তেলাওয়াত ও তরজমা

১০. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, আমি কি তোমাদের এমন একটি (লাভজনক) ব্যবসার সন্ধান দেবো, যা তোমাদের (মহা বিচারের দিন) কঠোর আযাব থেকে বাচিয়ে দিবে।

১১. (হ্যাঁ সে ব্যবসাটি হচ্ছে ) তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনবে এবং আল্লাহর (দ্বীন প্রতিষ্ঠার) পথে জিহাদ করবে। এটাই হচ্ছে তোমাদের জন্য মঙ্গল যদি তোমরা (কথাটা) বুঝতে পারতে।

১২. (যথার্থ ঈমান আসলে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের গুনাহ সমূহ মাফ করে দেবেন এবং শেষ বিচারের দিন তোমাদের তিনি প্রবেশ করাবেন-এমন এক (সুরম্য) জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, (সর্বোপরি) তিনি তোমাদের আরো প্রবেশ করাবেন জান্নাতের স্থায়ী নিবাস স্থলে সুন্দর ঘর সমূহে, আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সাফল্য।

১৩. আরও একটি (বড় ধরনের) অনুগ্রহ যা তোমাদের একান্ত কাম্য (এবং তা হচ্ছে) আল্লাহর সাহায্য ও (ময়দানের) আসন্ন বিজয়। (যাও তোমরা মুমিন বান্দাদের) এ সুসংবাদ গুলো দাও।

নামকরণ

  • সূরার নামঃ সূরা আস্ সাফ। সূরার ৪নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ

﴿إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُم بُنْيَانٌ مَّرْصُوصٌ﴾

  • এখানকার ঐ ‘সাফ’ শব্দকে নাম হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
  • সাফ মানে সারি বা কাতার।
  • আল্লাহ সেই সব লোকদের ভালবাসেন, যারা কাতারবন্দী হয়ে লড়াই করে তার পথে।
  • একেক জন একেক জায়গায় খাড়া হলে কাতার হয়না।
  • একেক জন আলাদা আলাদা কাজ করলে কাতার হয়না।
  • মানে সংগঠনের অধীনে থাকতে হয়।
  • যেমন আমরা নামাযে কাতার দেই, সেই কাতারের একজন নেতা থাকেন যাকে আমরা ইমাম বলি..।

শানে নুযুল

  • সূরা সাফ নাযিল হয়েছে মদীনায়।
  • মুফাস্সির মুকাতিল বলছেন যে, ইহা উসমান বিন মাযউন রা. কথার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়। একদা তিনি রাসূল সা. এর নিকট আরজ করলেনঃ যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে (আমার স্ত্রী) খাওলাকে তালাক দিয়ে দেব, আমি সন্যাস জীবন গ্রহণ করবো, আমি খাসী হয়ে যাব, গোশত আমরা উপর হারাম করে নেব, কখনও রাতের বেলা ঘুমাবোনা, দিনের বেলা কখনও খাবনা। রাসূল সা. বললেন-

إن من سنتي النكاح ، ولا رهبانية في الإسلام ، إنما رهبانية أمتي الجهاد في سبيل الله ، وخصاء أمتي الصوم ، ولا تحرموا طيبات ما أحل الله لكم . ومن سنتي أنام وأقوم ، وأفطر وأصوم ، فمن رغب عن سنتي فليس مني

অতঃপর হযরত উসমান বললেন-

والله لوددت يا نبي الله أي التجارات أحب إلى الله فأتجر فيها ; فنزلت . وقيل : “أدلكم” أي سأدلكم . والتجارة الجهاد

  • শানে নুযুল ব্যাপারে আরেকটি হাদীস-

في حديث عبدالله بن سلام أن الصحابة رضي الله عنهم أرادوا أن يسألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أحب الأعمال إلى الله عز وجل ليفعلوه فأنزل الله تعالى هذه السورة ومن جملتها هذه الآية يا أيها الذين آمنوا هل أدلكم على تجارة تنجيكم من عذاب أليم ثم فسر هذه التجارة العظيمة التي لا تبور والتي هي محصلة للمقصود ومزيلة للمحذور.

ব্যাখ্যা

১০. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, আমি কি তোমাদের এমন একটি (লাভজনক) ব্যবসার সন্ধান দেবো, যা তোমাদের (মহা বিচারের দিন) কঠোর আযাব থেকে বাচিয়ে দিবে।

  • হে ঈমানদার গন। তোমাদেরকে কি একটা বিজন্যাসের কথা বলবো? যে বিজন্যাস করলে কঠিন যন্ত্রনাদায়ক আযাব থেকে বাঁচা যাবে।
    • দোজখ থেকে রক্ষা পাওয়ার ফরমূলা ওয়ালা সরাসরি এধরনে আয়াত কুরআনের দ্বিতীয় জায়গায় আমার চোঁখে পড়েনি।
  • عذاب أليم কি?
    • আযাবে আলীম মানে-কঠিন বা যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। এই শাস্তি বলতে দোজখের কঠিন শাস্তির কথা বুঝানো হয়েছে।
  • আযাবে আলীমের ধরণঃ
    • দোজখের সর্বনিম্ন শাস্তিঃ এ শাস্তি হবে আবু তালীবের।

عن النعمان بن بشير عن النبي (صـ) قال أن أهون  أهل النار عذابا رجل في أحمضى قدميه جمرتان يغلي منهما دماغه كما يغلي  الرجل بالقمقم

“নোমান ইবনে বশির রা. নবী সা. থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ জাহান্নামে যে ব্যক্তিকে সবচেয়ে কম শাস্তি দেয়া হবে, তা হল দু’পায়ের তলায় জাহান্নামের আগুনের দু’টি আঙ্গার রেখে দেয়া হবে, যার ফলে কোন চুলার উপর যেমন ভাবে ডেকচি ফুটতে থাকে, তেমনি ভাবে তার মাথার মগজ ফটতে থাকেব।” (বুখারী ও মুসলিম)

  • জাহান্নামের বিভিন্ন প্রকারের শাস্তিঃ

عن إبن عباس رضـ قال: ليلة أسرى بتبي صـ نظر في النار فاذا قوم يأكلون الجيف قال من هؤلاء يا جبريل؟ قال: هؤلاء الذين يأكلون لحوم الناس.

