মৌমাছির মাধ্যমে।

০৩৮. গীবত করাকে আল্লাহ তায়ালা কিসের সাথে তুলনা করেছেন?

উত্তরঃ মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে ।

০৩৯. যে মুসলমানের হাত ও মুখের অনিষ্ট হতে অন্য মুসলমান নিরাপদ তার সম্পর্কে রাসূল সা.কি বলেছেন?

উত্তরঃ সে সর্র্বোত্তম মুসলমান।

০৪০. কোন দুটি জিনিসের জামিনের শর্তে রাসূল সা. কোন মুমিনের জান্নাতের জামিন হয়েছেন?

উত্তরঃ মুখ (কথা) ও লজ্জাস্থানের।

০৪১. কিসের দ্বারা মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টিতে নিপতিত হয়?

উত্তরঃ ভাল বা মন্দ পরিণতির কথা চিন্তা না করেও আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক কথার মাধ্যমে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আর আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক কথার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে।

০৪২. কোন জিনিসটি মানুষের জন্য তার ভয়ের কারণ?

উত্তরঃ তার জিহ্বা।

০৪৩. কোন জিনিস ব্যক্তির মনকে পাষাণ করে দেয়? এর পরিণতি কি?

উত্তরঃ আল্লাহর যিকির শুন্য কথাবার্তা। পাষাণ হৃদয় ব্যক্তি আল্লাহ থেকে সবচে বেশী দূরে।

০৪৪. হযরত উকবা ইবনে আমের বর্ণিত হাদীসে কোন কাজকে নাজাতের উপায় বলা হয়েছে?

উত্তরঃ ক. জিহবাকে সংযত রাখা খ. ঘরকে প্রশস্থ করা (মেহমানদারী করা) ও গ. নিজ অপরাধের জন্য কান্নাকাটি করা-কে।

০৪৫. যাবতীয় কাজের মূল, কান্ড ও চূড়া কি?

উত্তরঃ যাবতীয় কাজের মূল উৎস হল ইসলাম, এর কান্ড হল নামায এবং চূড়া হল জিহাদ।

০৪৬. গীবত ও বুহতান এর পার্থক্য কি?

উত্তরঃ কোন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে এমন আলোচনা করা গীবত যা ঐ ব্যক্তি অপছন্দ করে এবং বিষয়টি তার মাঝে বিদ্যমান। আর অপছন্দনীয় আলোচ্য বিষয়টি তার মাঝে না থাকলে তাকে বুহতান বলে।

০৪৭. গীবতকারীর পরকালীন শাস্তি কি?

উত্তরঃ তামার নোখর দিয়ে তারা নিজেরা তাদের নিজেদের মুখ ও বুকের মাংস খামচাতে থাকবে।

০৪৯. যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ইজ্জত রক্ষা করল কিয়ামতে আল্লাহ তার মুখকে কি থেকে রক্ষা করবেন?

উত্তরঃ জাহান্নামের আগুন থেকে।

০৫১. কোন ধরনের গীবতে দোষ নেই? তিন প্রকার উল্লেখ করুন।

উত্তরঃ ৬ টি ক্ষেত্রে গীবতে দোষ নাই। যথাঃ ক. জুলুমের বিরুদ্ধে আবেদন পেশ। খ. ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধ করা ও সৎ কাজের মাধ্যমে গুনাহের সুযোগ বন্ধ করার জন্য সাহায্য সহযোগিতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে। গ. কোন বিষয়ে ফতোয়া চাওয়া (জুলুম প্রতিরোধে এক্ষেত্রে নামোল্লেখ করা)। ঘ. খারাপ কাজের পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করা ও উপদেশ দেয়া। ঙ. প্রকাশ্যে ফাসেকী ও বিদয়াতী কাজ করে এমন ব্যক্তির ব্যাপারে। চ. কারো পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়োজনে।

০৫২. ‘রাসূলের সঙ্গীদের জন্য কিছু ব্যয় করনা, যাতে তারা তার সঙ্গ ছেড়ে চলে যায়’-কথাটি কে কখন বলেছেন?

উত্তরঃ মুনাফিকদের সরদার আব্দল্লাহ ইবনে উবাই কোন এক সফরে তার অনুচরদের বলেছিল। এই সফরে মুসলমানগণ খুব কষ্টে পতিত হন।

০৫৩. ‘এখন তারা আর কিছু বুঝে না। তাদের প্রতি তাকালে তাদের অবয়ব তোমার কাছে খুব আকর্ষনীয় মনে হবে। আসলে এরা এমন কাষ্ট খন্ডের মত যা প্রচীরে গেঁথে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি জোরালো আওয়াজকে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। এরা পাকা শত্রু’- এরা কারা? কেন?

উত্তরঃ মুনাফিকরা। (সুরা মুনাফিকুনের এই আয়াতটি মুনাফিক সরদার আব্দল্লাহ ইবনে উবাই ও সকল যুগে তার অনুসারীদের ব্যাপারে অবতীর্ন)।

কারন ক. তারা নিজেদের শপথকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে খ. আল্লাহর পথ থেকে বিরত থাকে গ. মানুষদেরকেও আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে।

০৫৪. অর্থ বলুনঃ مَا يـَـلْــِفــظُ مِـنْ قَـوْلٍ إلاّ لَـدَيْـهِ رَقِـيْـبٌ عَـتِـيْـدٌ

উত্তরঃ যে কথাই সে (মানুখ. বলে তা সংরক্ষনের জন্য তার নিকট সদাপ্রস্তুত একজন ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে।

০৫৫. পুরাতন দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে রাসূল সা.বললেন ‘এদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে, তবে কোন বড় গুনাহের কারনে না’-তাহলে কি কারনে?

উত্তরঃ একজনকে চোগলখুরীর কারনে ও অন্যজনকে পেশাবের সময়ে পর্দা না করার কারনে।

০৫৬. সত্য ও মিথ্যা মানুষকে কোন কোন দিকে ধাবিত করে?

উত্তরঃ সত্য কল্যানের দিকে-কল্যান জান্নাতের দিকে ও মিথ্যা পাপাচারের দিকে-পাপাচার জাহান্নামের দিকে।

০৫৭. যারা জাহেলী যুগে উত্তম ছিল, ইসলামী সমাজে তারা কখন উত্তম হবে?

উত্তরঃ যখন দ্বীন ইসলামের গভীর জ্ঞান অর্জন করবে।

০৫৮. ‘আমরা রাসূল (সা) এ যুগে এটাকে মুনাফেকী মনে করতাম’ -কথাটি কার? কোন বিষয়ে বলেছেন?

উত্তরঃ আব্দল্লাহ ইবনে উমার রা. এর। শাসনকর্তার সামনে একধরনের কথা বলে তার অগোচরে তার বিপরীত কথা বলা সম্পর্কে।

০৫৯. যার মধ্যে চারটি দোষ পাওয়া যাবে সে পাক্কা মুনাফিক, দোষ চারটি কি কি?

