দারসুল কুরআনঃ সূরা আলে ইমরানঃ ১০-২০

দারসুল কুরআনঃ সূরা আলে ইমরানঃ ১০-২০

দারসুল কুরআনঃ সূরা আলে ইমরানঃ ১০-২০

বিশেষ জ্ঞাতব্যঃ কুরআনের আয়াত সমূহ মূল কুরআন থেকে পড়তে হবে। কারণ সফটওয়ার জনিত সমস্যা ও টাইপের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য ভূল হতে পারে।

তেলাওয়াত ও অনুবাদঃ

১০) যারা কুফরী নীতি অবলম্বন করেছে, তাদের না ধন –সম্পদ, না সন্তান –সন্ততি আল্লাহর মোকাবিলায় কোন কাজে লাগবে ৷ তারা দোজখের ইন্ধনে পরিণত হবেই৷ 

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَن تُغْنِيَ عَنْهُمْ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُم مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمْ وَقُودُ النَّارِ

১১) তাদের পরিণম ঠিক তেমনি হবে যেমন ফেরাউনের সাথী ও তার আগের নাফরমানদের হয়ে গেছেঃ তারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে, ফলে আল্লাহ তাদের গোনাহের জন্য তাদেরকে পাকড়াও করেছেন ৷ আর যথার্থই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদানকারী৷ 

كَدَأْبِ آلِ فِرْعَوْنَ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ ۗ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ

১২) কাজেই হে মুহাম্মাদ ! যারা তোমরা দাওয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকার করলো, তাদের বলে দাও, সেই সময় নিকটবর্তী যখন হবে, তোমরা পরাজিত হবে এবং তোমাদের জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, আর জাহান্নাম বড়ই খারাপ আবাস ৷ 

قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ ۚ وَبِئْسَ الْمِهَادُ

১৩) তোমাদের জন্য সেই দুটি দলের মধ্যে একটি শিক্ষার নিদর্শন ছিল যারা (বদরে) পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল৷ একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল এবং অন্য দলটি ছিল কাফের ৷ চোখের দেখায় লোকেরা দেখছিল, কাফেররা মু’মিনদের দ্বিগুণ৷ কিন্তু ফলাফল (প্রমাণ করলো যে) আল্লাহ তাঁর বিজয় ও সাহায্য দিয়ে যাকে ইচ্ছা সহায়তা দান করেছেন ৷ অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য এর মধ্যে বড়ই শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে৷

قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا ۖ فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَىٰ كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ ۚ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُولِي الْأَبْصَارِ

১৪) মানুষের জন্য নারী, সন্তান, সোনারুপার স্তূপ, সেরা ঘোড়া, গবাদী পশু ও কৃষি ক্ষেতের প্রতি আসক্তিকে বড়ই সুসজ্জিত ও সুশোভিত করা হয়েছে৷ কিন্তু এগুলো দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের সামগ্রী মাত্র৷ প্রকৃতপক্ষে উত্তম আবাস তো রয়েছে আল্লাহর কাছে৷ 

زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ۗ ذَٰلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الْمَآبِ

১৫) বলো, আমি কি তোমাদের জানিয়ে দেবো, ওগুলোর চাইতে ভালো জিনিস কি? যারা তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করে তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে বাগান, তার নিম্নদেশে ঝরণাধারা প্রবাহিত হয়৷ সেখানে তারা চিরন্তন জীবন লাভ করবে৷ পবিত্র স্ত্রীরা হবে তাদের সংগিনী এবং তারা লাভ করবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ৷ আল্লাহ তার বান্দাদের কর্মনীতির ওপর গভীর ও প্রখর দৃষ্টি রাখেন ৷ 

قُلْ أَؤُنَبِّئُكُم بِخَيْرٍ مِّن ذَٰلِكُمْ ۚ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

১৬) এ লোকেরাই বলেঃ ‘‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের গোনাহখাতা মাফ করে দাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদের বাচাঁও ৷ এরা সবরকারী,

الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

১৭) সত্যনিষ্ঠ, অনুগত ও দানশীল এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহর কাছে গোনাহ মাফের জন্য দোয়া করে থাকে৷’’ 

الصَّابِرِينَ وَالصَّادِقِينَ وَالْقَانِتِينَ وَالْمُنفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ

১৮) আল্লাহ নিজেই সাক্ষ দিয়েছেন , তিনি ছাড়া আর কোন ইলাই নেই৷ আর ফেরেশতা ও সকল জ্ঞানবান লোকই সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে এ সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, সেই প্রবল পরাক্রান্ত ও জ্ঞানবান সত্তা ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই৷ 

شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

১৯) ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র দীন –জীবনবিধান৷ যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল, তারা এ দীন থেকে সরে গিয়ে যেসব বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, সেগুলো অবলম্বনের এ ছাড়া আর কোন কারণই ছিল না যে, প্রকৃত জ্ঞান এসে যাওয়ার পর তারা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের ওপর বাড়াবাড়ি করার জন্য এমনটি করেছে৷ আর যে কেউ আল্লাহর হেদায়াতের আনুগত্য করতে অস্বীকার করে, তার কাছ থেকে হিসেব নিতে আল্লাহর মোটেই দেরী হয় না৷ 

إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ۗ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ

২০) এখন যদি এ লোকেরা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের বলে দাওঃ ‘‘ আমি ও আমার অনুগতরা আল্লাহর সামনে আনুগত্যের শির নত করেছি৷’’ তারপর আহলি কিতাব ও অ-আহলি কিতাব উভয়কে জিজ্ঞেস করো, ‘‘তোমরাও কি তাঁর বন্দেগী কবুল করেছো?’’ যদি করে থাকে তাহলে ন্যায় ও সত্যের পথ লাভ করেছে আর যদি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে থাকে, তাহলে তোমার ওপর কেবলমাত্র পয়গাম পৌছিয়ে দেবার দায়িত্বই অর্পিত হয়েছিল৷ পরবর্তী পর্যায়ে আল্লাহ নিজেই তার বান্দাদের অবস্থা দেখবেন৷ 

فَإِنْ حَاجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ لِلَّهِ وَمَنِ اتَّبَعَنِ ۗ وَقُل لِّلَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْأُمِّيِّينَ أَأَسْلَمْتُمْ ۚ فَإِنْ أَسْلَمُوا فَقَدِ اهْتَدَوا ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ ۗ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

ব্যাখ্যাঃ

 

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَن تُغْنِيَ عَنْهُمْ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُم مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمْ وَقُودُ النَّارِ

১০) যারা কুফরীর পথে চলেছে নীতি অবলম্বন করেছে, তাদের না ধন –সম্পদ, না সন্তান –সন্ততি আল্লাহর মোকাবিলায় কোন কাজে লাগবে ৷ তারা দোজখের ইন্ধনে পরিণত হবেই৷ 

 

  • সূরা বাকারার ১৬১ নম্বর আয়াত

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَٰئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাওলানা মওদূদী রাহ. كَفَرُوا শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেনঃ

  • কুফরের আসল মানেঃ গোপন করা, লোকানো। আর এর থেকে অস্বীকার করা অর্থ বের করা হয়েছে।
  • কুফুর শব্দটা বলা হয় ঈমানের বিপরীতে।
  • ঈমান অর্থ মেনে নেয়া, কবুল করা, স্বীকার করা।
  • কুফর শব্দটা এর বিপরীতে। যার অর্থ না মানা, প্রত্যাখ্যান করা, অস্বীকার করা।
  • কুরআনে হাকীমের বর্ণনা অনুযায়ী কুফরীর মনোভাব ও আচরণ বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। যেমনঃ