“হযরত ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেছেনঃ রাসূল সা. যে রাত্রে মে’রাজে যান, সে রাত্রে জাহান্নাম দেখেন। সেখানে তিনি দেখেন যে, কিছু লোক পঁচা মরাদেহ খাচ্ছে। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ হে জিবিরীল, এরা কারা? তিনি বললেন. এসব লোক হলো তার, যারা মানুষের অনুপস্থিতিতে তাদের গোশত খেতো অর্থাৎ গীবত করতো।”

  • দোজখের আগুনের অবস্থাঃ

عن أبي هريرة (رضـ) أن رسول الله (صـ) قال ناركم جزء من سبعين جزء من نار جهنم قيل يا رسول الله (صـ) إن كانت لك فيه قال فضلت عليهن بتسعة وستين جزء كلهن مثل حرها

“আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. বলেছেনঃ তোমাদের দুনিয়ার আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। প্রশ্ন করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! কেন, এই আগুন কি যথেষ্ট ছিলনা। তিনি বললেনঃ দুনিয়ার আগুন থেকে জাহান্নামের আগুনকে উনসত্তর অংশে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর প্রতিটি অংশই আলাদা আলাদা ভাবে দুনিয়ার আগুনের সমান”।

عن أبي هريرة (رضـ) عن النبي (صـ) قال أرقد على النار ألف سنة حتى أحمرت ثم أرقد عليها ألف سنة حتى ابيضت ثم ارقد عليها ألف سنة حتى أسودت فهي سوداء مظلمة –

“আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসুল সা. বলেছেন, জাহান্নামের আগুনকে হাজার বছর ধরে তাপ দেয়া হয়েছিল, ফলে তা রক্ত বর্ণ ধারণ করেছিল্ অতঃপর তাকে আরো হাজার বছর তাপ দেয়া হয়েছিল, যার ফলে তা সাদা বর্ণ ধারণ করেছিল। পরবর্তী পর্যায়ে আরও হাজার বছর উত্তপ্ত করার পর উক্ত আগুন কালো বর্ণ ধারণ করেছে। ফলে তা নিবিড় ঘন কালো অন্ধকার হয়ে আছে।” (তিরমিযি)

  • দোজখে শাস্তি দানকারী ফেরেশতারা হবে-অন্ধ ও বধিরঃ

﴿يَوْمَ يُدَعُّونَ إِلَىٰ نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا﴾ ﴿هَٰذِهِ النَّارُ الَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ﴾ ﴿أَفَسِحْرٌ هَٰذَا أَمْ أَنتُمْ لَا تُبْصِرُونَ﴾ ﴿اصْلَوْهَا فَاصْبِرُوا أَوْ لَا تَصْبِرُوا سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ ۖ إِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ﴾ ﴿إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَعِيمٍ﴾

 “যে দিন তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে ধাক্কা মেরে নিয়ে যাওয়া হবে, আর বলা হবেঃ এই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে। এটা কি যাদু, না তোমরা কি চোঁখে দেখছোনা? এতে প্রবেশ করো, অতঃপর ধৈর্য্য ধর বা না ধর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা কর, তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিদান দেয়া হবে। মুত্তাকীরা সেখানে বাগান ও নিয়ামতসমূহের মধ্যে অবস্থান করবে” (তুরঃ ১৩-১৬)

﴿تَصْلَىٰ نَارًا حَامِيَةً﴾ ﴿تُسْقَىٰ مِنْ عَيْنٍ آنِيَةٍ﴾ ﴿لَّيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٍ﴾ ﴿لَّا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِن جُوعٍ﴾

 “তারা জলন্ত আগুনে পতিত হবে। তাদেরকে টগবগ করা ক‚পের পানি পান করানো হবে। কাঁটাযুক্ত ঘাস ছাড়া তাদেও জন্য কোন খাদ্য নেই। এটা তাদেরকে পুষ্ট করবেনা এবং তাদের ক্ষুধাও মিটাবেনা”। (গাশিয়াঃ ৪-৭)

﴿إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَلَاسِلَ وَأَغْلَالًا وَسَعِيرًا﴾

 “আমি অবিশ্বাসীদের জন্য রেখেছি শিকল, বেড়ী ও লেলিহান আগুন”।(দাহরঃ ৪)

  • تجارة বা ব্যবসা কি?
    • যে কোন ব্যবসার জন্য প্রয়োজন সে ব্যবসার জন্য প্রয়োজন নূন্যতম পূঁজি। না হলে ব্যবসাতে লস হয়। যেমন-পানের দোকন/ কাপড়ের দোকান/হাউজিং প্লট বিজন্যাস।

বিষয়টি আরো ভাল বুঝার জন্য পড়তে হবে ২টি বইঃ

১. ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রাথমিক পূঁজি।

২. চরিত্র গঠনের মৌলিক উপাদান।

  • আমরা যারা ইসলামী সংগঠনে শামীল হয়েছি, আমাদের প্রথম টার্গেট আমরা জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই।

মুক্তির জন্য প্রয়োজন প্রয়োজন ব্যবসাতে নামা। ব্যবসার জন্য প্রয়োজন প্রয়োজনীয় পূঁজি। যা সামনে বলা হচ্ছে।

১১. (হ্যাঁ সে ব্যবসাটি হচ্ছে ) তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনবে এবং আল্লাহর (দ্বীন প্রতিষ্ঠার) পথে জিহাদ করবে। এটাই হচ্ছে তোমাদের জন্য মঙ্গল যদি তোমরা (কথাটা) বুঝতে পারতে।

  • ব্যবসার জন্য প্রয়োজন ২ধরনের পূঁজি।

১. ফিলোসোফিক্যাল বা ম্যানটাল (দর্শনগত বা মানসিক)।

২. প্রাকটিক্যাল (বাস্তবিক বা পারিশ্রমিক)।

  • ফিলসোফিক্যাল বা মনের সাথে বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট পূজিঃ ﴿تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ﴾
  • আল্লাহর প্রতি ঈমানঃ সংক্ষেপে-শিরক মুক্ত তাওহীদ, যা কুরআন সুন্নাহ পরিষদের ভাষায়ঃ জীবনদাতা, রিযিকদাতা, বিধানদাতা, হুকুমকর্তা একমাত্র আল্লাহ, তার সার্বভৌমত্বের সাথে কেউ শরীক নাই।
  • রাসূলের প্রতি ঈমানঃ সংক্ষেপে-শিরক মুক্ত রেসালাত, যা কুরআন সুন্নাহ পরিষদের ভাষায়ঃ আল্লাহর রঙে পৃথিবী রাঙানোর জন্য রাসূল সা. হচ্ছে একমাত্র আদর্শ। যিনি নির্ভূল জ্ঞানের অধিকারী, ওহীপ্রাপ্ত। সত্যের একমাত্র মাপকাঠি। তার এই অবস্থানের সমঅবস্থানকারী আর কেউ নাই।
  • এই দুইটি কাজের জন্য কোন পরিশ্রম করতে হয় না। বরং মনের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু মন যে এই বিশ্বাসের উপর আছে তার প্রমাণ দিতে হবে প্রাকটিক্যাল পূজি দিয়ে।
  • প্রাকটিক্যাল পূঁজি হলোঃ ﴿ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ﴾
  • এই প্রেকটিক্যাল পূঁজি কেবল তারাই বিনিয়োগ করতে পারবেন, যারা ম্যান্টাল বিশ্বাসটা সত্যিকারের থাকবে।
  • কেবলমাত্র একধরনের পূঁজি দিয়ে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
  • কেবল ঈমানের দাবী করলেই মুক্তি পাওয়া যায়না, প্রমান দিতে হবেঃ