উত্তরঃ ক. আমানতের খিয়ানত করা খ. মিথ্যা কথা বলা গ. চুক্তি ভঙ্গ করা ঘ. ঝগড়ায় অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করা।

০৬১. আব্দল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্নিত হাদীসে- ১) মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনাকারী, ২) চুপিসারে কারো একান্ত গোপন কথা শ্রবনকারী  ৩) জীবের প্রতিকৃতি বা ছবি নির্মাতার কি শাস্তির কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ তাদেরকে যথাক্রমেঃ ১) দুটি যবের দানার মাঝে গীট লাগাতে বাধ্য করা হবে, অথচ সে তা করতে পারবে না। ২) কানে তপ্ত সীসা ঢেলে দেয়া হবে। ৩) প্রতিকৃতিতে জীবন দান করতে বাধ্য করা হবে, অথচ সে কখনো তা করতে পারবে না।

০৬২. ‘তাহাল্লামা’ (تحلّــم) শব্দের অর্থ কি?      

উত্তরঃ কোন বিষয়ে স্বপ্ন দেখেছে মর্মে মিথ্যা বর্ণনা করা।

০৬৩. আব্দল্লাহ ইবনে উমার রা. বর্নিত হাদীসে ‘সবচে বড় অপবাদ বলতে কি বুঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ চোখ দেখেনি এমন কোন জিনিস চোখকে দেখানো।(না দেখেও স্বপ্নে দেখেছে মর্মে বলা)।

০৬৪. কোন অপরাধের কারণে কিয়ামতে ব্যক্তির মাথা প্রস্থরাঘাতে চুর্ণ-বিচুর্ণ করা হবে?

উত্তরঃ কুরআন মুখস্থ করে তা বর্জন এবং ফরয নামায না পড়ে ঘুমিয়ে যাবার কারনে। (১৫৪৬)

০৬৫. সামূরা ইবনে যুনদুব রা. বর্ণিত হাদীসে সূদখোরের কি শাস্তির কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ রক্তের নদীর মাঝে সাতার রত অবস্থায় প্রতিনিয়ত তার মুখে প্রস্থরাঘাত করা হবে।(১৫৪৬)

০৬৬. কোন কোন অবস্থায় মিথ্যা বলা জায়েয?

উত্তরঃ ১) যুদ্ধের ক্ষেত্রে ২) বিবাদ মিমাংসার ক্ষেত্রে ৩) স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ৪) মুবাহ বা ওয়াজিব উদ্দেশ্য মিথ্যার আশ্রয় ব্যতীত অর্জিত না হলে সে ক্ষেত্রে। (যেমন কারো জীবন বাঁচানোর জন্য)।

০৬৭. কোন জিনিস কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হবার জন্য যথেষ্ট?

উত্তরঃ কোন কথা শুনে (যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ানো। (১৫৪৭)

০৬৮. ‘সে দু’টি মিথ্যার কাপড় পরিধান করে‘-কে  কেন?

উত্তরঃ যে নিজে যা নয়, সেই হিসেবে প্রকাশ করে। কারণ এদ্বারা সে নিজেকে আলেম, জাহেদ, সম্পদশালী ইত্যাদি বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে মানুষকে ধোকা দেয়।

০৬৯. হযরত আবু বাকরাহ রা. বর্নিত হাদীছে ‘সবচে’ বড় গুনাহ’ বলে কোন কোন গুনাহের কাজ বুঝান হয়েছে?

উত্তরঃ ১) আল্লাহর সাথে শরীক করা, ২) পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়া  ৩) মিথ্যা কথা বলা। (১৫৫০)

০৭০. কোন মুমিনকে অভিশাপ দেয়া ও আত্মহত্যা করার শস্তি কি?

উত্তরঃ কোন মুমিনকে অভিশাপ দেয়া তাকে হত্যার সমতুল্য। আত্মহত্যা কারীকে কিয়ামতে সে যা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তাই দিয়ে শস্তি দেয়া হবে।

০৭১. অভিশাপকারী কিয়ামতে কি হতে পারবে না?

উত্তরঃ অভিশাপকারী কিয়ামতে সাক্ষীও হতে পারবে না এবং শুপারিশকারীও হতে পারবে না।

০৭২. কোন মানুষকে কি কি দ্বারা অভিশাপ করতে নিষেধ করা হয়েছে?

উত্তরঃ আল্লাহর অভিশাপ, ক্রোধ ও দোজখ দ্বারা ।

০৭৩. মুমিন কখনো কি হতে পারে না?

উত্তরঃ ঠাট্টা-বিদ্রুপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীল ভাষী ও অসদাচারী।

০৭৪. আল্লাহ লা’নত করেছেন এমন পাঁচ ধরনের মানুষের নাম উল্লেখ করুন।

উত্তরঃ ১) জালেম ২) যে নারী পরচুলা লাগিয়ে নিজের চুল লম্বা করে ও যারা তা লাগিয়ে দেয় ৩) সূদখোর ৪) জীব-জন্তুর ছবি নির্মানকারী ৫) জমির সীমানা  অবৈধভাবে পরিবর্তনকারী ৬) আপন পিতা-মাতাকে কষ্ট দাতা ৭) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আইনের বিরুদ্ধাচরণকারী ৮) নারী সজ্জায় সজ্জিত পুরুষ ও পুরুষ সজ্জায় সজ্জিত নারী।

০৭৫. ‘তারা ফল লাভের স্থানে পৌঁছে গেছে’-কথটি দ্বারা কাদের বুঝানো হয়েছে? এদের ব্যপারে কি করতে নিষেদ করা হয়েছে?

উত্তরঃ মুত ব্যক্তিদেরকে। তাদেরকে গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

০৭৬. আব্দল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস বর্ণিত হাদীসে প্রকৃত মুসলিম ও প্রকৃত মুহাজির বলতে কি বুঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ যার জিহ্বা ও হাতের অনিষ্ট থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ সে প্রকৃত মুসলিম আর যে আল্লাহর নিষিদ্ধ হারামসমূহ পরিহার করে চলে সে প্রকৃত মুহাজির।

০৭৭. দোজখ থেকে মুক্তি লাভ ও জান্নাতে প্রবেশেচ্ছু ব্যক্তির কি করা উচিত?

উত্তরঃ আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমানদার অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা ও মানুষের সাথে ঠিক তেমন ব্যবহার করা, যেমনটা সে তাদের থেকে আশা করে।

০৭৮. কোন মুসলিম অন্য মুসলিমের সাথে রাগ করে কতদিনের বেশী থাকতে পারবে না?

উত্তরঃ ৩ দিনের বেশী

০৭৯. কখন জান্নাতের দরজা খোলা হয়? তখন কি করা হয়?

উত্তরঃ সোম বার ও বৃহস্পতি বার। তখন আল্লাহর সাথে শরীক করেনি এমন সকল ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয়।

০৮০. হিংসা মানুষের ভাল গুণগুলোকে কিভাবে ধ্বংস করে?

উত্তরঃ যেভাবে আগুন শুকনো কাঠ ও ঘাসকে ভস্ম করে।

০৮১. ‘تنـاجـش’ (তানাজুগ. শব্দের অর্থ কি? এর হুকুম কি?

উত্তরঃ একই জিনিসের ক্ষেত্রে একজনের দামের উপর নকল ক্রেতা সেজে দাম করা বা দালালী করা। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এগুলো হারাম।

০৮২. ‘إيَّــاكُمْ وَ الظنَّ فَــإنَّ الظَّـنَّ أكْــذََبُ الحَــدِيْــث’ হাদীসটির অর্থ কি?