১. আল্লাহকে একেবারেই না মানা। অথবা আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা স্বীকার না করা এবং আল্লাহকে নিজের ও সমগ্র বিশ্ব জাহানের মালিক ও মাবুদ না মানা।

২. আল্লাহকে মানা। কিন্তু তাঁর বিধান ও হেদায়াতকে জ্ঞান ও আইনের একমাত্র উৎস বলে মেনে নিতে অস্বীকার করা।

৩. আল্লাহর বিধান অনুযায়ী চলতে হবে-নীতিগত ভাবে একথা মেনে নেয়া। কিন্তু আল্লাহর বিধান যে নবী ও রাসূলের মাধ্যমে এসেছে, সেই নবী ও রাসূলদেরকে অস্বীকার করা।

৪. নবীদেরকে মানার ক্ষেত্রে পার্থক্য করা। নিজেদের পছন্দ, মানসিক প্রবণতা অথবা গোত্রীয় ও দলীয়প্রীতির কারণে নবীদের কাউকে মানা, কাউকে না মানা।

৫. নবী রাসূলগন আল্লাহর তরফ থেকে যে আকীদা-বিশ্বাস, নৈতিক চরিত্র ও জীবন যাপনের বিধান সম্বলিত যে সব শিক্ষা প্রদান করেছেন, সে গুলোর কোন কোনটি গ্রহণ করা, কোন কোনটি গ্রহণ না করা।

৬. নবী রাসূলদের আনীত বিধানকে মতবাদ হিসাবে গ্রহণ করার পরও আমলী ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানের নাফরমানী করা ও নাফরমানীর উপর জোর দিতে থাকা। দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর বিধানের আনুগত্যের পরিবর্তে নাফরমানীর উপর নিজের কর্মনীতির ভিত্তি স্থাপন করা।

  • কুরআনে হাকীমে এই ৬ ধরণের সকল চিন্তা ও কাজকে কুফরী হিসাবে উল্লেখ করে তাকে বিদ্রোহাত্মক কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও কুরআনে কুফর শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে আল্লাহর দান, অনুগ্রহ ও নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া অর্থে।

 

كَدَأْبِ آلِ فِرْعَوْنَ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ ۗ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ

১১) তাদের পরিণম ঠিক তেমনি হবে যেমন ফেরাউনের সাথী ও তার আগের নাফরমানদের হয়ে গেছেঃ তারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে, ফলে আল্লাহ তাদের গোনাহের জন্য তাদেরকে পাকড়াও করেছেন ৷ আর যথার্থই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদানকারী৷ 

قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ ۚ وَبِئْسَ الْمِهَادُ

১২) কাজেই হে মুহাম্মাদ ! যারা তোমরা দাওয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকার করলো, তাদের বলে দাও, সেই সময় নিকটবর্তী যখন হবে, তোমরা পরাজিত হবে এবং তোমাদের জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, আর জাহান্নাম বড়ই খারাপ আবাস ৷ 

 

  • কুরআনের বক্তব্য হচ্ছেঃ তোমরা পরাজিত হবে। তথা কাফেররা পরাজিত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কাফেরদের আমরা পরাজিত বা পরাভূত দেখি না কেন? উত্তর হচ্ছেঃ এখানে সারা জগতের কাফেরদের বুঝানো হয়নি। বরং তখনকার সময়ের মুশরিক ও ইহুদীদের বুঝানো হয়েছে। আর সে অনুযায়ী সেই সময়ে মুশরিকদের হত্যা ও বন্দি করা মাধ্যমে এবং ইহুদীদের হত্যা, বন্দি, জিজিয়া কর আরোপ এবং নির্বাসনের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছিল। (মাআরিফুল কুরআন)

 

قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا ۖ فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَىٰ كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ ۚ وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُولِي الْأَبْصَارِ