﴿أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ﴾ ﴿وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۖ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ﴾

“লোকেরা কি মনে করে রেখেছে, “আমরা ইমান এনেছি” কেবলমাত্র একথাটুকু বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। আর পরীক্ষা করা হবে না। অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের সবাইকে পরীক্ষা করে নিয়েছি। আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন, কে সত্যবাদী এবং কে মিথ্যুক।” (আনকাবুতঃ ২-৩)

﴿أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ﴾

“তোমরা কি মনে করে রেখেছ তোমরা এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে ? অথচ এখনো আল্লাহ দেখেনইনি, তোমাদের মধ্যে কে তাঁর পথে প্রাণপণ যুদ্ধ করতে প্রস্তুত এবং কে তাঁর জন্য সবরকারী৷” (আলে-ইমরানঃ ১৪২)

﴿أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تُتْرَكُوا وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَلَمْ يَتَّخِذُوا مِن دُونِ اللَّهِ وَلَا رَسُولِهِ وَلَا الْمُؤْمِنِينَ وَلِيجَةً ۚ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ﴾

“তোমরা কি ধারণা করে আছো যে, তোমাদের এমনিতেই ছেড়ে দেওয়া হবে? অথচ এখনও আল্লাহ দেখেই নেননি যে, তোমাদের মধ্যে কারা (আল্লাহর পথে) সংগ্রাম করেছে এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের ছাড়া আর কাউকে পরম বন্ধু বানায়নি। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ এর খবর রাখেন। (তাওবাঃ ১৬)

﴿أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم ۖ مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّىٰ يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَىٰ نَصْرُ اللَّهِ ۗ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ﴾

“তোমরা কি মনে করেছো তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে, অথচ এখনো তোমরা সে অবস্থার সম্মূখীন হওনি, যে অবস্থার সম্মূখীন হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী (ঈমানদার)গন? তার সম্মূখীন হয়েছিল নির্মমতা ও দূঃখ-ক্লেশের এবং তাদেরকে অস্থির করে তোলা হয়েছিল। এমনকি রাসূল ও তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তারা চিৎকার করে বলে উঠেছিল, আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে? (তখনই তাদেরকে সুখবর দেয়া হয়েছিল এই মর্মে যে) জেনে রাখো, আল্লাহর সাহায্য নিকটেই।” (বাকারাঃ ২১৪)

  • পরীক্ষাটা কোন ধরনের হবেঃ

﴿وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّىٰ نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ﴾

“আমি তোমাদের কে অবশ্যই পরীক্ষা করবো যাতে আমি তোমাদের অবস্থা যাঁচাই করে দেখে নিতে পারি তোমাদের মধ্যে কে জিহাদকারী এবং কে ধৈর্যশীল৷” (মুহাম্মদঃ ৩১)

﴿وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ﴾

“আর নিশ্চয়ই আমরা ভীতি, অনাহার, প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে এবং উপার্জন ও আমদানী হ্রাস করে তোমাদের পরীক্ষা করবো ৷ এ অবস্থায় যারা সবর করে।” (বাকারাঃ ১৫৫)

  • জিহাদ ফি সাবিল্লিাহ কেনঃ
    • প্রকৃত ঈমানদারের দায়ি পালনের জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ﴾

“প্রকৃত ঈমানদার তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান এনেছে এবং এ ব্যাপারে পরে আর কোন সন্দেহ পোষণ করেনি৷ তারপর প্রাণ ও অর্থ-সম্পদ দিয়ে জিহাদ করেছে৷ তারাই সত্যবাদী৷ ” (হুজুরাতঃ ১৫)

  • পরীক্ষার লড়াইয়ে বিজয়ী বা পরাজিত যা-ই হোন, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ সফলকাম হওয়ার জন্যঃ

﴿فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا﴾

“(এই ধরনের লোকদের জানা উচিত ) আল্লাহর পথে তাদের লড়াই করা উচিত যারা আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিকিয়ে দেয়। তারপর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে লড়বে এবং মারা যাবে অথবা বিজয়ী হবে তাকে নিশ্চয়ই আমি মহাপুরস্কার দান করবো৷  (আন-নিসাঃ ৭৪)

  • মজলুম মানবতার আর্তচিৎকারে সাড়া দেয়ার জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

﴿وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا﴾

“তোমাদের কী হলো, তোমরা আল্লাহর পথে অসহায় নরনারী ও শিশুদের জন্য লড়বে না, যারা দুর্বলতার কারণে নির্যাতীত হচ্ছে ? তারা ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের রব ! এই জনপদ থেকে আমাদের বের করে নিয়ে যাও, যার অধিবাসীরা জালেম এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের কোন বন্ধু , অভিভাবক ও সাহায্যকারী তৈরী করে দাও।” (আন-নিসাঃ ৭৫)

  • নিজে ঈমানদার এ পরিচয় উদ্ভাসিত করার জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

﴿الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ ۖ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا﴾

“যারা ঈমানের পথ অবলম্বন করেছে তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে৷ আর যারা কুফরির পথ অবলম্বন করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে৷ কাজেই শয়তানের সহযোগীদের সাথে লড়ো এবং নিশ্চিত জেনে রাখো, শয়তানের কৌশল আসলে নিতান্তই দুর্বল।” (আন-নিসাঃ ৭৬)

  • সমাজকল্যান কল্যানমূলক কাজে বাহবা নয়, তার চেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন কাজ করার জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

﴿أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ لَا يَسْتَوُونَ عِندَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ﴾ ﴿الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِندَ اللَّهِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ﴾

“তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো এবং মসজিদে হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করাকে এমন ব্যক্তিদের কাজের সমান মনে করে নিয়েছ যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি এবং সংগ্রাম -সাধনা করেছে আল্লাহর পথে? এ উভয় দল আল্লাহর কাছে সমান নয়৷ আল্লাহ জালেমদের পথ দেখান না। আল্লাহর কাছে তো তারাই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী , যারা ঈমান এনেছে এবং তার পথে ঘর-বাড়ি ছেড়েছে ও ধন-প্রাণ সমর্পন করে জিহাদ করেছে৷ তারাই সফলকাম। (আত-তাওবাঃ ১৯-২০) 

  • সবকিছুর মোকাবেলায় আল্লাহর জন্য প্রস্তুত তার প্রমাণের জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

﴿قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ﴾

“হে নবী! বলে দাও, যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান ও তোমাদের ভাই তোমাদের স্ত্রী ,তোমাদের আত্মীয় -স্বজন , তোমাদের উপার্জিত সম্পদ , তোমাদের যে ব্যবসায়ে মন্দা দেখা দেয়ার ভয়ে তোমরা তটস্থ থাক এবং তোমাদের যে বাসস্থানকে তোমরা খুবই পছন্দ কর-এসব যদি আল্লাহ ও তার রসূল এবং তার পথে জিহাদ করার চাইতে তোমাদের কাছে বেশী প্রিয় হয়, তাহলে আল্লাহর ফায়সালা তোমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর আল্লাহ ফাসেকদেরকে কখনো সত্য পথের সন্ধান দেন না৷”(তাওবাঃ ২৪)

  • আল্লাহর ভর্ৎসনা থেকে বাচার জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ﴾ ﴿إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ﴾

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কী হলো , যখনই তোমাদের আল্লাহর পথে বের হতে বলা হলো, অমনি তোমরা মাটি কামড়ে পড়ে থাকলে? তোমরা কি আখেরাতের মোকাবিলায় দুনিয়ার জীবন পছন্দ করে নিয়েছো? যদি তাই হয় তাহলে তোমরা মনে রেখো, দুনিয়ার জীবনের এমন সাজ সরঞ্জাম আখেরাতে খুব সামান্য বলে প্রমাণিত হবে৷ তোমরা যদি না বের হও তাহলে আল্লাহ তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের জায়গায় আর একটি দলকে ওঠাবেন,  আর তোমরা আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না৷ তিনি সব জিনিসের ওপর শক্তিশালী।” (তাওবাঃ ৩৮-৩৯)  

  • আল্লাহর নির্দেশে সাড়া দেয়ার জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

﴿انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ﴾

“বের হও, হালকা, কিংবা ভারী যাই হওনা কেন, এবং জিহাদ করো আল্লাহর পথে নিজের ধন-প্রাণ দিয়ে৷ এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা জানতে৷” (তাওবাঃ ৪১)

  • আল্লাহর কাছে বিক্রি করা জানমালে আমার কোন মালিকা নেই প্রমানের জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

﴿إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ﴾

“প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের প্রাণ ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন৷ তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং মারে ও মরে৷” (তাওবাঃ ১১১)

  • কিয়ামত অবধি চলবে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে অংশীদার হবার জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

الجهاد ماض إلي يوم القيامة

“জিহাদ চলবে, কিয়ামত অবধি।”

  • দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ

কুরআন ইসলামকে শুধু আ-দ্বীন বলেনি। বরং বলেছে ইসলামের আগমন হয়েছে অন্যান্য সকল বিপরীত দ্বীনের উপর বিজয়ী হবর জন্য

﴿هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ﴾

“তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত এবং ‘দীনে হক’ দিয়ে পাঠিয়েছেন যাতে তিনি এ দীনকে অন্য সকল দীনের ওপর বিজয়ী করেন, চাই তা মুশরিকদের কাছে যতই অসহনীয় হোক না কেন৷” (সাফঃ ০৯)

১২. (যথার্থ ঈমান আসলে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের গুনাহ সমূহ মাফ করে দেবেন এবং শেষ বিচারের দিন তোমাদের তিনি প্রবেশ করাবেন-এমন এক (সুরম্য) জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, (সর্বোপরি) তিনি তোমাদের আরো প্রবেশ করাবেন জান্নাতের স্থায়ী নিবাস স্থলে সুন্দর ঘর সমূহে, আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সাফল্য।

  • ব্যবসার প্রফিট ২টি, বোনাস ১টি।
  • ব্যবসার প্রফিটঃ ০২

﴿يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ﴾

১. তোমাদের গোনাহ সমূহ মাফ করা হবে।

২. তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।

  • সূরা বাকারাতে ২৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছেঃ

﴿وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ﴾

“আর হে নবী, যারা এ কিতাবের ওপর ঈমান আনবে এবং(এর বিধান অনুযায়ী) নিজেদের কার্যধারা সংশোধন করে নেবে তাদেরকে এ মর্মে সুখবর দাও যে, তাদের জন্য এমন সব বাগান আছে যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা ৷”

  • সর্বপ্রথম ও সর্বশেষে জান্নাতে প্রবেশকারীর পুরস্কারঃ

সর্বশেষঃ

(হাদীসে আছে) এক দোজখবাসী সবশেষে দোজখ থেকে হেচড়াতে হেচড়াতে বেরিয়ে আসবে। আল্লাহ তাকে বেহেশতে প্রবেশ করতে বলবেন। সে বেহেশতের কাছে গেলে তার কাছে মনে হবে বেহেশত ইতিমধ্যেই পরিপূর্ণ হয়েগেছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে রব, বেহেশত পূর্ণ হয়েগেছে। আল্লাহ তাকে আবার যেতে বলবেন। সে আবার যাবে এবং তার কাছে একই ভাবে বেহেশত পরিপূর্ণ মনে হবে। সে আবার ফিরে এসে বলবে হে রব, বেহেশত ভরপুর হয়ে গেছে। আল্লাহ তাকে আবার বলবেনঃ তুমি গিয়ে বেহেশতে প্রবেশ কর। কেননা তোমার জন্য পৃথিবীর সমপরিমাণ  এবং অনুরূপ আরো ১০গুণ অথবা পৃথিবীর মত ১০গুণ জায়গা তোমার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। লোকটি বলবে, হে আল্লাহ! আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন, অথচ আপনি সব কিছুর একচ্ছত্র মালিক। (রাবী বলেন) একথা বলে রাসূল সা. এমন ভাবে হাসলেন যে, তাঁর পবিত্র দাঁত দেখা যাচ্ছিল। তিনি বলেছিলেনঃ এই ব্যক্তি হবে সবচেয়ে নিম্ন মর্যাদার বেহেশতী। (বুখারী-মুসলিম)

সর্বশেষঃ

وعن أبي هريرة (رضـ) قال قال رسول الله (صـ)  أول زمرة يدخلون الجنة على صورة القمر ليلة البدر ثم الذين يلونهم على أشد كوكب درى في السماء أضاءة لايبولون ولايتغوطون  ولايتفلون، ولايمتخطون، أمشاطهم الذهب وشحهم المسك ومجامرهم اللوة عود الطيب أزواجهم الحور العين على خلق رجل واحد على صورة أبيهم أدم ستون ذراعا في السماء.

“আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. বলেছেনঃ সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জল হবে। এর পর যারা প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা ঝিকমিক করা তারকার মত আলোকিত হবে। তাদেরকে পেশাব, পায়খান করতে হবেনা। মুখে থুথু আসবেনা আর নাকে ময়লা হবে না। তাদের চিরুণী হবে স্বর্ণের তৈরী। তাদের ঘাম হবে মিশকের মত সুগন্ধ। তাদের ধুপদানী সুগন্ধ কাঠ দিয়ে জ্বালানো হবে। আয়ত লোচনা হুর হবে তাদের স্ত্রী। তাদের দৈহিক গঠন হবে একই ধরনের। শারীরিক অভ্যাস একই রকম হবে। উচ্চতায় তারা তাদের আদি পিতা আদম আ. এর মত ষাট হাত লম্বা হবে। (বুখারী মুসলিম)

وعن أبي هريرة (رضـ) فال فال رصول الله (صـ) أنيتهم في الجنة الذهب ورشحهم المسك ولكل واحد منهم، زوجتان يري مخ سوقهما من وراء اللحم من الحسن لااختلاف بينهم، ولا تباغض قلوبهم واحد يسبحون الله بكرة وعشيا.

“আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. বলেছেনঃ জান্নাতে তাদের পাত্র হবে স্বর্ণের। তাদের ঘাম হবে মিশকের মত সুগন্ধ। তাদের প্রত্যোককে দু’জন করে স্ত্রী দেয়া হবে। তারা এত সুন্দরী হবে যে, তাদের উরুর হাড়ের মজ্জা মাংসের ভিতর দিয়ে দেখা যাবে। তাদের পরস্পরের মধ্যে কোন মতানৈক্য বা হিংসা-বিদ্বেষ থাকবেনা। তাদের মন হবে একই ব্যক্তির মনের মত। সকাল সন্ধায় তারা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহত্ব বর্ণনা করতে থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)।

১৩. আরও একটি (বড় ধরনের) অনুগ্রহ যা তোমাদের একান্ত কাম্য (এবং তা হচ্ছে) আল্লাহর সাহায্য ও (ময়দানের) আসন্ন বিজয়। (যাও তোমরা মুমিন বান্দাদের) এ সুসংবাদ গুলো দাও।

  • ব্যবসার বোনাসঃ ১টি
    • বোনাস এজন্য বললাম-এটা মূল প্রফিট নয়-যার জন্য আমরা এই ব্যবসাটা করি।
    • বোনাস এমন একটা জিনিস, যাকে লক্ষ্য করে ব্যবসা করা হয়না।
    • বোনাস পাওনা না না পাওয়ার জন্য কোন পেরেশানী থাকেনা। বরং পেরেশানী হতে মূল প্রফিটের উপর।
    • ইসলামী আন্দোলনের কর্মী মূল লক্ষ্য ইসলাম প্রতিষ্ঠা বা ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠা নয়।
    • ইসলামী আন্দোলনের কর্মীর মূল লক্ষ্য হচ্ছেঃ নিজের গোনাহ থেকে পবিত্র হয়ে জান্নাতের উপযোগী হওয়া এবং জান্নাতে যাওয়া।
    • ইসলামী রাষ্ট্র বা ইসলামী হুকুমাত প্রদান করা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ বোনাস-এজন্য এটাকে বলা হয়েছে ‘উখরা’ বা অতিরিক্ত।
    • উখরা বা অতিরিক্ত জিনিসটার প্রতি ভালবাসা থাকা অন্যায় নয়। কিন্তু এটা লক্ষ্য নয়।
    • সেই বোনাসটা কিঃ

﴿وَأُخْرَىٰ تُحِبُّونَهَا ۖ نَصْرٌ مِّنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ﴾

“আর আরেক জিনিস যা তোমরা আকাংখা করো আল্লাহ তাও তোমাদের দেবেন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং অতি নিকটবর্তী সময়ে বিজয়৷ হে নবী! ঈমানদারদেরকে এর সুসংবাদ দান করো৷”

  • জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ জিনিসটা কি?
    • জিহাদ শব্দ যখন উচ্চারণ করা হয়, তখন আমাদের মানসপটে ভেসে উঠেঃ
    • বদর, ওহুদ, খন্দক, তাবুকের চিত্র।
    • দ্যা ম্যাসেজ ছবিতে দেখা চিত্র-যেখানে বিশাল একদল মুজাহিদ নাংগা তরবারী নিয়ে কাফেরদের মুকাবেলা করছে। আর যাকেই সামনে পাচ্ছে, তাকেই হত্যা করছে।
    • কিন্তু এটা নাম জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ নয়, বরং এটা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর মাত্র ১টি পর্যায়।
    • জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ আর জঙ্গীবাদ এক জিনিস নয়।
    • আপনি যেখানেই ইসলামের শত্রু পাবেন, তাদেরকে হত্যা করবেন-এটা জিহাদ নয়-এটা জঙ্গিবাদ।
    • ইসলামে হত্যার হুকুম দেবে একমাত্র ইসলামী রাষ্ট্র।
    • রাসূলের কাছে রাষ্ট্র ছিলনা, তাই হিজরত করে প্রথমে রাষ্ট্র প্রধান হয়েছেন, তার পর হুকুম দিয়েছেন।
    • ইসলামে গোপন সংগঠন বলতে কিছু নেই।
    • ইতিহাস সাক্ষীঃ যারা অস্র হাতে নিয়েছে, তার ধ্বংস হয়েছে।

-শেখ মুজিব সন্তানদের অস্র। -ইখওয়ানের অস্র।

  • আইন অমান্য করা শিখে ফেললে আনুগত্য ভূলে যায়।
  • তাহলে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ জিনিসটা আসলে কি?
    • রাসূল সা. এর পুরো জিন্দেগীর সকল কাজের নাম হচ্ছেঃ জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ।
    • জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ০৫টি কাজের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়ঃ