উত্তরঃ সাবধান! ধারনা-অনুমান করা থেকে দূরে থাক। কেননা ধারনা-অনুমান সবচে’ বড় মিথ্যা।

০৮৩. সুরা হুজুরাতের ১১ নং আয়াতে কোন কোন কাজকে ফাসেকী বলা হয়েছে?

উত্তরঃ ১) ইমানদারকে ঠাট্টা করা, ২) নিজেকে গালি দেয়া, ৩) কাউকে খারাপ উপনামে ডাকা।

০৮৪. একজন মুমিনের খারাপ সাব্যস্থ হবার জন্য কোন কাজটি যথেষ্ট?

উত্তরঃ তার কোন মুসলমান ভাইকে অবজ্ঞা করা।

০৮৫. হিংসা কি?

উত্তরঃ মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।

০৮৬. কোন মুসলমানের বিপদে আনন্দিত হবার পরিণাম কি?

উত্তরঃ এতে আল্লাহ বিপদগ্রস্থ ব্যক্তির প্রতি রহম করবেন ও আনন্দিত ব্যক্তিকে ঐ বিপদে ফেলবেন।

০৮৭. কোন দু’টি জিনিস মানুষের জন্য কুফরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়?

উত্তরঃ বংশের খোটা দেয়া ও মৃতের জন্য বিলাপ করা।

০৮৮. কিয়ামতে বিশ্বাস ঘাতকতার জন্য কি করা হবে? সবচে’ বড় বিশ্বাস ঘাতক কে হবে?

উত্তরঃ তার দুই নিতম্ব বরাবর একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে। সবচে’ বড় বিশ্বাস ঘাতক হবে রাষ্ট্রপ্রধান।

০৮৯. কাদের সাথে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতে ঝগড়া করবেন?

উত্তরঃ ১) যে আল্লাহর নামে ওয়াদা করে তা ভংগ করে, ২) যে স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রয় করে, ৩) যে শ্রমিক থেকে পুরোপুরি কাজ আদায় করে কিন্তু তার মুজুরি পরিশোধ করে না।

০৯০. ‘সেদিন (কিয়ামতে) আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না’ কাদের?

উত্তরঃ ১) কাপড় টাকনুর নিচে ঝুলিয়ে পরিধানকারী, ২) উপকার করে খোটা দানকারী ৩) মিথ্যা শপথ করে পণ্যদ্রব্য বিক্রয়কারী ৪) যে ব্যক্তির মালিকানাধীন উম্মুক্ত মাঠে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে কিন্তু সে তা পথিক-মুসাফিরকে ব্যবহার করতে দেয় না ৫) যে ইমামের কাছে শুধু পর্থিব সুযোগ-সবিধা লাভের জন্যে বাইয়াত গ্রহন করে ৬) বৃদ্ধ যেনাকারী (ব্যভিচারী) ৭) মিথ্যাবাদী রাষ্ট্রনায়ক ৮) অহঙ্কারী দরিদ্র। (১৮৫২, ১৮৩৫, ১৫৮৮)

০৯১. কখন বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়?

উত্তরঃ সোমবার ও বৃহস্পতি বার।

০৯২. কোন জিনিস দ্বারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ শাস্তি দিতে পারে না?

উত্তরঃ আগুন দ্বারা।

০৯৩. কাউকে সদকা করে তার নিকট থেকে তা কিনে নেয়া কি?

উত্তরঃ মাকরূহ।

০৯৪. দান করে তা ফেরৎ গ্রহন কারীকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?

উত্তরঃ বমি করে আবার তা গ্রহনকারী কুকুরের সাথে।

০৯৫. ইসলামী আইনে ন্যায় সংগত ভাবে কয় ধরনের মানুষকে হত্যার বিধান দেয়া হয়েছে?

উত্তরঃ পাঁচ ধরনের মানুষকে। ১) ইচ্ছাপূর্বক হত্যাকারী ২)যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুসৈন্য ৩) ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রকারী ৪) বিবাহিত যেনাকারী ৫) মুর্তাদ বা ইসলাম ত্যাগকারী।

০৯৬. হাদীসের পরিভাষায় ‘ক্বারী’ বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ কুরআন ও তাফসীর শাস্ত্রে যার গভীর জ্ঞান আছে।

০৯৭. কিয়ামতে কোন কোন আমেলকে রিয়াযুক্ত আমলের কারনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে?

উত্তরঃ দ্বীনের পথে শহীদ, আলেম ক্বারী ও আল্লাহর পথে দানকারীকে।

০৯৮. প্রদর্শনেচ্ছা ও আত্মশ্র“তির পরিণতি কি?

উত্তরঃ যে মানুষকে দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার দোষ-ত্র“টি মানুষের গোচরীভূত করবেন।

০৯৯. চোখের যিনা বলে কি বুঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ হারাম দৃশ্য দেখা (গায়রে মাহরাম রমণীর প্রতি দৃষ্টিপাত)।

১০০. ‘نَـظْـــرُ الْــفُـجَـــأ ةِ’ কি? এতে কি করণীয়?

উত্তরঃ আকস্মিকভাবে কোন হারাম দৃষ্টি। এতে সাথে সাথে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়া উচিৎ।

১০১. ‘সতর’ কাকে বলে? সতর ঢাকার হুকুম কি?

উত্তরঃ নারী-পুরুষের শরীরের যে অংগসমূহ ঢেকে রাখতে হয় তাকে ‘সতর’ বলে। সতর ঢাকা ফরয।

১০২. ‘বনী ইসরাঈলের নারীরা যখন এরূপ শুরু করল তখনই ইসরাঈলীদের ধ্বংস শুরু হল’-কি শুরু করল?

উত্তরঃ নিজেদের চুল বড় দেখানোর জন্য পরচুলা ব্যাবহার শুরু করল।

১০৩. ‘النَــــامِـصَــــــــةُ ’ ও ‘المُــتَــنَـمِّـصَــــــــةُ’ অর্থ কি? এর  হুকুম কি?

উত্তরঃ النَّــــامِـصَــــــــةُ ’ অর্থ যে নারী অন্যের চোখের পাতা, ভ্রু ইত্যাদিও চুল তুলে সৌন্ধর্য বৃদ্ধির জন্য তা চিকন করে দেয়। আর ‘المــتـنـمـصــــــــة’ হল যে নারী নিজের চোখের পাতা, ভ্রু ইত্যাদিও চুল তুলে সৌন্ধর্য বৃদ্ধির জন্য তা চিকন করিয়ে নেয়। আল্লাহ ও তার রাসূল সা.এসমস্থ নারীদের অভিসম্পাত করেছেন। (১৬৪৫)

১০৪. ‘তোমরা বর্ধক্যকে উপড়ে ফেলনা, কেননা কিয়ামতের দিন তা মুসলমানের জন্য আলোক বর্তিকা হবে’-কোন ব্যাপারে রাসূল সা.কথাটি বলেছেন?

উত্তরঃ পাঁকা চুল ও দাড়ী না তোলার ব্যাপারে।(১৬৪৬)

১০৫. জাবির রা. বর্ণিত হাদীসে শোবার আগে কি কি করতে বলা হয়েছে?

উত্তরঃ ১) পাত্রসমূহ ঢেকে রাখা, ২) মশকের মুখ বেঁধে রাখা, ৩) বাতি নিভিয়ে দেয়া।

১০৬. কোন বিষয়ে জানা না থাকলে কি বলা উচিৎ?