১৩) তোমাদের জন্য সেই দুটি দলের মধ্যে একটি শিক্ষার নিদর্শন ছিল যারা (বদরে) পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল৷ একটি দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল এবং অন্য দলটি ছিল কাফের ৷ চোখের দেখায় লোকেরা দেখছিল, কাফেররা মু’মিনদের দ্বিগুণ৷ কিন্তু ফলাফল (প্রমাণ করলো যে) আল্লাহ তাঁর বিজয় ও সাহায্য দিয়ে যাকে ইচ্ছা সহায়তা দান করেছেন ৷ অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য এর মধ্যে বড়ই শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে৷১০

 

 يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ 

চোখের দেখায় লোকেরা দেখছিল, কাফেররা মুমিনদের দ্বিগুণ৷

  • সূরা আনফালের ৪৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ

وَإِذْ يُرِيكُمُوهُمْ إِذِ الْتَقَيْتُمْ فِي أَعْيُنِكُمْ قَلِيلًا وَيُقَلِّلُكُمْ فِي أَعْيُنِهِمْ لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا ۗ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ

আর স্মরণ করো, যখন সমানাসমানি যুদ্ধের সময় আল্লাহ তোমাদের দৃষ্টিতে শত্রুদের সামান্য সংখ্যক দেখিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টিতেও তোমাদের কম করে দেখিয়েছেন , যাতে যে বিষয়টি অনিবার্য ছিল তাকে আল্লাহ প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত সমস্ত আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়৷  

  • যদিও আসল পার্থক্য ছিল তিনগুণ৷ কিন্তু সরাসরি এক নজরে দেখে যে কেউ মনে করতে পারতো, কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা মুসলমানদের দ্বিগুন হবে৷

 وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاءُ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُولِي الْأَبْصَارِ

কিন্তু ফলাফল (প্রমাণ করলো যে) আল্লাহ তাঁর বিজয় ও সাহায্য দিয়ে যাকে ইচ্ছা সহায়তা দান করেছেন ৷ অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য এর মধ্যে বড়ই শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে৷

  • আয়াতটি নাযিল হয় বদর যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে, যখন বদর যুদ্ধের চিত্র মানুষের মনে ছিল তরতাজা। যুদ্ধের সময়ের ঘটনাবলী ও ফলাফলের দিকে দৃষ্টি দিয়ে ৩টি শিক্ষণীয় বিষয় উল্লেখ করা হয়েছেঃ

১. বিবাদমান দূ’টি দলের নানাবিধ পার্থক্য। যেমনঃ

ক. একদল ছিল মুসলমান, আরেকদল ছিল কাফের।

খ. দুইটি দলের নৈতিক ও চারিত্রিক পার্থক্য ছিল সুস্পষ্ট।

গ. কাফেরদের দলে ছিল গায়িকা ও নর্তকীদের উম্মত্ত নাচের সাথে মদপানের হিড়িক।

ঘ. মুসলমান শিবিরে ছিল আল্লাহভীতি ও আল্লাহর আনুগত্যের স্নিগ্ধ পরিবেশ। ছিল নৈতিক সংযম। সৈনিকরা ছিল নামাযে মাশগুল। পদে পদে ছিল আল্লাহর যিকির। ছিল আল্লাহর দয়া ও করূণা ভিক্ষার মহড়া।

ঙ. দুটি দলের দিকে দৃষ্টি দিলে খোলা চোঁখেই বুঝা যেতো যে, কোন দলটি আল্লাহর পথে লড়াই করছে।

২. মুসলমানদের ছিল কম সৈন্য সংখ্যা ও সমরাস্ত্র। অপর দিকে কাফেররা ছিল সংখ্যায় অধিক ও উন্নত সমারাস্ত্রে সজ্জিত। এই অবস্থায় মুসলমানদের বিজয় আল্লাহর সাহায্যের ফসল-তা সুস্পষ্ট ছিল।

