বিশেষ জ্ঞাতব্যঃ কুরআনের আয়াত সমূহ মূল কুরআন থেকে পড়তে হবে। কারণ সফটওয়ার জনিত সমস্যা ও টাইপের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য ভূল হতে পারে।

তেলাওয়াত ও বাংলা অনুবাদঃ

ব্যাখ্যাঃ

** إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ (যারা আল্লাহর বিধান ও হিদায়াত মানতে অস্বীকার করে এবং তাঁর নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে আর এমন লোকদের প্রাণ সংহার করে, যারা মানুষের মধ্যে ন্যায়, ইনসাফ ও সততার নির্দেশ দেবার জন্য এগিয়ে আসে)

– কারা নবী ও ন্যায় ইনসাফ ও সত্যতার নির্দেশ দাতাদের হত্যা করেছে?

– ইহুদী ও খৃষ্টান উভয় সম্প্রদায় এই অপরাধে শামীল। যারা তাওরাত ও ইঞ্জিল এবং কুরআনকে অস্বীকার করেছিল, নবী ও সৎ মানুষদের হত্যা করেছিল। 

– ইবনে হাতেম বর্ণিত হাদীসে এরই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসংগে রাসূল সা. বক্তব্য পাওয়া যায়। নবী সা. বলেনঃ বনী ইসরাঈল একই সময়ে ৪৩জন নবীকে হত্যা করেছিল। তাদের এই গর্হিত কাজের জন্য ১৭০জন আলেম তাদেরকে উপদেশ দিতে গেলে তারা তাদেরকেও হত্যা করে।  (বায়ানুল কুরআনঃ রুহুল মায়ানী)

**  فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ (তাদের কঠিন শাস্তির সুসংবাদ দাও)

– এটি একিট ব্যাংগাত্মক বর্ণনাভংগী৷

– এর অর্থ হচ্ছেঃ যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার বা নবী এবং ভাল মানুষদের হত্যার মতো জগন্য কাজ করে নিজেরা আনন্দে আত্মহারা আর মনে করছে তারা খুবই ভাল কাজ করছে, তাদেরকে তাদের কাজের প্রতিফল জানিয়ে দাও।

– প্রতিফলটা কি তা পরের আয়াতে বর্ণনা করা হচ্ছে।

** أُولَٰئِكَ الَّذِينَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ (এরা এমন সব লোক যাদের কর্মকাণ্ড (আমল) দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই নষ্ট হয়ে গেছে)
– আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করা, নবী এবং দ্বীনের মুজাহিদদের হত্যা করা ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে তারা তাদের আমলকে বরবাদ করে ফেলেছে। তা দুনিয়াতে যেমন, আখেরাতে তেমন।
– অর্থাৎ তাদের শক্তি সামর্থ এবং চেষ্টা-প্রচেষ্টা এমন কাজে ব্যয় করেছে, তার ফল যেমন ‍দুনিয়াতে খারাপ আখেরাতেও খারাপ।
 
** وَمَا لَهُم مِّن نَّاصِرِينَ (এবং এদের কোন সাহায্যকারী নেই)
– এই ধরণের অপরাধী যারা তাদের এই পরিণতি নির্দিষ্ট হয়ে গেলো। এটা আল্লাহ করবেনই। বিধায় এমন কোন শক্তি নেই, যে শক্তি তাদের এই ভূল চেষ্টা-সাধনা এবং অসৎ কাজকে সুফলদায়ক করতে পারবে অথবা এই সব কাজের যে খারাপ পরিণতি আছে, তা থেকে তাদেরকে বাঁচাতে পারবে।
– দুনিয়া বা আখেরাতে অথবা দুই জায়গাই তারা যে শক্তির উপর ভরসা করে যে, ঐ শক্তি সমূহ তাদের কাজে লাগবে। সেই সব কোন শক্তিই তাদের কোন সাহায্য করতে পারবেনা।