১। দাওয়াত ইলাল্লাহ।

২। শাহাদাত আলান নাস।

৩। কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ্ ।

৪। ইকামাতে দ্বীন।

৫।আমর বিল মারুফ ও নাহী আনিল মুনকার।

  • দাওয়াত ইলাল্লাহ্ঃ
    • শেষ নবী এবং সকল নবীর আন্দোলনের কার্যক্রমের সূচনা হয়েছে দাওয়াতের মাধ্যমেঃ

﴿لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ﴾

“নুহকে আমি তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠাই৷ সে বলেঃ হে আমার স্বগোত্রীয় ভাইয়েরা! আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই৷ আমি তোমাদের জন্য একটি ভয়াবহ দিনের আযাবের আশংকা করছি৷” (আল আরাফঃ ৫৯)

﴿وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۗ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۚ أَفَلَا تَتَّقُونَ﴾

“আর আদ (জাতি)র কাছে আমি পাঠাই তাদের ভাই হূদকে৷ সে বলেঃ “হে আমার সম্প্রদায়ের ভাইয়েরা !তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো৷ তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই৷ এরপরও কি তোমরা ভুল পথে চলার ব্যাপারে সাবধান হবে না? ”(আল আরাফঃ ৬৫)

﴿وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا ۗ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ قَدْ جَاءَتْكُم بَيِّنَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ ۖ هَٰذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً ۖ فَذَرُوهَا تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ ۖ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ﴾

“আর সামূদের কাছে পাঠাই তাদের ভাই সালেহকে৷ সে বলেঃ হে আমার সম্প্রদায়ের ভাইয়েরা! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো৷ তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই৷ তোমাদের কাছে তোমাদের রবের সুষ্পষ্ট প্রমাণ এসে গেছে৷ আল্লাহর এ উটনীটি তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন৷ কাজেই তাকে আল্লাহর জমিতে চরে খাবার জন্যে ছেড়ে দাও৷ কোন অসদুদ্দেশ্যে এর গায়ে হাত দিয়ো না৷ অন্যথায় একটি যন্ত্রনাদায়ক আযাব তোমাদের ওপর আপতিত হবে৷” (আল আরাফঃ ৭৩)

﴿وَإِلَىٰ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا ۗ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ قَدْ جَاءَتْكُم بَيِّنَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ ۖ فَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ﴾

“আর মাদইয়ানবাসীদের কাছে আমি তাদের ভাই শোআইবকে পাঠাই৷ সে বলেঃ “হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা! আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই৷ তোমাদের কাছে তোমাদের রবের সুষ্পষ্ট পথনির্দশনা এসে গেছে৷ কাজেই ওজন ও পরিমাপ পুরোপুরি দাও, লোকদের পাওনা জিনিস কম করে দিয়ো না৷ এবং পৃথিবী পরিশুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার মধ্যে আর বিপর্যয় সৃষ্টি করো না৷ এরই মধ্যে রয়েছে তোমাদের কল্যাণ ,যদি তোমরা যথার্থ মুমিন হয়ে থাকো৷”(আল আরাফঃ ৮৫)

  • নবীর জীবনের প্রথম ভাষনঃ يايها الناس قولوا لااله الا الله تفلحوا
  • দাওয়াত ইলাল্লাহ সম্পর্কে কুরআনঃ

ক। সরাসরি নির্দেশঃ

﴿ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ ۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ﴾

“হে নবী! প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা এবং সদুপদেশ সহকারে তোমার রবের পথের দিকে দাওয়াত দাও এবং লোকদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পদ্ধতিতে৷ তোমার রবই বেশী ভালো জানেন কে তাঁর পথচ্যুত হয়ে আছে এবং সে আছে সঠিক পথে৷” (আন নাহলঃ ১২৫)

খ। রাসূলের কাজ ও পথের পরিচয় বুঝাতেঃ

﴿قُلْ هَٰذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ ۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي ۖ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ﴾

“তাদেরকে পরিষ্কার বলে দাওঃ আমার পথতো এটাই, আমি আল্লাহর দিকে ডাকি, আমি নিজেও পূর্ণ আলোকে নিজের পথ দেখছি এবং আমার সাথীরাও৷ আর আল্লাহ পাক-পবিত্র এবং শিরককারীদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই৷” (ইউসুফঃ ১০৮)

গ। নবীর গুনাবলী বর্ণনা করতেঃ

﴿يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا﴾ ﴿وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُّنِيرًا﴾

“এবং তাদের জন্য আল্লাহ বড়ই সম্মানজনক প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন৷ হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী বানিয়ে, সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী করে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে৷” (আহযাবঃ ৪৫-৪৬)

ঘ। দায়ীর প্রশংসা করেঃ

﴿وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ﴾

“সেই ব্যক্তির কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হবে যে আল্লাহর দিকে ডাকলো, সৎ কাজ করলো এবং ঘোষণা করলো আমি মুসলমান ৷” (হা-মীম-আস সিজদাঃ ৩৩)

ঙ। উম্মতে মুহাম্মাদীর দায়িত্ব ও কর্তব্য ব্যাখ্যা করেঃ

﴿وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ﴾

“তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক অবশ্যি থাকতে হবে, যারা নেকী ও সৎকর্মশীলতার দিকে আহবান জানাবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে৷ যারা এ দায়িত্ব পালন করবে তারাই সফলকাম হবে ৷” (আল ইমরানঃ ১০৪)

  • সকল নবীদের দাওয়াতের সুর ও আবেদন একই ধরনের।

যেমনঃ

১। সবাই তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন, গাইরুল্লাহর সার্বভৌমত্ত¡ পরিহারের আহবান করেছেন।

২। সমাজের খুটিনাটি সমস্যার প্রসঙ্গে না গিয়ে আল্লাহর আইন না থাকায় যে সব বড় বড় সমস্যায় মানুষ জর্জরিত সে গুলোর কড়া সমালোচনা করেছেন। ৩। দাওয়াত কবুল না করার পরিণাম সম্পর্কে দুনিয়া ও আখেরাতে যা হতে পারে সে সম্পর্কে সতর্ক ও ভীতি প্রদর্শন করেছেন।

