➧ ‘দাড়ি’ মুসলমানদের ইউনিফরম সমূহের মাঝে এক অনন্য বৈশিষ্ট মন্ডিত একটি বিষয়।

➧ দাড়ি রাখা বিষয়ে মুসলিম মিল্লাতে কোন বিতর্ক আছে বলে আমার জানা নেই। সকল মতের উলামায়ে কিরাম ও বিজ্ঞজন দাড়ি রাখার পক্ষেই মত প্রদান করেছেন।

➧ “দাড়ি রাখা ফরয” এই মর্মে কোন মত আমার চোঁখে পড়েনি।

➧ রাসূলুল্লাহ সা. দাড়ি ছাটতেন মর্মে কোন হাদীছ আমার পড়া হয়নি।

➧ দাড়ি লম্বা করার ব্যাপারে রাসূল সা. এর একটি প্রসিদ্ধ হাদীছ রয়েছে-যা ছোট দাড়ি ওয়ালা আর লম্বা দাড়ি ওয়ালা সকলেরই জানা। আর তাহলোঃ “মোরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি লম্বা কর, গোঁফ ছোট করো।” (বুখারী ও মুসলিম)

উপরোক্ত হাদীছটি রাসূল সা. কর্তৃক নির্দেশ সূচক, না নসিহত বা পরামর্শ মূলক-তা পরিস্কার নয়। কোন প্রেক্ষাপটে রাসূল সা. এই বক্তব্য প্রদান করেছেন, তাও জানা যায়নি।

➧ দাড়ি সম্পর্কে নাসির উদ্দিন আলবানী রাহ. এর উক্তিঃ

واعلم أنه لم يثبت في حديث صحيح عن النبي (صـ)  الأخذ من اللحية  لا قولا … ولا فعلا

এবং জেনে রাখুন, রাসূল সা. থেকে কোন সহীহ হাদীস দ্বারা দাড়ি ছোট করার ব্যাপারে কোন কিছু প্রমাণিত হয়নি-না তার কোন বক্তব্য আর না তার কোন আমল।

➧ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. যখন হজ্জ বা উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাহিরে যতটুকু বেশী থাকত, তা কেটে ফেলতেন। (বুখারী)

তার এই বক্তব্যকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করে অনেকে কমপক্ষে এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখার নসিহত করে থাকেন এবং অনেকে একমুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখার উপর আমল করে থাকেন।

এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রেখে অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলা বিষয়ে হযরত ইবনে উমর রা. এর আমল বিষয়ে উলামায়ে কিরামগন অনেক ধরণের অভিমত পেশ করেন। যেমনঃ

১. এটি তার ব্যক্তিগত আমল। 

২. এরূপ করার জন্য তিনি কাউকে নসিহত করেননি। 

৩. কেবল হজ্জ ও উমরায় করতেন। 

৪. সাহাবীর আমল রাসূলের আমল নয়। 

৫. এটি ব্যাখ্যার দাবী রাখে, দলীল নয়। 

৬. তিনি মাথা কামানোর মতো দাড়ি ছেটে উভয় নেকী পেতে চেয়েছেন।

দাড়ি ছাটা সম্পর্কে ইবনে উমরকে প্রশ্ন করা হলে তিনির জবাব-

أفرسول الله (صـ) أحق أن تتبعوا سنته أم سنة عمر  

“তোমাদের জন্য রাসূল সা. এর সুন্নাত অধিক অনুসরণ যোগ্য না উমরের সুন্নাত।” (তিরমিযি)

➧ হযরত নাসির উদ্দিন আলবানী বলেনঃ

 الذي نختاره القبضة والمسألة فيها نظر والأحسن أتباع السنة على كل حال

“আমরা পসন্দ করি তা হলো এক মুষ্টি। তবে উক্ত মাসআলাতে ত্রুটি রয়েছে। কারণ সর্বাধিক উত্তম হলো সর্বাবস্তায় রাসূল সা. এর সুন্নাতের অনুসরণ করা।”

➧ আমার বিবেচনায়, দাড়ি রাখা ফরজ নয়-সুন্নাত। দাড়ি কতটুকু হবে-তা বিতর্কের বিষয় নয়। যে যত পরিমাণ দাড়ি রাখবেন, তিন ততপরিমাণ সুন্নতের সওয়াব পাবেন।

