জেনে নিন টিভির পিছনে কিভাবে নামাজ পড়বেন এবং কারেন্ট চলে গেলে কি করবেন??

0
61

আজিজুল ইসলাম আজিজঃঃ আমার বাসায় টিভি নাই তাই পাশের বাসায় গেছি তারাবির নামাজ জামাতের সাথে আদায় করার জন্য!

গিয়ে দেখি আমি ছাড়াও যাদের বাসায় টিভি নাই এমন পাঁচ/ছয় জন আসছে জামাতে নামাজ পড়তে, প্রথমেই প্রবলেম হলো টিভি কোনদিকে রাখা হবে সেটা নিয়ে, একগ্রুপ বললো উত্তর দক্ষিন করে রাখতে আরেক গ্রুপ বললো পূর্ব পশ্চিমে রাখতে৷

দীর্ঘ আলোচনা পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হলো টিভি পুবে পশ্চিমে রাখা হবে!

এবার সমস্যা হলো টিভি যদি সামনে রাখা হয় তাহলে টিভির তার কারেন্ট এর সকেট পর্যন্ত যায় না। পিছনে রাখলে মোটামুটি হয়,,,আবার আলোচনায় বসলাম টিভি সামনে না পিছনে রাখা হবে তা নিয়ে৷

এক মুরুব্বি রাগ করে বাসায় গিয়া ইয়া বড় একটা মাল্টিপ্লাগ নিয়া আসছে। বললো চলেন মাঠে চইলা যাই মাঝখানে টিভি রাইখা চতুর্দিকে গোল হয়ে দাড়াবো!

বুদ্ধিটা খারাপ না কিন্তু এভাবে তো মাঠে গেলে সিজদা অবস্থায় যদি পুলিশ জায়গা মতো দেয় তাইলে তো টিভি বাসায় ফেরত আনার টাইমও পামু না!

আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হলো টিভি সামনেই রাখা হবে যেহেতু তার বড় আছে আর কোনো সমস্যা হবে না! এবার নামাজে দাড়ানো যায়!

পিছন থেকে এক মুরুব্বি বলে উঠলো, টিভি কি মাটিতে রাখা হবে? না কোনো টেবিলে??

আবার সবার মাথায় হাত,,ধুর কি এক বিপদ রে বাবা!! একজন দীর্ঘক্ষন চুপ করে থেকে জ্ঞানীদের মতো করে বললো, আমি শুনেছি ইমাম মাটিতে পা না রাখলে নামাজ হবে না। সুতরাং টিভি মাটিতে রাখতে হবে!

অপর গ্রুপ বললো টেবিলে রাখলেও তো হয়, কারন টেবিলের পা তো মাটিতেই থাকে! যেমন বিমানে বসে নামাজ পড়ার মতো! আবার তর্ক বিতর্কের পর সিদ্ধান্ত হলো টিভি টেবিলে রাখা হবে!

এদিকে নামাজ শুরু হয়ে গেছে কয়েকজন তরিঘরি নামাজে দাড়িয়ে গেলো! তিন কাতার লোক,,,মধ্য খানের একজন বলে উঠলো যারা হাত বেঁধেছেন তারা হাত ছাড়েন, আপনাদের নামাজ হবে না,,কারন নিয়ত করেন নি আপনারা৷

আমি হাত ছেড়ে দিয়া দাড়াইয়া আছি একজন ছাড়ে নাই, পাশের জন ধাক্কা দিয়া তারে ফেলে দিছে। এটা নিয়ে দু’জনে তুমুল ঝগড়া। এক পর্যায়ে রাগ করে একজন এই বলে চলে গেলো যে, আমি কালই টিভি আনমু দেখি কে ঠেকায়!

যাই হোক পরিস্থিতি শান্ত হতে হতে ইমামের দুই রাকায়াত শেষ! টিভির মালিক টিভি বন্ধ করে দিছে!

