ব্যক্তিগত রিপোর্ট ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠনের উপায়

ব্যক্তিগত রিপোর্ট ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠনের উপায়

রিপোর্ট কি?

ইংরেজী রিপোর্ট শব্দের অর্থ প্রতিবেদন বা হিসাব নিকাশ। সাধারণভাবে বলা যায়, রিপোর্ট হলো এমন একটি তত্ত্বগত, সুসংহত বিবৃতি-যা কোন বক্তব্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অথচ সঠিক বর্ণনা প্রদান করে।

ব্যক্তিগত রিপোর্ট কি?

ব্যক্তিজীবনকে পর্যালোচনার মাধ্যমে সংশোধন করে কাঙ্খিতমানে পৌঁছানোর জন্য প্রতিদিনের মৌলিক কাজসমূহ একটি নির্দিষ্ট ছকে লিখে রাখার পদ্ধতিই হচ্ছে ব্যক্তিগত রিপোর্ট।

ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ কেন প্রয়োজনঃ

দ্বীন ইসলামকে আল্লার জমীনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্টার জন্য এমন একদল আদর্শ কর্মীর প্রয়োজন, যারা নিজেরা সেই বিধান অনুযায়ী চলবে এবং অন্যদেরকেও এ পথে ডাকবে জ্ঞান, যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা ও আন্তরিকতার সাথে এজন্য নিয়মানুবর্তি, সুশৃঙ্খল এবং সুষ্ঠ পরিকল্পনার ভিত্তিতে সকল কর্মীদের গোটা জীবনকে গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাই প্রতিদিন নিজ কাজের হিসাব লিখে তা পর্যালোচনা করে ভুল ক্রটিগুলো দূর করার আন্তরিক ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালানোই হলো এর জন্য সহজ, সর্বোত্তম ও বিজ্ঞান সম্মত উপায়।

সূরা বনি ইসরাইলের ১৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَىٰ بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا “আপন কর্মের রেকর্ড কর আজ তোমার নিজের হিসাব করার জন্য তুমিই যথেষ্ট।”

হযরত উপর রাঃ বলেছেন “আল্লার কাছে হিসাব দেওয়ার আগে তুমি নিজেই নিজের হিসাব নাও।”

ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষনের গুরুত্বঃ

১.ব্যক্তিগত রিপোর্ট আয়না স্বরূপ।

২.ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠনের সহায়ক।

৩.ইসলামী সংগঠনের কর্মীর অপরিহার্য গুনাবলী।

৪.ব্যক্তিজীবন গঠনের মাধ্যমেই ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব তৈরি হয়।

ব্যক্তিগত রিপোর্টের বিভিন্ন দিকঃ

১.কোরআন অধ্যয়নঃ
ক) ইসলামী জ্ঞানের মূল উৎস।

খ) শয়তানকে পরাজিত করতে হলে কোরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা দরকার।

গ) জীবন চলার পথ চিনতে কোরআন অধ্যয়ন প্রয়োজন।

২.হাদীস অধ্যয়নঃ
ক) ইসলামী জ্ঞানের দ্বিতীয় উৎস।

খ) কোরআন বুঝার সহায়।

গ) পঠিত হাদীসের আলোকে পর্যাক্রমে নিজের জীবন গড়তে হবে।

৩.ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নঃ
ক) ইসলামী আদর্শ জানতে বুঝতে ও মানতে ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন অপরিহার্য।

খ) আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করা দরকার।

গ) প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘন্টা হলেও ইসলামী সাহিত্য পাঠ করা।

৪.পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়নঃ
ক) ছাত্রত্ব বাদ দিয়ে শিবির নয়।

খ) ভাল শিবির কর্মীর অন্যতম দাবী ভাল ছাত্র হওয়া।

গ) সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করতে পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়ন করতে হবে।

ঘ) নিয়মিত ক্লাসে যোগদান ও পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়নে তৎপর হওয়া।

৫.জামায়াতে নামায আদায়ঃ
ক) আল্লার সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপনে সাহায্য করা।

খ) জামায়াতে নামায আদায় করার জন্য রাসূল (সঃ) কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

গ) একাকী নামায পড়া অপেক্ষা অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।

৬.কর্মী যোগাযোগঃ
ক) অন্যান্য ভাইদের অবস্থা জানার জন্য নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করা।

৭.বন্ধু সমর্থক যোগাযোগ ও বই বিতরণঃ

৮.সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনঃ
অল্প সময় হলেও প্রতিদিন সংগঠনের জন্য কিছু কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলা।

৯.শরীর চর্চাঃ মন মানসিকতা সুস্থ্য রাখে

১০.পত্র পত্রিকা পাঠঃ

দেশ বিদেশের চলমান অবস্থা জানতে হলে পত্র-পত্রিকা পাঠের কোন বিকল্প নেই।

১১.আত্ম সমালোচনাঃ
ক) জীবনকে গতিশীল করে।

খ) মনে অহংকার সৃষ্টি করে না।

গ) প্রদর্শনেচ্ছা জন্মাতে পারে না।

লেখাটি আপনার ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
আমার আলেচনা নোট লেখালেখি