৩. কাফেরদের জন্য এটা ছিল এক প্রকারের চাবুকাঘাত। তারা নিজেদের সাজ-সরঞ্জাম ও সংখ্যাধিক্যের কারণে ছিল আত্মম্ভরিতায় বিভোর। আল্লাহ দেখিয়ে দিলেন যে, মুষ্ঠিমেয় বিত্তহীন, অভাবী, প্রবাসী মুহাজির আর মদীনার কৃষকদের দিয়ে কিভাবে কুরাইশদের মতো অভিজাত শক্তিশালী ও আরব সমাজের মধ্যমণি গোত্রকে পরাজিত করতে পারেন।

  • উল্লেখ্য যে, বদর যুদ্ধে কাফিরদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ১ হাজার, ৭শ উট, ১শ ঘোড়া। আর মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ৩১৩জন, ৭০টি উট, ২টি ঘোড়া, ৬টি লৌহবর্ম, ৮টি তরবারী।
  • বদর যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে সব সময় মনে হয়েছিল যে, কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা দ্বিগুণ। বিধায় তাদের ভীতি সঞ্চার হয়নি।
  • বদর যুদ্ধে মুসলমানদের আস্তা আর ভরসা ছিল কুরআনের সেই আয়াতঃ

 إِن يَكُن مِّنكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ  

তোমাদের মধ্যে বিশজন সবরকারী থাকলে তার দুশ জনের ওপর বিজয়ী হবে৷

 

زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ۗ ذَٰلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الْمَآبِ

১৪) মানুষের জন্য নারী, সন্তান, সোনারুপার স্তূপ, সেরা ঘোড়া, গবাদী পশু ও কৃষি ক্ষেতের প্রতি আসক্তিকে বড়ই সুসজ্জিত ও সুশোভিত করা হয়েছে৷ কিন্তু এগুলো দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের সামগ্রী মাত্র৷ প্রকৃতপক্ষে উত্তম আবাস তো রয়েছে আল্লাহর কাছে৷ 

 

  • বায়হাকী শরীফের একটি হাদীস হচ্ছেঃ حب الدنيا رأس كل خطيئة দুনিয়ার মহব্বত সকল অনিষ্টের মূল। সাইয়েদ আলবানী হাদীসটাকে যয়ীফ বলেছেন। কিন্তু তার মূল কথা উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করে। নারী, সন্তান, সোনারূপা, ঘোড়া, গবাদীপশু ও কৃষিক্ষেত এ গুলোর প্রতি মানুষের আকর্ষণ বিদ্যমান। কুরআন বলতেছেঃ ذَٰلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا এগুলো দুনিযার ক্ষণস্থায়ী জীবনের সামগ্রী। অর্থাৎ মানুষ যেন এই গুলোর কারণে পরকাল ভূলে না যায়।
  • সূরা তাওবায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছেঃ

قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ

  • সূরা কাহফে এ বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছেঃ

إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا

  • সূরা তাওবাতে বিষয়টার সুন্দর সমাধান দেয়া হয়েছেঃ

فَلَا تُعْجِبْكَ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُمْ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُم بِهَا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَتَزْهَقَ أَنفُسُهُمْ وَهُمْ كَافِرُونَ

 

قُلْ أَؤُنَبِّئُكُم بِخَيْرٍ مِّن ذَٰلِكُمْ ۚ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

১৫) বলো, আমি কি তোমাদের জানিয়ে দেবো, ওগুলোর চাইতে ভালো জিনিস কি? যারা তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করে তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে বাগান, তার নিম্নদেশে ঝরণাধারা প্রবাহিত হয়৷ সেখানে তারা চিরন্তন জীবন লাভ করবে৷ পবিত্র স্ত্রীরা হবে তাদের সংগিনী১১ এবং তারা লাভ করবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ৷ আল্লাহ তার বান্দাদের কর্মনীতির ওপর গভীর ও প্রখর দৃষ্টি রাখেন ৷১২ 

 

 وَأَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ 

পবিত্র স্ত্রীরা হবে তাদের সংগিনী

  • সূরা বাকারার ২৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছেঃ

 وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ 

তাদের জন্য সেখানে থাকবে পাক-পবিত্র স্ত্রীগণ 

  • আরবী বাক্য ব্যবহার করা হয়েছেঃ أَزْوَاجٌ যা বহুবচন। এক বচন হচ্ছেঃ زَوَجٌ অর্থ হলোঃ জোড়া।
  • زَوَجٌ শব্দটি আরবীতে স্বামী ও স্ত্রী উভয় অর্থে ব্যবহার করা হয়। স্বামীর জন্য স্ত্রী হচ্ছেঃ زَوَجٌ আর স্ত্রীর জন্য স্বামী হচ্ছেঃ زَوَجٌ
  • আখেরাতে أَزْوَاجٌ হবে তথা যে সংগিনীকে প্রদান করা হবে তার গুণ হচ্ছে مُّطَهَّرَةٌ তথা পবিত্রতার গুণাবলী সহকারে।
  • দুনিয়াতে যদি সংগিনী সৎকর্মশীলা না হয়, তাহলে আখেরাতে সে সৎকর্মশীল পুরুষের সংগী হবেনা। বরং অন্য কোন সৎকর্মশীলা স্ত্রী দান করা হবে।
  • স্বামী-স্ত্রী দূ’জনই সৎকর্মশীলা হলে আখেরাতে তাদের সম্পর্ক চিরন্তন ও চিরস্থায়ী হবে।

 وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

আল্লাহ তার বান্দাদের কর্মনীতির ওপর গভীর ও প্রখর দৃষ্টি রাখেন ৷

  • এর অর্থ হচ্ছেঃ
  • আল্লাহ অপাত্রে দান করেন না।
  • উপরি উপরি বা ভাসাভাসা সিদ্ধান্ত গ্রহণ আল্লাহর নীতি নয়।
  • আল্লাহ বান্দার কাজ, সংকল্প, ইচ্ছা সব কিছু পুরোপুরি ও ভালভাবে জানেন।

ইত্যাদি কারণে তিনি জানেন যে, কে পুরস্কার লাভের হকদার আর কে নন।

 

الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

১৬) এ লোকেরাই বলেঃ ‘‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের গোনাহখাতা মাফ করে দাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদের বাচাঁও ৷

الصَّابِرِينَ وَالصَّادِقِينَ وَالْقَانِتِينَ وَالْمُنفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ

১৭) এরা সবরকারী,১৩ সত্যনিষ্ঠ, অনুগত ও দানশীল এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহর কাছে গোনাহ মাফের জন্য দোয়া করে থাকে৷’’ 

 

الصَّابِرِينَ 

এরা সবরকারী

  • সবরকারী মানেঃ
  • সত্য পথে পূর্ণ অবিচলতার সাথে কায়েম থাকে।
  • ক্ষতি বা বিপদের মুখে সাহস ও হিম্মতহারা হয়না।
  • ব্যর্থতা মনে চিড় ধরায় না।
  • লোভ লালসায় পদস্খলন হয়না।
  • বিজয়ের কোন আঁভা না দেখেও মজবুত ভাবে হককে আঁকড়ে ধরে।
  • সূরা বাকারায় বলা হয়েছেঃ وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ  মাওলানা মওদূদী রাহ. এর ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ
    • যদি সৎকর্মশীল হিসাবে জীবন যাপন কঠিন মনে হয়, তাহলে সবর আর নামাযের আশ্রয় নিতে হবে। এতে করে কাঠিন্য দূর হবে এবং এর মাধ্যমে শক্তি সঞ্চিত হবে। যে শক্তির মাধ্যমে কঠিন পথ পাড়ি দেয়া সহজ হয়ে যাবে।
    • সবর-এ শাব্দিক অর্থ হলোঃ বাধা দেয়া, বিরত রাখা, বেঁধে রাখা।
    • সবরের পারিভাষিক অর্থ হচ্ছেঃ মজবুত ইচ্ছা, অবিচল সংকল্প, প্রবৃত্তির আশা-আকাংখাকে এমন ভাবে শৃংখলাবদ্ধ করা, যার ফলে ব্যক্তি প্রবৃত্তির তাড়না ও বাইরের সমস্যাবলীর মোকাবেলায় নিজের হৃদয় ও বিবেকের পছন্দনীয় পথে অনবরত এগিয়ে যেতে থাকে।