বললো আগে আলোচনা তারপর টিভি চালামু,,সবাই আলোচনা শেষ করে সিদ্ধান্ত নিলো নিয়ত সেটাই করা হবে যেটা যুবায়ের মাহমুদ ভাই বলেছিলো অর্থাৎ ইক্তেদাইতু হাজাল এলসিডি টিভি,,নিয়তের কথাটা আমিই বলেছিলাম!

নামাজে দাড়ালাম,,মনযোগ দিয়া এক রাকাত আদায় করতেই টিভি ওয়ালার ছোট বাচ্চা আইসা রিমোট টিপে একটা ভারতের চ্যানেল চালাইয়া দিছে। সেই চ্যানেলে বড় লোকের বেটির গান চলতাছে,,,এক মুরুব্বি ছিহ্ ছিহ্ বলে নামাজ ছাইড়া দিছে। আমি চুপচাপ টিভির দিকে তাকাইয়া আছি কি করবো বুঝতাছি না,,নামাজ ছাড়বো না ধরে রাখবো! একে একে সবাই নামাজ ছেড়ে দিছে!

এভাবে নামাজ পড়া যায়,! সবাই টিভি ওয়ালারে রাগারাগি করতাছে ব্যাচারা রাগের মাথায় বাচ্চাটারে উত্তম মাধ্যম  ক্যালানি দিয়া ভিতরে রাইখা দরজা বন্ধ করে দিছে!

এবার নিশ্চিন্ত ভাবে নামাজে দাড়ালাম। এক রাকায়াত এখনও শেষ হয় নাই, এরই মধ্যে টিভি ওয়ালার দশ বছরের পোলায় আইসা জোড়ে জোড়ে বললো ছিহ্ ছিহ্ ওনারা নামাজ পড়তাছে আর কে জানি টিভি চালাইয়া দিছে এইটা বইলা টিভি বন্ধ করে ঘরে চইলা গেছে,,,এদিকে দ্বিতীয় সিজদা দিয়া সিজদায় বইসা আছি। ইমামের কোনো আওয়াজ পাইতাছি না। পাশ থেকে একজন কানে কানে কইলো ভাই কোনো সারা শব্দ নাই কেন?

উনি উঁকি দিয়া বলে উঠলো টিভি বন্ধ সবাই নামাজ ছাড়েন!

দুই’রাকাত নামাজও ঠিক মতো পরতে পারতাছি না। এবার দরজা ভালো মতো তালা লাগিয়ে নামাজে দাড়াইছি!! দেখি কোন শালায় টিভি বন্ধ করে,,,!

প্রথম রাকাতের প্রথম সেজদা দিছি ইমামের আর কোনো খবর নাই। এবারও পাশের জন কানে কানে কইলো ভাই, ইমাম কিছু কয় না কেন? কতক্ষন থাকমু সিজদা দিয়া? আমি কিছু কই নাই, তবে পাশের জন কইলো মনে হয় সিজদা দিয়া করোনার জন্য দোয়া করে। আরেকজন কইলো না ইমাম ঘুমাইয়া পরছে মনে হয়৷ এর মধ্যে সামনের কাতার থেইকা এক বুইড়া চেচাইয়া উঠলো, ওই কোন শালা পাছায় চিমটি দিছোস। পিছন থেকে একজন সিজদা অবস্থায় কইলো আগে নামাজ শেষ হোক তারপর বিচার কইরেন! আমি মাথা তুইলা দেখি কারেন্ট চইলা গেছে। তাই টিভি বন্ধ।নামাজ ছাইড়া দরজা খুলে এক দৌড়ে বাসায় আসছি। পিছনে শুনতাছি বুইড়া কইতাছে নামাজ রাখ আগে ওরে ধর! আমারে চিমটি ক্যান দিলো বিচার করমু আগে!

ভয়ে আজ তিনদিন বাসা থেইকা বাইর হই না।ধরতে পারলে ক্যালাইবো নিশ্চিত!! 

এ অবস্থায় টিভি মন্ত্রী কি সিদ্ধান্ত দিবেন??

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here