দাড়ি মুসলমানদের ইউনিফরমদের মধ্যে অন্যতম। তাই সকল মুসলিম তার মুখের মাঝে সেই ইউনিফরমটা লাগানো উচিত।

যিনি দাড়ি একটুও ছাটেন না, তিনি সবচেয়ে বেশী সওয়াব পাবেন। যিনি একমুষ্টি পরিমাণ রাখেন, তিনি এর চেয়ে কম যারা রাখেন, তাদের চেয়ে বেশী সওয়াব পাবেন। যিনি দাড়ি রাখেন না, তার চেয়ে বেশী সওয়াব পাবেন-যিনি দাড়ি ছোট করে হলেও রাখতে পেরেছেন।

ছোট রাখুন আর লম্বা রাখুন, সর্বাবস্থায় দাড়িকে সুন্দর ও গোচালো করে রাখা উচিত। দাড়িকে এমন ভাবে রাখা উচিত নয়, যাতে-

–   দাড়ি দেখলে পাগলের মতো মনে হয়।

–   দাড়ি দেখলে উদ্ভ্রান্তের মতো লাগে।

–   দাড়ি এমন ভাবে রাখা ঠিক নয়, যাতে মনে হয় যে, দীর্ঘদিন সেইভ করার সময় পাননি বলে লম্বা হয়েছে।

–   দাড়ি এমন ভাবে রাখা উচিত, যাতে আপনি কারো নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে সে মনে করে যে একজন দাড়িওয়ালা লোক তাকে অতিক্রম করে গিয়েছে।

–   দাড়ি এমন ভাবে রাখা উচিত নয়, যাতে করে দাড়ি সৌন্দর্য বর্ধন না করে উপহাসের পাত্র হয়ে দাড়ায়। যেমনঃ ফ্রেন্চ দাড়ি, ছাগলী দাড়ি ইত্যাদি।

আরব দেশে দাড়ি রাখা তদানিন্তন সময়ে একটি সংস্কৃতি ছিল আবু জেহেল সহ কাফের সরদারদের দাড়ি ছিল। আল্লাহর রাসূল সা. এই দাড়ি নামক জিনিসটাকে লালন করেছেন এবং তাকে সুন্দর করার জন্য প্রতি জুমুয়াবারে আলাদা সময় ব্যয় করতেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বক্তব্য অনুযায়ী দাড়ি স্বাস্থের জন্য খুবই জরুরী।ইউনানি চিকিৎসবিজ্ঞান অনেক আগেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে দাড়ি পুরুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। গলা ও বক্ষকে ঠাণ্ডা ও গরম থেকে রক্ষা করে । আধুনিক ডাক্তারদের মতামত হচ্ছেঃ সব সময় দাড়িতে খুর চালালে চোখের শিরার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এতে চোখের জ্যোতি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে।

দাড়ি জীবাণুকে দাড়ির ভেতরে ঢুকতে প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি করে। তাকে গলা, বক্ষ পর্যন্ত অতিক্রম করতে বাধা দেয়। দাড়ি না রাখা যৌনশক্তি শূন্যের কোঠায় পৌঁছে দেয়।

যদি সাত প্রজন্ম পর্যন্ত কোনো বংশের পুরুষদের মধ্যে দাড়ি মুণ্ডানোর অভ্যাস চালু থাকে, তাহলে অষ্টম প্রজন্মের সন্তান দাড়িবিহীন হবে। এর কারণ হলো, এর ফলে প্রত্যেক প্রজন্মে যৌনশক্তি হ্রাস পেতে পেতে অষ্টম জেনারেশনে একেবারে শূন্যের কোঠায় পৌঁছে যাবে ।

তাই আসুন আমরা দাড়ি রাখি। মনের মতো করে সুন্দর করে রাখি, সুন্নতের উপর আমল করে নিজেকে সুন্দর করি।

(এ লেখাটি একটি অসম্পূর্ণ লিখা। পরবর্তী তা আরো সমৃদ্ধ আঁকারে প্রকাশ করা হবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here