উত্তরঃ اللـــــــــــــه أعـلـــــــــــــــــــم’ (আল্লাহই ভাল জানেন)।

১০৭. মৃতের জন্যে বিলাপ করলে (চিৎকার করে কাঁদা, মুখে বুকে আঘাত করা, কাপড়, চুল ছিড়ে ফেলা) কি হয়?

উত্তরঃ মৃতকে কবরে আজাব দেয়া হয় ।

১০৮. ‘الحَـــــــالِـقَـــــــة’ অর্থ কি?

উত্তরঃ বিপদে বা কারো মৃত্যুতে যে নারী মাথার চুল মুণ্ডন করে ফেলে তাকে الحَـــــــالِـقَـــــــة। (হালেকা) বলে । আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার উপরে অসন্তষ্ট।

১০৯. কোন সাহাবীর মূমূর্ষ অবস্থায় রাসূল সা.কেঁদেছেন? এসময়ে তার সাথে কে ছিলেন?

উত্তরঃ সাহাবী হযরত সা’দ ইবনে উবাদাহ রা. এর মূমূর্ষ অবস্থায়। এসময়ে তাঁর সাথে ছিলেনঃ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রা., হযরত সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. ও হযরত আব্দল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.

১১০. ‘الـفـــــــــا ل’ (ফাল)অর্থ কি?

উত্তরঃ ভাল কথা।

১১১. কোন কোন ক্ষেত্রে কুকুর পোষা অনুমোদিত? এ ছাড়া কুকুর পুষলে কি হয়?

উত্তরঃ ১) শিকার করা, ২) গবাদী পশু রক্ষনাবেক্ষন করা ৩) ক্ষেতের ফসল রক্ষনাবেক্ষন করার ক্ষেত্রে। এ ছাড়া অন্য কোন কারণে কুকুর পুষলে প্রতিদিন তার নেক আমল থেকে ‘দুই ক্বিরাত’ পরিমাণ আমল কমে যায়।

১১২. কুরবানী করতে মনস্থ করেছে এমন ব্যক্তির জন্য কি কি নিষেধ?

উত্তরঃ জিলহজ্জ মাসের চাঁদ উঠার পর হতে কুরবানী করা পর্যন্ত নিজের চুল ও নখ কাটা।

১১৩. আল্লাহ ব্যতীত অন্য যে কোন কিছুর শফত করা কি?

উত্তরঃ কুফরী ও র্শিক। (১৭১১)

১১৪. কোন বিষয়ে শফত করার পরে তার বিপরীত বিষয় উত্তম দেখলে কি করণীয়?

উত্তরঃ পথ ভঙ্গ করে তার কাফ্ফারা আদায় করবে। (১৭১৭)

১১৫. শপথের কাফ্ফারা কি?

উত্তরঃ একজন গোলাম আজাদ করা অথবা ১০ জন মিসকীনকে দুই বেলা আহার করানো বা তাদের কাপড় দেয়া। এর কোন একটির ও সামর্থ না থাকলে একাধারে তিন দিন রোযা রাখা।

১১৬.  কোন ব্যক্তি কল্যানকর কিছু করলে তার জন্য কি করা উচিৎ?   

উত্তরঃ তার প্রতিদান দেয়া উচিৎ। প্রতিদান দেয়ার কিছু না থাকলে তার জন্য ততক্ষণ দোয়া করা উচিৎ, যতক্ষণ মনে এই প্রত্যয় সৃষ্টি না হয় যে, তার প্রতিদান দেয়া হয়েছে।

১১৭. আল্লাহর কাছে সর্বনিকৃষ্ট কোন ব্যক্তি?

উত্তরঃ যে মালিকুল আমলাক বা রাজাধিরাজ (শাহানশাঞ. নাম গ্রহন করে।

১১৮. ‘আমার বান্দারা একাংশ আমার প্রতি ঈমান পোষন করেছে আর একাংশ আমার কুফরী করেছে’-কোন বান্দারা?             

উত্তরঃ যারা বলেছে ‘আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি হয়েছে’ তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করেছে। আর যারা বলেছে ‘অমুক তারকার প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে’ তারা আল্লাহর সাথে কুফরী করেছে ও তারকার প্রতি ঈমান পোষণ করেছে।

১১৯. ‘তার উপরই কুফরী পতিত হল’-কার উপর?

উত্তরঃ কোন মুমিনকে কাফির সম্বোধনকারীর উপর।

১২০. অর্থ বলুন-  ‘مَـــا كَانَ الْـفَحْــــشُ فِيْ شَئ إلاّ شَــــــانَهُ وَ مَـــا كَانَ الْحَـيَــــــاءُ فِي شَئ إلاّ زَانَــــــهَ

উত্তরঃ যার মধ্যে অশ্লীলতা থাকে তা তাকে খারাপ করে ছাড়ে। আর কোন কিছুর মাঝে লজ্জশীলতা থাকলে তা তাকে সৌন্ধর্যমণ্ডিত করে।

১২১. আল্লাহর কাছে কোন ভংগিতে দোয়া করতে নিষধ করা হয়েছে?

উত্তরঃ ‘হে আল্লাহ ! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা কর’ এভাবে দোয়া করতে নিষধ করা হয়েছে, কারন আল্লাহর উপর কোন জোর বা প্রভাব খাটে না।

১২২. ‘অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে‘-কাদের?

উত্তরঃ নামাজের মধ্যে যারা আকাশের দিকে তাকায়। (১৭৫৪)

১২৩. ‘এটা শয়তানের একটা ছোবল’-কোনটা?

উত্তরঃ নামাজের মধ্যে এদিক-ওদিক তাকানো। এর মাধ্যমে শয়তান ছোবল মেরে বান্দার নাজের কিছু অংশ অপহরন করে।

১২৪. অর্থ বলুন-‘لا تُـصَـــلُّـوْا إلَي الْـقُــبُـوْرِ و لاَ تَـجْــلِــسُــوْا عَـلَـيْــهَـــــا

উত্তরঃ তোমরা কবরের দিকে ফিরে নামায পড়ো না আর তার উপর বসোনা।

১২৫. কখন সুন্নত ও নফল নামায পড়া যাবে না?

উত্তরঃ ফরজ নামাজের ইকামাত হওয়ার পরে।

১২৬. শুধুমাত্র জুমুয়ার রাতে নামায পড়া ও জুমুয়ার দিনে রোজা রাখার হুকুম কি?

উত্তরঃ মাকরুহ।

১২৭. কবরের ব্যাপারে রাসূল সা.কি বলেছেন?

উত্তরঃ কবর পাকা করতে, কবরের উপর বসতে ও কবরের উপর কোন রকম নির্মান কাজ করতে নিষেধ করেছেন। অপর হাদীসে-কোন লোক জলন্ত আঙ্গারের উপর বসে তার কাপড় পুড়ে চামড়াও পুড়ে যাওয়া কবরের উপর বসার চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে।

১২৮. যেনার শাস্তি কি?

উত্তরঃ বিবাহিত হলে পাথর মেরে হত্যা করা ও অবিবাহিত হলে একশত বেত্রাঘাত।

১২৯. দু’টি অভিশাপ আনায়নকারী বিষয় কি?