  • নবীদের দাওয়াতের মেজাজ গভীর ভাবে অনুধাবন ও অনুশীলন করলে বুঝা যায়, সে সময়ের সমাজ ব্যবস্থা বদলের আপোষহীন বিপ্লবী ঘোষনা। আর এজন্য প্রতিষ্ঠিতদের সাথে সংঘাত অনিবার্য।
  • শাহাদাত আলান নাসঃ
    • নবীর পরিচয় তিনি দায়ী, আবার তিনির অন্য পরিচয় তিনি দাওয়াতের বাস্তব নমূনা, মূর্ত প্রতীক রূপে শাহেদ এবং শহীদ।
    • কুরআনের বক্তব্যঃ

﴿إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمْ رَسُولًا شَاهِدًا عَلَيْكُمْ كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَىٰ فِرْعَوْنَ رَسُولًا﴾

“আমি তোমাদের নিকট একজন রসূল পাঠিয়েছি তোমাদের জন্য সাক্ষী স্বরূপ যেমন ফেরাউনের নিকট একজন রসূল পাঠিয়েছিলাম৷”  (মুজ্জাম্মিলঃ ১৫)

﴿يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا﴾

“এবং তাদের জন্য আল্লাহ বড়ই সম্মানজনক প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন৷ হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী বানিয়ে।” (আল আহযাবঃ ৪৫)

﴿وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ۗ وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ ۗ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ﴾

“আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি ‘মধ্যপন্থী’ উম্মাতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা দুনিয়াবাসীদের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রসূল হতে পারেন তোমাদের ওপর সাক্ষী৷ প্রথমে যে দিকে মুখ করে তুমি নামায পড়তে, তাকে তো কে রসূলের অনুসরণ করে এবং কে উল্টো দিকে ফিরে যায়, আমি শুধু তা দেখার জন্য কিব্‌লাহ নির্দিষ্ট করেছিলাম৷ এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন বিষয়, তবে তাদের জন্য মোটেই কঠিন প্রমাণিত হয়নি যারা আল্লাহর হিদায়াত লাভ করেছিল ৷ আল্লাহ তোমাদের এই ঈমানকে কখনো নষ্ট করবেন না ৷ নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, তিনি মানুষের জন্য অত্যন্ত স্নেহশীল ও করুণাময়৷”  (আল বাকারাঃ ১৪৩)

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ﴾

“হে ঈমানদারগণ! সত্যের ওপর স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত ও ইনসাফের সাক্ষদাতা হয়ে যাও৷ কোন দলের শত্রুতা তোমাদেরকে যেন এমন উত্তেজিত না করে দেয় যার ফলে তোমরা ইনসাফ থেকে সরে যাও৷ ইনসাফ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠিত করো৷ এটি আল্লাহভীতির সাথে বেশী সামঞ্জস্যশীল৷ আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাকো৷ তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত আছেন৷”  (আল মায়েদাঃ ৮)

﴿أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ كَانُوا هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ ۗ قُلْ أَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ ۗ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَادَةً عِندَهُ مِنَ اللَّهِ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ﴾

“অথবা তোমরা কি একথা বলতে চাও যে, ইবরাহীম, ইসমাঈর, ইসহাক, ইয়াকুব ও ইয়াকুব-সন্তানরা সবাই ইহুদি বা খৃস্টান ছিল?” বলো, “তোমরা বেশী জানো, না আল্লাহ বেশী জানেন? তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সাক্ষ রয়েছে এবং সে তা গোপন করে চলে? তোমাদের কর্মকান্ডের ব্যাপারে আল্লাহ গাফেল নন৷ তারা ছিল কিছু লোক ৷ তারা আজ আর নেই৷”  (আল বাকারাঃ ১৪০)

  • শাহাদাত মূলত দাওয়াতের বাস্তব রূপ।
  • নবী রাসূলরা দুটি উপায়ে শাহাদাতের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১. মৌখিক সাক্ষ্য। ২. আমলী সাক্ষ্য।

  • নবী সা. মৌখিক দাওয়াতের সাথে সাথে শুহাদা আলান নাস এর ভূমিকা পালন করেছেন।
  • সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন দায়ী ইলাল্লাহর দাওয়াতের বাস্তব নমূনা। তাদের নমূনা ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন সুরা ফুরকান শেষ ও সূরা মুমিনুন প্রথম রুকুতে।
  • ইসলামী আন্দোলনে শাহাদাত আলান নাস-এর গুরুত্ব বেশী। কেননা, এধরনের বাস্তব সাক্ষ্যদানকারী একদল লোক তৈরী হলে পরে আল্লাহর সাহায্য ও জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর কাজের সাফল্য নির্ভর করে।
  • কিতাল ফি সাবিলিল্লাহঃ
    • দায়ী যখন আমলী শাহাদাত প্রদানে সক্ষম হয়, তখন দায়ীকে তাওয়াত থেকে বিরত রাখতে, আওয়াজ স্তব্দ করে দিতে জুলুম নির্যাতন ও লোভ প্রলোভন যখন হার মানে, সমাজের মানুষের উপর যখন দায়ীর দাওয়াত ফেলে নৈতিক প্রভাব।
    • কায়েমী স্বার্থবাদীরা তখন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিপত্তির কারণে দায়ীকে নিশ্চিহ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
    • মক্কী জিন্দেগীতে প্রতিশোধ নেয়ার সীমিত অনুমতি দেয়া হয়েছে। সূরা নাহল ও শুরার মাধ্যমে।
    • মাদানী জিন্দেগীতে সূরা হজ্জের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেয়ার এবং সূরা মুহাম্মাদের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। বিধায় সূরা মুহাম্মদের আরেক নাম সূরা কিতাল।
    • ইসলামী আন্দোলনে এ সংঘাত অনিবার্যঃ

﴿الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ ۖ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا﴾

“যারা ঈমানের পথ অবলম্বন করেছে তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে৷ আর যারা কুফরির পথ অবলম্বন করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে৷ কাজেই শয়তানের সহযোগীদের সাথে লড়ো এবং নিশ্চিত জেনে রাখো, শয়তানের কৌশল আসলে নিতান্তই দুর্বল৷” (আন নিসাঃ ৭৬)

  • ইসলামী সমাজ পরিচালনার লোক তৈরী, ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, আমলী শাহাদাতের মাধ্যমে জনগনের মন জয় এবং তাদের সাথী করতে পারলে আন্দোলনের সংঘর্র্ষের স্তর অতিক্রম করে সাফল্যের দ্বার প্রান্তে উপনীত হতে হয়।
  • কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ সম্পর্কে কুরআনঃ

﴿وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ ۖ فَإِنِ انتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ﴾

“তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং দীন একমাত্র আল্লাহর জন্য নিদিষ্ট হয়ে যায়৷ তারপর যদি তারা বিরত হয় তাহলে জেনে রাখো যালেমদের ছাড়া আর করোর ওপর হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়৷”  (আল বাকারাঃ ১৯৩)

