কাতারে কাতারীর জানাযার নামায

আজ আমার এক কাতারী কলিগের জানাযার নামাযে হজির হলাম। টগবগে এই তরুণটি বিয়েতে হাজির হয়েছিলাম 3/4 বছর আগে। জীবনের রঙ্গিন স্বপ্নগুলো অবাস্তবায়িত রেখে তাকে চলে যেতে হলো। আমাদেরও একদিন এভাবে চলে যেতে হবে।
জানাযার পর দাফনে শামীল হলাম।সরকারী ব্যবস্থাপনায় করে মাটি দিয়ে কবরকে সুন্দর করা হলো। আমরা সবাই দূরে দাড়িয়ে তা দেখলাম। এক সময় একজন মুতাওয়া ঘোষনা করলেন, সবাই একে একে এসে কবরে মাটি দিতে। আমরা সবােই করবে মাটি দিলাম। ঘোষনা করলামঃ মিনহা খালাকনাকুম, ওয়া ফীহা নুয়ীদুকুম, ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা।
কবরে মাটি দেয়ার পর একই মুতাওয়া মরহুমের মাগফিরাত কামনার জন্য খালিস দিলে দোয়া করতে বললেন। তিনি এসম্পর্কে ৪/৫টি হাদীস বর্ণনা করলেন। এরপর সবাইকে ব্যক্তিগত ভাবে দোয়া করতে বললেন। সবাই হাত উঠিয়ে দিল খোলে দীর্ঘ সময় নিয়ে দোয়া করলাম মরহুমের জন্য।
জানাযায় উপস্থিতির সংখ্যা ৩শ এর কম হবেনা। এর মাঝে বৃদ্ধ বা পৌড় ২০ থেকে ২৫ জনে। কিশোর ৫ বা ৭ জন হবে। বাকি সবাই যুবক। যাদের প্রত্যেরেক পকেটে কমপক্ষে ২টা করে মোবাইল রয়েছে। জানাযা থেকে দাফন পর্যন্ত। দীর্ঘ সময়ে কারো হাতে একটা বারের জন্য মোবাইল দেখলাম না। কাউকে সেলফী নিতে দেখলাম না। কাউকে ছবি উঠাতে দেখলাম না। কারো চেহারায় হাসি দেখলাম না। জানাযা শেষে মরহুমের আব্বা এবং ভাইয়ের সাথে সবাই কুলাকুলি করলেন। আমরাও কুলাকুলি করলাম। কাতারের এতো উন্নত একটি দেশে সকলের পকেটে পকেটে মোবাইল থাকার পরও একটি ছবি না উঠানোর বিষয়টি আমার মনে দাগ কেটেছে।

২০১৭, ০৫ নভেম্বর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here