উত্তরঃ লোক চলাচলের রাস্থায় অথবা গাছের ছায়ায় পেশাব-পায়খানা করা।

১৩০. নারীদের জন্যে শোক পালনের সর্বোচ্চ সময় কতদিন?

উত্তরঃ স্বামী মারা গেলে চার মাস দশ দিন এবং অন্য কোন আত্মীয় হলে তিন দিন।

১৩১. ‘سِــمْــسَــــارٌ’ (সিমসার) অর্থ কি?

উত্তরঃ দালাল। যে ব্যক্তি কোন দ্রব্য ক্রয়ের জন্যে নয়; বরং ক্রেতাকে ধোকা দেয়ার জন্য বেশী দাম করে।

১৩২. আল্লাহর পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় তিনটি কাজ কি কি?

উত্তরঃ পছন্দনীয়ঃ শিরকমুক্ত ইবাদত, সংঘবদ্ধ হয়ে আল্লাহর দ্বীনকে আঁকড়ে থাকা (ইসলামী সংগঠন), দায়িত্বশীলের শুভাকাঙ্খা। অপছন্দনীয়ঃ সমালোচনা বা কানাঘুষা করা, অধিক সওয়াল করা বা যাঞ্চা করা, ধন-সম্পদ নষ্ট করা।

১৩৩. কারো সামনে তার প্রশংসা করতে হলে কি বলা উচিৎ

উত্তরঃ সরাসরি প্রশংসা না করে ‘আমি তাকে এরূপ মনে করি’ বলা। অন্যথায় তার মাঝে অহঙ্কার সৃষ্টি হতে পারে।

১৩৪. ‘যখনই শয়তান তোমাকে কোন রাস্থা দিয়ে যেতে দেখে, তখনই সে তোমার রাস্থা ত্যাগ করে অন্য রাস্থা ধরে‘-এ কথা রাসূল সা.কাকে বলেছেন?

উত্তরঃ হযরত উমার ইবনে খাত্তাব রা. কে।

১৩৫. ‘আমি আশা করি তুমি তাদের একজন হবে যাদেরকে বেহেশতে প্রতিটি দরজা দিয়ে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রন জানান হবে’-এ কথা রাসূল সা.কাকে বলেছেন?

উত্তরঃ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (আব্দল্লাহ ইবনে উসমান) রা.।

১৩৬. বাবেল শহরে যে দু’জন ফেরেশতার মাধ্যমে লোকেরা যাদুর শিক্ষা গ্রহন করত তাদের নাম কি? এদের যাদুর ক্ষতিকর দিকগুলো কি কি?

উত্তরঃ হারুত ও মারুত। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা।

১৩৭. কোন সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় হতে রাসূল সা.দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন?

উত্তরঃ ১) শিরক ২) যাদু ৩) অন্যায় হত্যা ৪) সূদ ৫) ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা ৬) যুদ্ধের ময়দান হতে পালায়ন করা ৭) সহজ-সরল পূত-চরিত্রা রমণীর উপর যেনার অপবাদ দেয়া।

১৩৮. শত্রুদেশে কি সহ সফর করতে নিষেধ করা হয়েছে?

উত্তরঃ কুরআন মজীদ সহ।

১৩৯. পুরুষদের কি রঙ এর পোষাক পরতে নিষেধ করা হয়েছে?

উত্তরঃ হলুদ রঙ এর।

১৪০. এতীমের বয়স সীমা কতটুকু?

উত্তরঃ বালেগ হওয়া পর্যন্ত।

১৪১. নিজের পিতার পরিচয়ে অনিহা প্রকাশ করা কি? নিজের পিতা ব্যতীত অন্য কাউকে পিতা পরিচয় দিলে কি তার কি শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে?

উত্তরঃ হারাম। তার জন্য জান্নাত হারাম।

১৪২. ‘غـيـرة’ অর্থ কি? আল্লাহর ‘غـيـرة’ কি?

উত্তরঃ সুক্ষ্ণ আত্মমর্যাদাবোধ। আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ হচ্ছে-তিনি যা কিছু হারাম করেছেন কোন মানুষ তাতে লিপ্ত হওয়া। অর্থাৎ বান্দাহ কোন হারাম কাজে লিপ্ত হলে এতে আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লাগে।

১৪৩. কোন ব্যক্তি অন্য কাউকে কোন হারাম কাজের দিকে আহবান করলে তার কি করা উচিৎ?

উত্তরঃ কিছু ছদকা করা উচিৎ।

১৪৪. সূরা আলে ইমরানের ১৩৫ ও ১৩৬ নং আয়াতে মুমিনের কি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে?

উত্তরঃ মুমিন কোন গুনাহ করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কথা স্মরণ করে ও তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। তারা বুঝে শুনে বারবার গুনাহের কাজ করে না।

১৪৫. হযরত ঈসা মসীহ আ. কোথায় কিভাবে আসবেন? তার বৈশিষ্ট্য কি হবে?

উত্তরঃ দামেশকের পূর্ব অংশে সাদা মিনারের উপরে হালকা জাফরানী (হলুদ) রং এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় দু’জন ফেরেশতার পাখায় ভর দিয়ে নেমে আসবেন।

বৈশিষ্ট্য ঃ- ১) যখন তিনি মাথা নত করবেন তখন মনে হবে যেন তাঁর মাথা থেকে মুক্তো দানার মত পানির বিন্দু টপকাচ্ছে। যখন তিনি মাথা উঠাবেন তখনও তার মাথা থেকে মুক্তো দানার মত ঝরছে মনে হবে। ২) যে কাফেরের গায়ে তার নিঃশাস লাগবে সে মারা যাবে। ৩) তার দৃষ্টি যত দূর যাবে তার নিঃশাস ও ততদূর যাবে। ৪) বর্তমান ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিব থেকে ছয় মাইল দূরে ‘লুদ্দ’ নামক স্থানে দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং এর পরবর্তী সাত বছর এমন ভাবে কাটাবে যে দু’জন মানুষের মাঝে ও কোন রকম শত্রুতা থাকবে না।

১৪৬. দাজ্জালের গঠন-প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।

উত্তরঃ ছোট কোঁকড়া চুল ও আঙ্গুরের মত ফোলা চোখ যার এক চোখ কানা হবে। তার কপালে লেখা থাকবে ‘كـفــر’ (অর্থাৎ কাফের)।

বৈশিষ্ট্যঃ ১) ডানে বায়ে হত্যা, ধ্বংস ও ফিতনা-ফাসাদ ছড়াবে, ২) বাতাস তাড়িত মেঘের মত গতি সম্পন্ন হবে, ৩) তার প্রতি ইমান পোষন কারীদের জন্যে তার নির্দেশে আসমান বৃষ্টি বর্ষণ ও জমিন উদ্ভিদ উৎপন্ন করবে, তাদের গৃহপালিত জন্তুগুলো সন্ধ্যায় সুউচ্চ কুঁজ, দুধাল লম্বা বাঁট, স্ফীত দেহ নিয়ে ঘরে ফিরবে, ৪) তাকে অস্বীকারকারীরা অচিরাৎ অজন্মা ও দুর্ভিক্ষে পতিত হবে, ৫) একটি বিদ্ধস্থ এলাকা অতিক্রম কালে সে জমিনকে বলবে-‘তোমার খনিজ সম্পদরাজি বের করে দাও’ অমনি ধন-সম্পদ মৌমাছির মত তার অনুসরন করবে, ৬) তাকে অস্বীকারকারী এক যুবককে দ্বিখন্ডিত করে আবার তাকে জীবিত করবে।

১৪৭. দজ্জাল কোথায় আসবে এবং কতদিন পৃথিবীতে অবস্থান করবে?