﴿وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ ۚ فَإِنِ انتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ﴾

“হে ঈমানদারগণ! এ কাফেরদের সাথে এমন যুদ্ধ করো যেন গোমরাহী ও বিশৃংখলা নির্মূল হয়ে যায় এবং দীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়৷” (আল আনফালঃ ৩৯)

﴿قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ﴾

“আহলি কিতাবদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ ও পরকালের ঈমান আনে না যা কিছু আল্লাহ ও তার রসূল গণ্য করেছেন তাকে হারাম করো না এবং সত্য দীনকে নিজেদের দীনে পরিণত করে না, তাদের সাথে যুদ্ধ করো যে পর্যন্ত না তারা নিজের হাতে জিযিয়া দেয় ও পদানত হয়ে থাকে৷” (আত তাওবাঃ ২৯)

﴿إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ۖ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ ۚ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ ۚ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ﴾

“প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের প্রাণ ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন৷ তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং মারে ও মরে৷ তাদের প্রতি তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনে(জান্নাতের ওয়াদা) আল্লাহর জিম্মায় একটি পাকাপোক্ত ওয়াদা বিশেষ৷ আর আল্লাহর চাইতে বেশী নিজের ওয়াদা পূরণকারী আর কে আছে? কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে যে কেনা-বেচা করছো সে জন্য আনন্দ করো৷ এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য৷”  (আত তাওবাঃ ১১১)

কেতাল ফি সাবিলিল্লাহ আল কুরআনের ইকামাতে দ্বীনের একটি পরিভাষা। এটি আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত দ্বীনকে বিজয়ী আদর্শ হিসাবে প্রতিষ্ঠা ও যাবতীয় ফেতনা ফাসাদের মূলোৎপাটনের জন্য।

  • ইকামাতে দ্বীনঃ
    • ইকামাতে দ্বীন অর্থ দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টা। আর দ্বীন কায়েম মানে কোন জনপদে দ্বীন ইসলাম বিজয়ী আদর্শ হিসাবে প্রতিষ্টা হওয়া। দ্বীন পূর্ণ অনুসরণে কোন বাঁধা না থাকা।
    • যেখানে কুরআনের আইন কায়েম নাই, সেখানে ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও আইনের কারণে অনেক বিষয় আমল করা সম্ভব হয়না।
    • শিক্ষা ব্যবস্থা ইসলাম বিরোধী আদর্শ শিখালে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার মন হয়না।
    • যারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তারা ইসলামী আদর্শের বিরোধী হলে সে সমাজের মানুষ ইসলাম অনুসরণের সুযোগ পায় না।
    • ব্যক্তি জীবনে ব্যক্তিগত ভাবে দ্বীন যতটুকু মানা হয়, তা পরিপূর্ণ দ্বীনের তুলনায় কিছুই নয়।
    • ব্যক্তিগত ভাবে সামগ্রীক ও পরিপূর্ণ দ্বীন তো দূরের কথা আনুষ্ঠানিক ইবাদতগুলো ও করা সম্ভব নয়। যেমনঃ
    • নামাজ কায়েম হয় না পড়া হয়।
    • যাকাত আদায় করা যায় না।
    • রোজার পরিবেশ হয় না রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রন ছাড়া।
    • রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতার কারণে হজ্জের সুযোগ হয়না।
    • সমাজ জীবনের বিভিন্ন পর্যায় আল্লাহর আনুগত্য করা সম্ভব হয়না।
    • অর্থনীতিতে সুদ মুক্ত থাকা যায়না।
    • সমাজ জীবনের বেহায়াপনা জেনা চুরি থেকে বাঁচা সম্ভব হয়না।
    • দ্বীন এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কায়েম হবার জন্য। যেখানে দ্বীন আনুষ্ঠানিক ও সামগ্রীক দিক ও বিভাগে আমল করা যায়, সেখানেই কেবল দ্বীন কায়েম আছে বলে মনে করতে হবে।
    • নবী রাসূলের দায়িত্ব ছিল দ্বীন কায়েম করাঃ

﴿شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ ۖ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ ۚ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ ۚ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ﴾

“তিনি তোমাদের জন্য দীনের সেই সব নিয়ম-কানুন নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং ( হে মুহাম্মাদ) যা এখন আমি তোমার কাছে ওহীর মাধ্যমে পাঠিয়েছি৷ আর যার আদেশ দিয়েছিলাম আমি ইবরাহীম (আ) মূসা (আ) ও ঈসা (আ)৷ তার সাথে তাগিদ করেছিলাম এই বলে যে, এ দীনকে কায়েম করো এবং এ ব্যাপারে পরস্পর ভিন্ন হয়ো না৷ (হে মুহাম্মাদ) এই কথাটিই এসব মুশরিকের কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয় যার দিকে তুমি তাদের আহবান জানাচ্ছো৷ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন করে নেন এবং তিনি তাদেরকেই নিজের কাছে আসার পথ দেখান যারা তাঁর প্রতি রুজু করে৷” (সূরা আশ শুরাঃ ১৩)

  • এভাবে দ্বীন কায়েমের চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানোই ইসলামী আন্দোলনের-            

১। জাগতিক লক্ষ্য।

২। আখেরাতের লক্ষ্য হল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নাজাত।

  • আমর বিল মারুফ ও নাহী আনিল মুনকারঃ
    • সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ দেয়ার পর্যায়-
    • সাধারণ ভাগে গোটা উম্মতে মুহাম্মাদীর দায়িত্ব।
    • সরকারী প্রশাসনের মাধ্যমে এ কাজ আনজাম দেয়া শরীয়াতে প্রধান স্পিরিট।
    • উপরোক্ত সবক’টি কাজের সমষ্টির নাম ইসলামী আন্দোলন।

শিক্ষা

১. আমাদের লক্ষ্যঃ জান্নাতের উপযোগী মানুষ হবার জন্য গোনাহ মুক্ত হওয়া।

২. গোনাহ মুক্ত মানুষ হতে ব্যবসায়ে পূঁজি বিনিয়োগ করা।

৩. জাহান্নাম থেকে মুক্তির ব্যবসাতে ২ ধরণের পূঁজি ব্যবহার করতে হবে।

৪. পূঁজি বিনিয়োগকারীকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রফিট করতে হবে।

৫. ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠার আকাংখা থাকবে, কিন্তু এটা আমাদের লক্ষ্য নয়-একথা অন্তরে গেঁথে নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here