** أُوتُوا نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ (কিতাবের জ্ঞান থেকে যারা কিছু অংশ পেয়েছে)

– কিতাব বলতে এখানে বুঝানো হচ্ছেঃ তাওরাত আর ইঞ্জিল।

– কিতাবের জ্ঞান থেকে কিছু অংশ যারা পেয়েছে, তারা হলোঃ ইহুদী ও খৃষ্টান।

** يُدْعَوْنَ إِلَىٰ كِتَابِ اللَّهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ (তাদের যখন আল্লাহর কিতাবের দিকে সে অনুযায়ী তাদের পরস্পরের মধ্যে ফায়সালা করার জন্য আহবান জানানো হয়)

– এই দুই পক্ষকেই আহবান করা হয়ঃ

১. আল্লাহর কিতাবকে চূড়ান্ত সনদ হিসেবে মেনে নাও।

২. আল্লাহর ফায়সালার কাছে মাথা নত করে দাও।

** مَّ يَتَوَلَّىٰ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ وَهُم مُّعْرِضُونَ (তখন তাদের মধ্য থেকে একটি দল পাশ কাটিয়ে যায় এবং এই ফায়সালার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়)

– কিন্তু চূড়ান্ত ভাবে তাদের একটা দল পাশ কাটিয়ে যায় এবং আল্লাহর ফায়সালা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

– তারা এটা কেন করে?

কারণ তারা মনে করেঃ

ক. তারা নিজেরা আল্লাহর প্রিয় পাত্র।

খ, তাদের ধারণা তারা যাই করুক না কেন, জান্নাত তাদের নামে লিখে দেয়া হয়ে গেছে। কেননা, তারা ঈমানদার গোষ্ঠী, তারা অমুকের সন্তান, তারা ওমুকের উম্মত, তারা অমুকের মুরিদ, তারা অমুকের হাতে হাত রেখেছে। বিধায় জাহান্নামের আগুনের ক্ষমতা নাই তাদেরকে স্পর্শ করার।

গ. তারা মনে করে, যদি কোন কারণে এক্সিডেন্টলি তাদেরকে জাহান্নামে দেয়া হয়, তাহলে তা মাত্র কিছু দিনের জন্য। তাদের শরীরের খারাপ যে দাগ গুলো আছে, তা ধুয়ে মুছে আবার তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে আসা হবে।

** তাদের এই চিন্তা ধারার পরিণাম হলোঃ

– তাদের এই চিন্তাধারা তাদেরকে নির্ভিক বানিয়ে দিয়েছে।

– এর ফলে তারা নিশ্চিন্তে কঠিন কঠিন অপরাধ করে, নিকৃষ্টতম গোনাহ করে, প্রকাশে বিরোধিতা করে।

– তাদের কার্যক্রমে তাদের মনে সামান্যতম আল্লাহর ভয় জাগতো না।

– উপরোক্ত আয়াত দুইটিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুমিনদেরকে কাফেরদের উপর বিজয়ী হওয়ার জন্য একটা দোয়া শিক্ষা দিচ্ছেন।

– একই ভাবে এই আয়াতে দোয়ার মাঝে কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার ইংগিত প্রদান করা হচ্ছে।

শানে নুযুলঃ

এটা সেই সময়ে নাযিল হয়, যখন ওহুদ ও বদর ‍যুদ্ধের পর সারা দুনিয়ার কাফেররা সম্মিলিত আক্রমনের প্রস্তুতি নিয়েছিল মদীনা রাষ্ট্রকে নির্মূল করার জন্য। মুশরিক, ইহুদী, খৃষ্টান মিলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠন করেছিল। ইসলাম আর মুসলিমানদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার সংকল্পে মদীনাকে চারদিক থেকে অবরোধ করা হলো। কুরআনে এই যুদ্ধকে বলা হয়েছে “গাযওয়ায়ে আযহাব” আর ইতিহাসে “খন্দকের যুদ্ধ” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যে যুদ্ধে হযরত সালমান ফারসী রা. এর পরামর্শে রাসূল সা. মদীনার হেফাজতের জন্য পরিখা খনন করেন।