উত্তরঃ সিরিয়া ও ইরাকের সংযোগ রক্ষাকারী একটি সড়কে আত্মপ্রকাশ করবে। পৃথিবীতে ৪০দিন অবস্থান করবে, যার একদিন হবে এক বছরের সমান, একদিন হবে এক মাসের সমান, একদিন হবে এক সপ্তাহের সমান এবং বাকি দিনগুলো স্বাভাবিক দিনের মতই হবে।

১৪৮. ‘এতে বরকত, কল্যান ও প্রাচুর্য দেখা দিবে’- কখন? কি বরকত?

উত্তরঃ ইয়াজুজ-মা’জুজ এর সম্প্রদায় ও দাজ্জালের ধ্বংসের পরে। তখন একটি ডালিম খেয়ে পূর্ণ একটি দল পরিতৃপ্ত হবে এবং তার খোসার মধ্যে তারা বিশ্রাম নিতে পারবে। একটি উটের দুধ একটি বড় দলের, একটি গাভীর দুধ একটি গোত্রের ও একটি বকরীর দুধ একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে।

১৪৯. কিভাবে মুমিনদের দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেয়া হবে? কাদের উপর কিয়ামত সংঘটিত হবে?

উত্তরঃ সিরিয়ার দিক হতে প্রবাহিত একটি পবিত্র বাতাস এর মাধ্যমে সকল ইমানদার ও সৎকাজের আগ্রহ সম্বলিত সকল মুমিন-মুসলমানের জান কবজ করে নেয়া হবে। এমন সব দুস্কৃতিকারী লোকদের উপর কিয়ামত সংঘটিত হবে যারা যৌনতা ও কুকর্মের ক্ষেত্রে পখির মত (অবাধ) হবে। আর জুলুম অত্যাচারের বেলায় তারা হবে হিংস্র জন্তুর মত।

১৫০. ইয়াজুজ-মা’জুজ কোথা থেকে আসবে? তারা কিভাবে ধ্বংস হবে?

উত্তরঃ ইয়াজুজ-মা’জুজ ঈসা মসীহ আ. এর আগমনের পরে তিনি তুর পাহাড়ে যাওয়ার পরে প্রতিটি উচ্চভূমি হতে তারা দ্রুতবেগে বেরিয়ে আসবে। এদের অগ্রবর্তী দলটি তাবারিয়া হ্রদ অতিক্রমকালে হ্রদের সমুদয় পানি খেয়ে ফেলবে। ঈসা আ. এর দোয়ার পর আল্লাহ তাদের প্রত্যেকের ঘাড়ে একপ্রকার কীট সৃষ্টি করবেন, ফলে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।

১৫১. প্রথম ও দ্বিতীয় শিংগায় ফুৎকারের সময়ের দৃশ্য কেমন হবে?

উত্তরঃ এসময় যে-ই আওয়াজ শুনবে সে-ই ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাবে। প্রথম আওয়াজ শ্রবনকারী ব্যক্তি তার উটের চৌবাচ্চা পরিষ্কার রত অবস্থায় বেহুঁশ হয়ে পড়বে এবং তার আশে-পাশের লোকজনও বেহুঁশ হয়ে পড়বে। এরপর বৃষ্টি বর্ষন করলে তাদ্বারা মানুষের শরীর পূনগঠিত হবে। দ্বিতীয় ফুৎকারের পরে সমস্থ মানুষ উঠে দাড়ালে তাদের আমলের হিসেবের জন্যে আল্লাহর দরবারে হাজির হবার নির্দেশ দেয়া হবে।

১৫২. দ্বিতীয় ফুৎকারের পর জাহান্নামীদের কি হারে বের করে নেয়া হবে?

উত্তরঃ ৯৯০০১. ৯% (প্রতি হাজারে নয় শত নিরানব্বই জনকে.। (১৮১০)

১৫৩. দাজ্জাল হতে কিভাবে মক্কা-মদীনা সংরক্ষিত হবে?

উত্তরঃ এর প্রবেশ পথে ফেরেশতারা পাহারা দিবে। দাজ্জাল ‘সাবখাহ’ নামক স্থানে এলে মদীনায় তিনবার ভুমিকম্প হবে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ কাফের-মুনাফিক দের মদীনা হতে বের করে দিবেন।(১৮১১)

১৫৪. কতজন ইয়াহুদী কিভাবে কোথায় দাজ্জালের সাথে যোগ দেবে?

উত্তরঃ ইসফাহানের সত্তর হাজার ইয়াহুদী সবুজ বর্ণের চাদর পরিহিত অবস্থায় দাজ্জালের সাথে যোগ দিবে।

১৫৫. সবচে’ উন্নত স্থরের শহীদের মর্যাদা কে লাভ করবেন?

উত্তরঃ দ্বিখন্ডিত করে হত্যা করে আবার জীবিত করার পরেও দাজ্জালকে অস্বীকার কারী এক যুবক, যাকে দাজ্জাল তার আগুনে নিক্ষেপ করে হত্যা করবে।

১৫৬. ‘غـرقـد’ (গরকদ) কি? তা কোথায় দেখা যায়?

উত্তরঃ ইয়াহুদীদের একটি গাছ। দুনিয়ার সকল ইয়াহুদীকে যখন মুসলমানগন হত্যা করবে; এমনকি কোন গাছ বা পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইয়াহুদীকেও সেই গাছ বা পাথর ধরিয়ে দিবে। কিন্তু এই ‘গরকদ’ গাছ এর ব্যতিক্রম। এটা কোন ইয়াহুদী লুকিয়ে থাকার কথা বলবে না। এটি বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকায় দেখা যায়।

১৫৭. কিয়ামতের পূর্বেকার কতিপয় নাজুক পরিস্থিতি উল্লেখ করুন।

উত্তরঃ ১) বালা-মছিবতে অতীষ্ট হয়ে মানুষ কবরের পাশ দিয়ে যাতায়াত কালে বলবে ‘হায়! এই কবর বাসীর পরিবর্তে যদি আমি কবরে থাকতাম, তবে কতইনা ভাল হত!’ ২) ফুরাত নদীতে উত্থিত সোনার পাহাড়ের দখলদারিত্ব সংক্রান্ত যুদ্ধে হাজারে ৯৯৯ জন মারা যাবে। ৩) পুরুষের সংখ্যাল্পতা ও নারীর সংখ্যাধিক্য দেখা দিবে। মদীনা শহর হিংস্র জন্তুতে ভরা থাকবে।

১৫৮. ‘যখন আমানত নষ্ট করা হবে তখন কিয়ামতেন অপেক্ষা করবে’-কোন আমানত? কিভাবে তা নষ্ট হবে?

উত্তরঃ ইমারতের আমানত। অনুপযুক্ত লোকের হাতে ইমারতে দায়িত্ব অর্পণ করার মাধ্যমে ।

১৫৯. কোন মহান দায়িত্ব পালনের কাননে উম্মতে মুহাম্মাদীকে সর্বোত্তম উম্মত বলা হয়েছে?

