চাকুরী প্রার্থীরা যে সব বড় ধরনের ভূল থেকে বেঁচে থাকা উচিত

মুহাম্মদ নজরুল ইসলামঃঃ আপনি যখন কোন চাকুরী অনুসন্ধান করবেন, তখনই আপনাকে অত্যন্ত মনযোগী হয়ে আপনার সিভি বা জীবন বৃত্তান্ত, কাভারিং লেটার অথবা ই-মেইলকে রাখতে হবে সম্পূর্ণ ত্রুটি মূক্ত। বর্তমান সময়ে জব মার্কেট বা কাজের বাজারটি অত্যন্ত প্রতিযোগীতামূলক। আপনার একটি মাত্র টাইপিং মিসটেক আপনাকে আপনার কাংখিত চাকুরীটিতে অযোগ্য ঘোষনা করতে পারে বা আপনি একটি সুন্দর সুযোগকে হাতছাড়া করতে পারেন।

আমাদের কয়েকটি পরামর্শ বা কৌশলের অনুসরণ আপনার চাকুরী পাওয়া বা চাকুরী ইন্টারভিউতে অংশ গ্রহণ ইত্যাদিতে আপনার সুযোগ বা সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

চাকুরী প্রার্থীরা সাধারণ ভাবে কিছু ভূল করে থাকেন, যা নিম্নে উল্লেখ করা হলো, যার প্রতি আপনাকে সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে সে সব ভূল যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবেঃ

১. বানান ভূল এবং ব্যাকরণগত ত্রুটিঃ চাকুরীর দরখাস্ত, জীবন বৃত্তান্ত বা সিভি অথবা ই-মেইল পাঠানোর পূর্বে তা ভাল ভাবে চেক করে নিন। প্রুফ রিডিং-এ দক্ষ এমন কাউকে দিয়ে প্রয়োজনে দেখিয়ে নিন। মনে রাখবেন, নিজের ভূল নিজের কাছে ধরা পড়েনা। তাই আপনি বারবার চেক করে নিন বা করিয়ে নিন, যাতে আপনার দরখাস্ত বা সিভিতে কোন ধরণের বানান ভূল বা ব্যাকরণগত ত্রুটি না থাকে। মনে রাখবেন, আপনার একটি বানানের ভূল অথবা ব্যাকরণগত ত্রুটি আপনার চাকুরী দাতাকে এই বার্তা দেয় যে, আপনি যথেষ্ট মনযোগী নন। 

প্রয়োজনে আপনি প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে আপনার সিভি বা দরখাস্ত দেখিয়ে নিতে পারেন।

২. দীর্ঘ সিভি বা জীবন বৃত্তান্তঃ আপনি প্রাইমারী থেকে মাষ্টার ড্রিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাগত জীবনের সকল অধ্যায় পাই পাই করে সিভিতে উল্লেখ করার প্রয়োজন নাই। আপনি আপনার শিক্ষাগত জীবনের সবচেয়ে ভাল সাফল্য এবং সর্বশেষ সার্টিফিকেটটি বিবরণ লিখুন, যা চাকুরী দাতাকে আকর্ষিত করে। শিক্ষাগত জীবনের ফিরিস্তি গেয়ে আপনি চাকুরী দাতাকে বিরক্ত করবেন না। একই ভাবে আপনার সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা গুলো শেয়ার করুন। প্রাইমারী বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আপনি কি করেছেন, আপনার কি কি শখ আছে ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।

আপনার সিভিটি এমন ভাবে তৈরী করুন, যাতে আপনার সেরা পারফরমেন্সটি সিভি হাতে নিতেই নিয়োগ কর্তার চোঁখে পড়ে।

৩. দীর্ঘ কাভারিং লেটার বা দরখাস্তঃ অনেক চাকুরী প্রার্থী সিভির সাথে একটি কাভারিং লেটার এড করে থাকেন অথবা একটি দরখাস্ত প্রদান করে থাকেন। এই দরখাস্ত বা কাভারিং লেটার একটি ফরমালিটি মাত্র। আপনার সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সংযুক্ত সিভি থেকেই পাওয়া যায়। বিধায় দীর্ঘ কাভারিং লেটার বা দরখাস্ত লিখা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, আপনার ব্যক্তিগত সমস্যা বা পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগকর্তা আপনাকে চাকুরী দিচ্ছেন না। তিনি চাকুরী দিচ্ছেন তার প্রয়োজনটি আপনার মাধ্যমে পূরণ করার জন্য। বিধায় ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা ব্যাখ্যা করা থেকে বিরত থাকুন। 