এই পরিখা খননে ১০জন সাহাবীকে ৪০ হাত জায়গা খননের দায়িত্ব দেয়া হয়। রাসূল সা. স্বয়ং এই খনন কাজে সরাসরি অংশ নেন।

খনন কাজের এক পর্যােয়ে বড় ধরণের একটি পাথর বের হয়। যা কোনভাবেই ভাংগা যাচ্ছিলনা। ঘটনা হযরত সালমানের মাধ্যমে রাসূল সা.এর কাছে পৌছানো হলো। রাসূল সা. নিজে আসলেন। কুদাল দিয়ে পাথরের উপর আঘাত করলেন। পাথর থেকে এক ঝলক আলো বিচ্চুরিত হলো। পাথরটি ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেল। রাসূল সা. বললেনঃ এই আলোকচ্ছটায় আমাকে হীরা ও পারস্যের রাজপ্রাসাদ দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয়বার আঘাত করলেন। একই ভাবে আলোকচ্ছটা বের হলো। রাসূল সা. বললেনঃ এই আলোকচ্ছটায় আমাকে রোম সাম্রাজ্যের লাল বর্ণের রাজপ্রাসাদ ও দালান কোটা দেখানো হয়েছে। তৃতীয়বার আঘাতে একই আলোচ্ছটা বের হওয়ার পর তিনি বললেনঃ এই আলোকচ্ছটায় আমাকে সানাআ ইয়ামানের সুউচ্চ রাজপ্রাসাদ দেখানো হয়েছে। 

রাসূল সা. আরো বললেনঃ আমি তোমাদের সুসংবাদ দিচ্ছি, জিব্রাঈল আমাকে বলেছেন যে, আমার উম্মত অদূর ভবিষ্যতে এসব দেশ জয় করবে।

এটা শুনে যারা মুনাফিক এবং ইহুদী-তারা বিদ্রোপ করতে থাকে। তারা বলতে থাকেঃ দেখ, প্রাণ বাঁচানো যাদের পক্ষে দায়, যারা শত্রুর ভয়ে আহার নিদ্রা ত্যাগ করে দিবারাত্র পরিখা খননে ব্যস্ত, তারাই কিনা পারস্য, রোম, ইয়ামেন জয় করার দিবাস্বপ্ন দেখছে। 

এই প্রেক্ষিতে এই আয়াত দূ’টি নাযিল হয়।

** تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ (তুমি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের মধ্যে)

– এর মানে কোন কোন ঋতুতে রাতের অংশকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, ফলে দিন বড় হতে থাকে। আবার কোন কোন ঋতুতে দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, ফলে রাত বড় হতে থাকে।

** وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ (জীবনহীন থেকে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটাও এবং জীবন্ত থেকে জীবনহীনের)

– প্রাণ হীন থেকে প্রাণীকে বের করা। যেমনঃ ডিম থেকে বাচ্চা, মানব থেকে বীর্য, বৃক্ষ থেকে ফল ও সুষ্ক বীজ।

– আর প্রাণহীন বস্তুকে প্রাণী থেকে বের করা।  যেমন পাখি থেকে ডিম।

– এর একটা ব্যাপক অর্থ রয়েছে। আর তাহলোঃ

কাফেরের ঔরসে মুমিন আবার মুুমিনের ঔরসে কাফির, মূর্খের ঔরসে বিদ্যান আবার বিদ্যানের ঔরসে মূর্খ পয়দা করতে পারেন। আযরের ঘরে ইব্রাহীম, নূহের ঘরে কেনান।