উত্তরঃ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাঁধ সাধার কারনে।

১৬০. আল্লাহর নিকট সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্ব নিকৃষ্ট স্থান কি কি?

উত্তরঃ মসজিদ ও বাজার।

১৬১. পূর্ববর্তী নবীদের কোন উপদেশ মানুষের কাছে পৌঁছেছে?

উত্তরঃ ‘তোমার লজ্জা না থাকলে যাচ্ছেতাই করতে পার’ (অর্থাৎ যাচ্ছে তাই কেবল লজ্জাহীন লোকেরাই করতে পারে) এই উপদেশটি। (১৮৪৪)

১৬১. কিয়ামতে সর্বপ্রথম মানুষের কোন অপরাধের বিচার হবে?

উত্তরঃ অন্যায় রক্তপাতের (হত্যার)।

১৬২. রাসূল সা.এর চরিত্র কেমন ছিল?

উত্তরঃ কুরআনের বাস্থব নমুনা বা বাস্থব কুরআন।

১৬৩. আল্লাহ কার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন ও কার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন?

উত্তরঃ মুমিন ব্যক্তিকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হলে সে আল্লাহর সাক্ষাতকে পছন্দ করে এবং আল্লাহ ও তার সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করেন। আর কাফেরকে আল্লাহর আজাবের সুসংবাদ (?) দেয়া হলে সে আল্লাহর সাক্ষাতকে খুবই অপছন্দ করে আর আল্লাহর তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।

১৬৪. ‘সুতরাং কিভাবে তার দোয়া কবূল করা হবে’-কার দোয়া?

উত্তরঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ‘ইয়া রাব্বী ইয়া রাব্বী’ (হে আমার রব, হে আমার রব) বলে দোয়া করতে থাকে অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও বস্ত্র কোনটিই হালাল উপার্জনের নয়। এমন ব্যক্তির দোয়া কবুল করা হবে না।

১৬৫. বেহেশতী চারটি নদীর নাম কি?

উত্তরঃ সাইহান (سـيـحــــان) বা সিহুন, জাইহান (  (جـيـحــــــانবা জিহুন, ফোরাত (الـفـرات) বা ইউফ্রেটিগ., নীল (الــيــل)। (১৮৫৩)

১৬৬. আল্লাহ কি বারে কি সৃষ্টি করেছেন?

উত্তরঃ আল্লাহ শনিবারে মাটি, রবিবারে পাহাড়-পর্বত, সোমবারে গাছপালা, মঙ্গলবারে খারাপ জিনিস সমুহ, বুধবারে নূর (আলো), বৃহস্পতিবারে জীব-জন্তু ও শুক্রবারে আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে আদম আ. কে সৃষ্টি করেছেন।

১৬৭. সাইফুল্লাহ কার উপাধী? কখন তিনি এ উপাধী লাভ করেন?

উত্তরঃ হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা. এর উপাধী। মুতার যুদ্ধে। (এ যুদ্ধে পর পর তিন জন সেনাপতি যায়েদ বিন হারেস, জাফর তাইয়ার ও আব্দল্লাহ শহীদ হবার পরে খালিদ রা. সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ যুদ্ধে একে একে তার ৯ খানি তরবারী ভেঙ্গে যায় এবং তার হাতেই যুদ্ধের মোড় পরিবর্তন হয় এবং আল্লাহ মুসলমানদের বিজয় দান করেন। তার এই অসীম বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে রাসূল সা.তাকে ‘সাইফুল্লাহ’ উপাধীতে ভুষিত করেন।) (১৮৫৫)

১৬৮. কত বছর পর রাসূল সা.ওহুদের শহীদদের কবর যিয়ারত করেন?

উত্তরঃ ৮ বছর পর।

১৬৯. কোন মানত পূর্ণ করা যাবে না?

উত্তরঃ আল্লাহর নাফরমানী করার মানত করলে তা।

১৭০. রাসূল সা.কোন প্রাণী হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন? মারলে কত ছওয়াবের কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ গিরগিটি (রক্তচোষা)। ১০০ ছরয়াব।

১৭১. কিয়ামতের মাঠের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিন?

উত্তরঃ ১) আল্লাহ পুর্ববর্তী পরবর্তী সকল মানুষকে এক সমতল ময়দানে উপস্থিত করবেন। ২) দর্শক সবকিছূ এক দৃষ্টিতে দেখতে পাবে এবং একব্যক্তি তার ডাক সকলকে শুনাতে পারবে। ৩) সূর্য মানুষের খুব কাছে থাকায় মানুষ অসহ্য হয়ে অবস্থা উত্তরনের জন্য পর্যায়ক্রমে হযরত আদমআ. হযরত নূহ আ. হযরত ইবরাহীম আ. হযরত মূসা আ. হযরত ঈসা আ. এর কাছে গেলে তারা কেউ শুপারিশে সম্মত হবেন না। হযরত মুহাম্মাদ সা.আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে শুপারিশ করবেন ও তা তা গৃহিত হবে। তাকে বলা হবে ‘হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মতের যেসব লোকের হিসাব নেয়া হবে না, তাদেরকে বেহেশতের ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। তিনি তাই করবেন।

১৭২. বেহেশতের দরজার পাল্লার দূরত্ব কত হবে?

উত্তরঃ মক্কা ও হাজারা মাওতের  বা মক্কা ও বসরার দূরত্বের সমান।

১৭৩. যমযম কূপটি কিভাবে তৈরি হয়েছে?

উত্তরঃ ফেরেশতার (জিবরাঈল আঃ) পায়ের গুড়ালীর আঘাতে। (১৮৬৭)

১৭৪. ইবরাহীম আ. তার শিশু পুত্র স্ত্রীকে একাকী কোথায় রেখেছিলেন? কেন?

উত্তরঃ লতা-পাতাহীন মরুময় মক্কায় বাইতুল্লাহিল মুহাররম (কাবা ঘর) এর পাশে। আল্লাহর নির্দেশে তিনি তা করেন।

১৭৫. কোন স্থানে আসার পূর্বে ইবরাহীম আ. নিজের একমাত্র শিশুপুত্র ইসমাঈল ও তার মাকে একাকী রেখে আসার পর তাদের দিকে আর ফিরে তাকান নি?

উত্তরঃ সানিয়াহ নামক স্থানে।

১৭৬. ইবরাহীম আ. এর দেয়া খাদ্য ও পানীয় ফুরিয়ে গেলে মা হাজেরা কি করলেন?

উত্তরঃ কারো সহযোগিতা পাওয়া যায় কিনা এজন্য সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাত বার দৌড়ালেন।

১৭৭. ইসমাঈল ও মা হাজেরার পর সর্বপ্রথম কোন গোত্র কাবার পথে আসে? তারা কি ভাবে পানির সন্ধান পায়?

উত্তরঃ জুরহুম গোত্র ‘কাদা নামক স্থানের পথ ধরে আসে। তারা কাবা বরাবর চক্রাকারে একঝাঁক পাখি উড়তে দেখে এখানে পানির সন্ধান পায়।

১৭৮. কখন মা হাজেরার ইন্তেকাল হয়?