 

شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

১৮) আল্লাহ নিজেই সাক্ষ দিয়েছেন , তিনি ছাড়া আর কোন ইলাই নেই৷১৪ আর ফেরেশতা ও সকল জ্ঞানবান লোকই সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে এ সাক্ষ্য দিচ্ছে১৫ যে, সেই প্রবল পরাক্রান্ত ও জ্ঞানবান সত্তা ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই৷ 

 

شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ 

আল্লাহ নিজেই সাক্ষ দিয়েছেন , তিনি ছাড়া আর কোন ইলাই নেই৷

  • আল্লাহর সাক্ষ্যের গুরুত্ব এখানে এজন্য যে, তিনি-
    • বিশ্ব জাহানের সমস্ত তত্ব, সত্য ও রহস্যের প্রত্যক্ষ জ্ঞান রাখেন।
    • তিনি সমস্ত সৃষ্টিকে আবরণহীন অবস্থায় দেখেছেন।
    • তার দৃষ্টি থেকে আকাশ ও পৃথিবীর কোন একটি বস্তুও গোপন নাই।
    • বিধায় তার সাক্ষ্যের চেয়ে নির্ভযোগ্য চাক্ষুষ সাক্ষ্য আর কেউ দিতে পারবেনা।
    • বিধায়,
      • তিনি ছাড়া আর কোন সত্তা খোদায়ী গুণে ‍গুণান্বিত নয়।
      • তিনি ছাড়া কোন সত্তা খোদায় কর্তৃত্বের অধিকারী নয়।
      • তিনি ছাড়া আর কারো খোদায়ী করার যোগ্যতাও নাই।

 وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ  

আর ফেরেশতা ও সকল জ্ঞানবান লোকই সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে এ সাক্ষ্য দিচ্ছে

  • বিশ্বরাজ্যের ব্যবস্থাপনায় নির্বাহী ও কর্মচারী হলো ফেরেশতারা। বিধায় তাদের সাক্ষ্য হচ্ছে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য।
  • ফেরেশতাদের পরে আল্লাহর সাম্রাজ্য সম্পর্কে সামান্য কিছু জ্ঞান যারা রাখে, তারা শুরু থেকে অদ্যাবধি একই সাক্ষ্য প্রদান করে।
  • আয়াতের শানে নুযুলঃ

قال الكلبي : لما ظهر رسول الله – صلى الله عليه وسلم – بالمدينة ، قدم عليه حبران من أحبار أهل الشام ، فلما أبصرا المدينة ، قال أحدهما لصاحبه : ما أشبه هذه المدينة بصفة مدينة النبي الذي يخرج في آخر الزمان ، فلما دخلا على النبي – صلى الله عليه وسلم – عرفاه بالصفة والنعت ، فقالا له : أنت محمد ؟ قال : نعم ، قالا : وأنت أحمد ، قال : نعم ، قالا : إنا نسألك عن شهادة ، فإن أنت أخبرتنا بها آمنا بك وصدقناك . فقال لهما رسول الله – صلى الله عليه وسلم – : سلاني ، فقالا : أخبرنا عن أعظم شهادة في كتاب الله . فأنزل الله تعالى على نبيه : ( شهد الله أنه لا إله إلا هو والملائكة وأولو العلم ) فأسلم الرجلان وصدقا رسول الله – صلى الله عليه وسلم – .