** وَتَرْزُقُ مَن تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ (আর যাকে চাও তাকে তুমি বেহিসেব রিযিক দান করো)

– এখানেে ঈমানদারদের মনের কিছু প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে। যা তৃতীয় হিজরী বা তার কাছাকাছি সময়ে নবী সা. ও তার সাহাবীদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

– ঈমানদাররা দেখে-কাফেরদের অবস্থাঃ তাদের বিত্ত ও প্রাচূর্য দিনে দিনে বেড়ে যায়।

 – ঈমানদাররা দেখে-মুসলমানদের অবস্থাঃ

১. তাদের আনুগত্য।

২. তাদের দারিদ্র।

৩. তাদের অভাব অনাহরের জর্জরিত জীবন।

৪. তাদের উপর একের পর এক বিপদ মুসিবত দূঃখ দূর্দশা।

এই আয়াতের ফজিলতঃ

ইমাম বগভীর একটি হাদীসে রাসূল সা. বলেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আলে ইমরানের (১৮ নম্বর আয়াত) شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ  এবং قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ থেকে وَتَرْزُقُ مَن تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ পর্যন্ত পড়বে, আমি তার ঠিকানা জান্নাত করে দেবো, আমার নিকটে স্থান দেবো, দৈনিক ৭০বার তার প্রতি রহমতের নজর দেবো, তার ৭০টি প্রয়োজন পুরণ করবো,  শত্রুর কবল থেকে রক্ষা করবো, শত্রুর বিরুদ্ধে তাকে জয়ী করবো।

** ا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ (মু’মিনরা যেন ঈমানদারদের বাদ দিয়ে কখনো কাফেরদেরকে নিজেদের পৃষ্ঠপোষক, বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে গ্রহণ না করে)
– এটা হচ্ছে মৌলিক কথা। এর মাঝে কোন ধরণের কোন ফাঁক নাই। এখানে ইজতিহাদের কোন সুযোগ নাই।
 
** وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ (যে এমনটি করবে, আল্লাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই)
– বরং এর বিপরীত করা হলে তার জন্য পরিণাম হলোঃ আল্লার সাথে সম্পর্কচ্ছুত হবে।
– তবে এক্ষেত্রে যা রুখসাত আছে, তা বর্ণনা করা হচ্ছে পরের অংশে।
 
** إِلَّا أَن تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً  (তবে হ্যাঁ, তাদের জুলুম থেকে আত্মরক্ষার জন্য তোমরা যদি বাহ্যত এ নীতি অবলম্বন করো তাহলে তা মাফ করে দেয়া হবে)
– আত্ম রক্ষার জন্য বাহ্যিক সম্পর্ক রক্ষাকারীরা এর আওতায় নয়।
– এর মানে এই সম্পর্কটা অন্তরের সাথে সম্পর্কিত।
– যেখানে আত্মরক্ষার সম্পর্ক নেই। যেখানে সম্পর্ক বৃদ্ধির সম্পর্ক সেখানে এই নীতি কার্যকর নয়।
– আত্মরক্ষা মানে কিঃ
১. যদি কোন মুমিন ইসলামের দুশমনদের ফাঁদে আটাক পড়ে, তাদের জুলুম-নির্যাতনের আশংকায় থাকে। এ অবস্থায় সাময়িক কাফেরদের একজন সেজে চলা যাবে।
২. মুসলমান হয়ে গেছে এই কথা প্রকাশ হয়ে যাবার পর যদি নিজের প্রাণ বাঁচাবার জন্য কাফেরদের প্রতি বন্ধুত্ব মনোভাব প্রকাশ করা যাবে।
৩. কঠিন ভয়ভীতি ও আশংকাপূর্ণ অবস্থায় সহ্য শক্তি হারিয়ে ফেললে কুফুরী বাক্য মুখে উচ্চারণ করা যাবে।
 