উত্তরঃ ইসমাঈল যৌবনে পদার্পণ ও বিবাহ করার পর।

১৭৯. ইবরাহীম আ. এর কথা الـعـتـبــــة বা চৌকাঠ বলে কি বুঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ ইসমাঈলের স্ত্রী।

১৮০. ইবরাহীম আ. যে পাথরে দাড়িয়ে কাবা ঘরের নির্মাান কাজ সম্পন্ন করেন তার নাম কি?

উত্তরঃ মাকামে ইবরাহীম।

১৮১. ব্যাঙের ছাতা (মাশরুম) কোন শ্রেনীর খাদ্য?

উত্তরঃ ‘মান’ (الــمـــنّ)শ্রেনীর ।

১৮২. কোন ধরনের লোক আল্লাহর সন্তোষ লাভে ধন্য হবে?

উত্তরঃ যারা তাওবার নীতি অবলম্বন করে। এসব লোক ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, বিনয়ী, অনুগত, দাতা ও রাতের শেষ ভাগে ক্ষমা প্রার্থনাকারী। (আলে ইমরান ১৭)

১৮৩. কে সাংঘাতিক অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নেয়?

উত্তরঃ যে ব্যক্তি কোন অন্যায় বা পাপ করে কোন নির্দোষ লোকের উপর তার দোষ চাপায়। (আন নিসা ১১২)

১৮৪. কোনটি আল্লাহর নীতি নয়?

উত্তরঃ কোন ব্যক্তি ক্ষমা চাইতে থাকবে আর আল্লাহ তাকে শাস্তি দিবেন-এটা আল্লাহর নীতি নয়। (আল আনফাল ৩৩)

১৮৫. কোন কাজে অন্তরের পর্দা দূর করে?

উত্তরঃ তওবা। (১৮৬৯)

১৮৬. সদা ইসতিগফারকারীকে আল্লাহ কি বিশেষ দানে ধন্য করেন?

উত্তরঃ তাকে প্রতিটি সংকীর্ণতা অথবা কষ্টকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা হতে তাকে মুক্ত করেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস হতে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (১৮৭৩)

১৮৭. কোন দোয়া করলে কবীরা গুনাহসমূহ ও মাফ করে দেয়া হয়?

উত্তরঃ أسْـتَـغْـفِـرُاللهَ الـذِي لاَ إلـهَ إلاَّ هُـوَ الـحَـيُّ الـقَـيُّـومُ وَ أتُـوبُ إلـيْـهِ  (১৮৭৪)

১৮৮. সায়্যিদুল ইসতিগফার কি? এর ফজিলত কি?

উত্তরঃ أللـهُــــــــمَّ أنـتَ رَبِّـيْ لاَ ألـهَ إلاَّ أنـتَ خَـلَـقْـتَـنِـيْ وَ أنَــا عَـبْـدُكَ، و أنَـا عَلي عَـهْـدِك وَ وَعْـدِكَ مَــا اسْـتَـطَـعْـتُ، أعُـوذُبِـكَ مِـنْ شَـرِّ مَــا صَـنَـعْـتُ، أبُـوءُ لَـكَ بِـنِـعْـمَـتِـكَ عَـلَيَّ و أبُـوْءُ لَـكََ بِـذَنْـبِـي، فَـاغْفِـرْلِـي فَــإنَّــهُ لاَ يَـغْـفِـرُ الـذُنُــوبَ إلاَّ أنْتَ                                           

যে ব্যক্তি ইয়াকীন সহ দিনের বেলা এই দোয়া পড়বে, সন্ধ্যা হবার পূর্বে সে মারা গেলে সে       জান্নাতী। অনুরূপভাবে রাতেও। (১৮৭৫)

১৮৯. রাসূল সা.মৃত্যুর পূর্বে কোন দোয়া অধিক পরিমানে পড়তেন?

উত্তরঃ ألـلـهـــمَّ سُـبْـحَــانَ اللهِ وَ بِـحَـمْـدِه أسْـتَـغْـفِـرُ اللهَ وَ أتُـوْبُ إلَـيـهِ

১৯০. আনাস রা. বর্ণিত হাদীসে কুদসীতে বান্দাকে কোন গুনাহ ক্ষমার ওয়াদা করা হয়েছে? কোন শর্তে

উত্তরঃ আল্লাহর সাথে শিরক না করার শর্তে তাঁর প্রতি ক্ষমার প্রত্যাশা নিয়ে দোয়া করতে থাকার শর্তে আসমান সমান ও পৃথিবী সমান গুনাহ করলেও আল্লাহ তা মাফ করার কথা বলেছেন। (১৮৭৮)

১৯১. কি কারণে অধিকাংশ মহিলা জাহান্নামী হবেএজন্য তাদের করতে বলা হয়েছে?

উত্তরঃ অধিক পরিমানে অভিশাপ করা ও স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হবার কারনে। এজন্য তাদেরকে অধিক পরিমানে ছদকা করা ও ইসতিগফার করতে বলা হয়েছে।

১৯২.  ‘তারা যেন প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে চেষ্টা করে‘-কারা?

উত্তরঃ যারা নিয়ামতে পরিপূর্ন জান্নাতে যেতে চায়।

১৯৩. জান্নাতীরা কি জান্নাতে গিয়ে আল্লাহর তাসবীহ তাহলীল ভুলে যাবে?

উত্তরঃ অবশ্যই না। বরং তারা তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতই তাসবীহ-তাকবীরে অভ্যস্থ হয়ে যাবে। (১৮৮০)

১৯৪. জান্নাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়’ালা কি বলেছেন?

উত্তরঃ আল্লাহ বলেন-‘আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমনসব জিনিস তৈরী করে রেখেছি, যা কোন চোখ কখনও দেখেনি, কোন কান তার বর্ণনা কখনও শুনেনিকোন মানুষের অন্তর তা কখনও কল্পনাও করতে পারেনি।’ (১৮৮১, আস্ সাজদা ১৭)

১৯৫. সবচে’ কম মর্যাদার জান্নাতীকে কি দেয়া হবে?

উত্তরঃ দুনিয়ার ১০ গুন জান্নাত।

১৯৬. জান্নাতের একটি গাছের ছায়ার দৈর্ঘ কত হবে?

উত্তরঃ দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ে এক ব্যক্তি ১০০ বছরে যত দূর যেতে পারে তার সমান।

১৯৭. জান্নাতে কবে বাজার বসবে এবং তাতে গিয়ে জান্নাতীদের কি হবে?

উত্তরঃ শুক্রবার। একটি প্রবাহিত বাতাসে তাদের চেহারা আরো সুন্দর হবে।

১৯৮. জান্নাতবাসীদের জন্য কি ঘোষনা দেয়া হবে?

উত্তরঃ ৪ টি। ১) তারা কখনও মরবে না, ২) চিরকাল সুস্থ থাকবে, ৩) কখনও বৃদ্ধ হবে না, ৪) কখনও কষ্ট পাবে না।

১৯৯. জান্নাত বাসীদের জন্য সর্বোত্তম প্রপ্তি কি?

উত্তরঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রপ্তি। এরপর আর তিনি তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন না।

২০০. জান্নাত বাসীদের কাছে সর্বাধিক প্রিয় কি হবে?

উত্তরঃ আল্লাহর দর্শন লাভ।

২০১. কোন তারিখে ‘রিয়াদুস সালেহীন রচনা সমাপ্ত হয়?

 

উত্তরঃ ৬৭০ হিঃ ৪ ঠা রমাদ্বানে।

লেখাটি আপনার ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.