 

إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ۗ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ

১৯) ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র দীন –জীবনবিধান৷১৬ যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল, তারা এ দীন থেকে সরে গিয়ে যেসব বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, সেগুলো অবলম্বনের এ ছাড়া আর কোন কারণই ছিল না যে, প্রকৃত জ্ঞান এসে যাওয়ার পর তারা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের ওপর বাড়াবাড়ি করার জন্য এমনটি করেছে৷১৭ আর যে কেউ আল্লাহর হেদায়াতের আনুগত্য করতে অস্বীকার করে, তার কাছ থেকে হিসেব নিতে আল্লাহর মোটেই দেরী হয় না৷ 

 

إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

ইসলাম আল্লাহর নিকট একমাত্র দীন –জীবনবিধান৷

  • ইসলাম হলো নিম্নোক্ত চিন্তা ও কর্মপদ্ধতির নামঃ
  • মানুষ আল্লাহকে নিজের মালিক ও মাবুদ বলে স্বীকার করে নেবে।
  • তাঁর ইবাদাত, বন্দেগী ও দাসত্বের মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সোপর্দ করে দেবে৷
  • তাঁর বন্দেগী করার পদ্ধতি নিজের আবিষ্কার করবে না৷ বরং তিনি নিজের নবী-রসূলগণের মাধ্যমে যে হিদায়ত ও বিধান পাঠিয়েছেন কোন প্রকার কমবেশী না করে তার অনুসরণ করবে৷
  • মানুষ ও বিশ্বজাহানের স্রষ্টা সৃষ্টিকূল ও প্রজাদের জন্য যে কর্মপদ্ধতিকে একমাত্র জীবন ব্যবস্থা, সঠিক ও নির্ভূল জীবন বিধান হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তার নাম ইসলাম।
  • মানুষ তার নির্বুদ্ধিতার জন্য নাস্তিক্যবাদ থেকে শিরক ও মূর্তিপূজা অবধি যে কোন মতবাদ বা পদ্ধতিকে গ্রহণ করা আল্লাহর দৃষ্টিতে বিদ্রোহ।

 بَغْيًا بَيْنَهُمْ 

তারা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের ওপর বাড়াবাড়ি করার জন্য এমনটি করেছে৷

  • নবী রাসূলদের মাধ্যমে আল্লাহ যে সময় যা পাঠিয়েছিলেন, তারই নাম ইসলাম।
  • নবী রাসূলদের প্রতি যে কিতাব নাযিল করা হয়েছিল, তা-ই ইসলামের শিক্ষা।

মানুষের বাড়াবাড়ির বিষয় হচ্ছে, তারা আসল দ্বীনকে বিকৃত করে তার মাঝে পরিবর্তন পরিবর্ধন করে তারা আসল দ্বীনের আকীদা-বিশ্বাস, মূলনীতি ও বিস্তারিত বিধান পরিবর্তন করেছে।

 

فَإِنْ حَاجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ لِلَّهِ وَمَنِ اتَّبَعَنِ ۗ وَقُل لِّلَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْأُمِّيِّينَ أَأَسْلَمْتُمْ ۚ فَإِنْ أَسْلَمُوا فَقَدِ اهْتَدَوا ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ ۗ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

২০) এখন যদি এ লোকেরা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের বলে দাওঃ ‘‘ আমি ও আমার অনুগতরা আল্লাহর সামনে আনুগত্যের শির নত করেছি৷’’ তারপর আহলি কিতাব ও অ-আহলি কিতাব উভয়কে জিজ্ঞেস করো, ‘‘তোমরাও কি তাঁর বন্দেগী কবুল করেছো?’’১৮ যদি করে থাকে তাহলে ন্যায় ও সত্যের পথ লাভ করেছে আর যদি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে থাকে, তাহলে তোমার ওপর কেবলমাত্র পয়গাম পৌছিয়ে দেবার দায়িত্বই অর্পিত হয়েছিল৷ পরবর্তী পর্যায়ে আল্লাহ নিজেই তার বান্দাদের অবস্থা দেখবেন৷ 

 

লেখাটি আপনার ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
আমার লিখা দারসুল কুরআন লেখালেখি