– এর পর আল্লাহর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কথা বলা হচ্ছেঃ
** وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ۗ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ (কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের সত্তার ভয় দেখাচ্ছেন আর তোমাদের তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে)
– এখানে উপরোক্ত পরিস্তিতির পরের কথা বলা হচ্ছে যে, মানুষে ভয় যেন এমন ভীতু করে না ফেলে যে, আল্লাহ ভয় মন থেকে মুছে যায়।
– মানুষের ভয়ের সীমা দুনিয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। যা পার্থিক বা বৈষয়িক স্বার্থের ক্ষতি হওয়ার ভয়।
– আল্লাহ ভয় চিরস্থায়ী আযাবে নিক্ষিপ্ত হবার ভয়।
– নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য কাফেরদের সাথে আত্মরক্ষামূলক বন্ধুত্বনীত হলোঃ
ক. ইসলামের মিশন, ইসলামী সংগঠনের স্বার্থ, কোন দ্বীন ভাইয়ে জান ও মালে ক্ষতি না করে নিজের জানমালের হেফাজত করা।
খ. কোন অবস্থায় কুফর বা কাফেরদেরে এমন খেদমত করা যাবেনা, যা ইসলামের মোকাবেলায় কুফরীর বিস্তার লাভ করে।
গ. এমন নীতি অবলম্বন করা যাবেনা, যাতে কাফেরদের বিজয় লাভ বা  আধিপত্য বিস্তারের পথ প্রশস্ত হওয়া সম্ভাবনা দেখা দেয়। 
ঘ. যদি আল্লাহ দ্বীন, ইসলামী সংগঠন বা কোন দ্বীনি ভাইকে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয় অথবা আল্লাহদ্রোহীদের খেদমত করা হয়, তাহলে আল্লাহ পাকড়াও থেকে রক্ষা পাওয়া যাবেনা। তার কাছে যেতেই হবে।
 
– অমুসলিমদের সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক বিষয়ে কুরআনঃ
সূরা আন নাহলঃ আয়াত ১০৬
مَن كَفَرَ بِاللَّهِ مِن بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ (যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর কুফরী করে, (তাকে যদি) বাধ্য করা হয় এবং তার অন্তর ঈমানের ওপর নিশ্চিন্ত থাকে (তাহলে তো ভালো কথা))
সূরা আল মুমতাহিনাঃ আয়াত ১
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِالْمَوَدَّةِ
(হে ঈমানদারগণ, আমার ও তোমাদের শত্রু অর্থাৎ কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করোনা যে, তাদের কাছে তোমরা বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাবে।)
আয়াতের শেষে বলা হয়েছেঃ
وَمَن يَفْعَلْهُ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ (তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিই এরূপ করে নিশ্চিন্তভাবেই সে সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে)
সূরা আল মায়িদাহঃ আয়াত ৫১
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ (হে ঈমানদারগণ ! ইহুদী ও খৃস্টানদেরকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না৷ তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু ৷ আর যদি তোমাদের মধ্য থেকে কেউ তাদেরকে বন্ধু হিসেবে পরিগণিত করে তাহলে সেও তাদের মধ্যেই গণ্য হবে)
সূরা মুজাদালাহঃ আয়াত ২২
ا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ (তোমরা কখনো এমন দেখতে পারে না যে, যারা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান পোষণ করে তারা এমন লোকদের ভাল বাসছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করেছে৷ তারা তাদের পিতা, অথবা পুত্র অথবা ভাই অথবা গোষ্ঠীভুক্ত হলেও তাতে কিছু এসে যায় না)
 

সরা আল কিয়ামাহঃ আয়াত ১৩

يُنَبَّأُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ (সেদিন মানুষকে তার আগের ও পরের কৃতকর্মসমূহ জানিয়ে দেয়া হবে)

 

** وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ (আর তিনি নিজের বান্দাদের গভীর শুভাকাংখী)

– উপরে যে সব বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে, তা এজন্য করা হয়েছে যে, আল্লাহ যে মুমিনদের শুভাকাংখী-এটা তার প্রকাশ।

অসমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here