আপনি দরখাস্তের মধ্যে এটাই উপস্থাপন করুন যে, আপনি কেন এই পদবীর জন্য উপযুক্ত।

৪. পদবীর সাথে যোগ্যতা মিলিয়ে দরখাস্তঃ আপনি ট্রাভেল এজেন্সীতে চাকুরীর জন্য দরখাস্ত দিলেন, অথচ এই বিষয়ে আপনার কোন অভিজ্ঞতা নাই। এমন কি আপনি মাইক্রোসফট অফিসের কমন প্রোগ্রাম গুলোই জানেন না। চাকুরীদাতা যদি কোন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন, তাহলে আপনাকে চাকুরী দিতে পারেন।

বিধায় আপনি যে পদের জন্য দরখাস্ত দিচ্ছেন, সে পদের জন্য আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা কোন পর্যায়ে তা একটি ভেবে নিন। যে পদের জন্য বিজ্ঞাপন প্রদান করা হয়েছে, তার সাথে আপনার যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা না মিললে দরখাস্ত করা থেকে বিরত থাকুন।

৫. রেফারেন্স থাকাঃ চাকুরীর সিভিতে আপনার সম্পর্কে জানার জন্য রেফারেন্স উল্লেখ করার একটি বিধান আছে। আপনার মামা, খালু বা ভাই আপনার জন্য ভাল রেফারেন্স হতে পারেন না। আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পূর্ববর্তী কর্মস্থল থেকে আপনার রেফারেন্স থাকা উত্তম। রেফারেন্সে যাদের নাম উল্লেখ করবেন, তারা যেন আপনার নাম শুনার সাথে সাথে আপনাকে চিনতে পারে-সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। সিভিতে তাদের কন্টাক্ট নম্বর থাকা একান্ত জরুরী।

৬. ইন্টারভিউর জন্য আপনার পোষাকঃ আপনি যখন ইন্টারভিউ দিতে যাবেন, তখন একথা মনে রাখবেন যে, আপনার নিয়োগকর্তার সাথে আপনার প্রথম সাক্ষাৎ, বিধায় আপনার ড্রেস দেখে তার আপনার সম্পর্কে প্রথম ধারণা তৈরী হবে। বিধায় আপনাকে দেখে যাতে গোবেচারা মনে না হয় আবার অভার স্মার্ট মনে না হয়। আপনি অবশ্যই প্রফেশনাল পোষাক পরে যাবেন। কিন্তু অত্যাধিক সাজ গোজ থেকে বিরত থাকবেন।

মহিলা চাকুরি প্রার্থীর প্রতি পরামর্শ হচ্ছে, সিম্পল গহনা নিন। অত্যাধিক গহনা থেকে বিরত থাকুন। সাধারণ ধরণের মেক-আপ নিন, চোঁখ ধাঁধানো ও আকর্ষণীয় মেক-আপ থেকে বিরত থাকুন।

৭. মৌখিক সাক্ষাৎকারঃ আপনাকে যদি প্রাথমিক বাঁচাই করে সরাসরি মৌখিক সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়, তাহলে আপনি আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনি প্রতিষ্ঠানের কি করতে পারবেন এবং আপনি কিজন্য এ পদের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করছেন, তা বলিষ্টতার সাথে উপস্থাপন করুন।

৮. ফলোআপঃ আপনি সাক্ষাৎকার প্রদানের ১ সপ্তাহ পর নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। যা আপনাকে একটি সুযোগ করে দিতে পারে। আপনার সম্পর্কে নিয়োগ কর্তার ধারণা পরিবর্তন করে দিতে পারে। টেলিফোনে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ধন্যবাদ জানিয়ে ই-মেইল করতে পারেন।

আপনি কি চাকুরী প্রার্থী? নিচের লিংকে ক্লিক করে আপনি চাকুরী সংক্রান্ত আপনার প্রয়োজনীয় সহযোগতা নিতে পারেনঃ  কাতারে চাকুরী খুঁজছেন? আপনার সহায়তায় আমাদের নিবেদন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here