কাতারের সুপ্রিম কমিটি ফর ক্রাইসিস ম্যানেজম্যান্ট-এর পক্ষ থেকে গত ৮ই জুন ২০২০ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণ বন্ধ হওয়া সকল বিষয় সমূহ পূণরায় খুলে দেয়ার ব্যাপারে একটি রোড ম্যাপ ঘোষনা করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুন থেকে তা শুরু হবে এবং ৪টি পর্যায়ে তা ১লা সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ ভাবে খুলে দেয়া হবে।

 

কাতারে লক ডাউন সম্পূর্ণ উঠিয়ে নেয়ার ৪টি পর্যায়ঃ

 

১৫ই জুন ২০২০ থেকে যে সব কার্যক্রম শুরু হবেঃ

ক. মসজিদ সমূহ খুলে দেয়া হবে। তবে সকল মসজিদ নয়-কয়েকটি নির্ধারিত মসজিদ খোলা হবে। যেখানে ৫ ওয়াক্ত নামায হবে। জুমুয়া আদায় হবে না। উল্লেখ্য যে, 

** মসজিদের বাথরুম বন্ধ থাকবে। বিধায় যারা নামায পড়তে যাবেন, তাদেরকে ঘর থেকে অজু করে যেতে হবে। 

** নিজস্ব জায়নামায সাথে করে নিতে হবে। 

** কুরআন পড়তে হলে নিজ কুরআন সাথে করে নিতে হবে অথবা মোবাইলে ডাউনলোড করা কুরআন পড়তে হবে। 

** মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মুসল্লা বিছানোর জায়গা নির্দিষ্ট করা থাকবে, সেখানে মুসল্লা বিছিয়ে নামায আদায় করতে হবে। 

** যতক্ষণ মসজিদে থাকবেন, ফেইস মাস্ক ও গ্লাভস লাগানো অবস্থায় থাকতে হবে। 

** ভীড় করা যাবেনা, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকদের সহযোগিতা করতে হবে। 

মনে রাখতে হবে যে, সকল মসজিদ খুলা হবে না। কয়েকটি নির্বাচিত মসজিদ খোলা হবে। সে অনুযায়ী যদি আপনার বাসার আশে পাশে মসজিদ খোলা হয়, তাহলে আপনি সেখানে গিয়ে নামায আদায় করতে পারেন। ঘর থেকে বের হতে হলে ‘ইহতিরাজ’ এ্যাপটি মোবাইলে ডাউনলোড করা থাকতে হবে-এই নিয়মও চালু থাকবে।

খ. কাতারের বাহিরে গমন করা যাবে শর্ত সাপেক্ষে। অতি প্রয়োজনে কাতারের বাহিরে সফর করতে হলে শর্ত হচ্ছেঃ  যখন ফিরবেন, তখন এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি বাধ্যতামূলক হোটেল কোয়ারেন্টাইনে চলে যেতে হবে। সরকার নির্ধারিত হোটেলে নিজ খরচে ২ সপ্তাহ অবস্থান করতে হবে।

গ. পার্ক সমূহ খুলে দেয়া হবে-তবে সকল পার্ক নয়। কয়েকটি নির্ধারিত পার্ক খোলা হবে। পার্কে প্রবেশেও বাধ্যবাধকতা থাকবে। শিশুদের প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

ঘ. প্রাইভেট ক্লিনিক সমূহ খুলে দেয়া হবে। তবে সেখানে ৪০% সার্ভিস চালু থাকবে।

ঙ. শপিং মল সমূহ খুলে দেয়া হবে। তবে সেখানে ৩০ % সার্ভিস চালু হবে। একই ভাবে দোকান সমূহের দূরত্ব ৩০০ মিটার হবে।

 

১লা জুলাই ২০২০ থেকে যে সব কার্যক্রম শুরু হবেঃ

ক. সর্বোচ্চ ১০ জনের সমাবেশ বা মিটিং করা যাবে। ১০ এর অধিক লোকের কোন সমাবেশ করা যাবেনা।

খ. আরো মসজিদ সমূহ খোলা হবে। অর্থাৎ ১৫ জুন যে সব মসজিদ খোলা হবে, তার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

গ. সমূদ্রে চলাচলের নৌকা সমূহ চলাচল শুরু হবে।  তবে সর্বোচ্চ ১০জন যাত্রী বহণ করা যাবে।

ঘ. সকল পার্ক, বীচ, কর্ণিশ খুলে দেয়া হবে।

ঙ. অপেন প্লেস সমূহে প্রশিক্ষণের জন্য মিলিত হওয়া যাবে। তবে প্রশিক্ষণ গ্রুপ সমূহে সর্বোচ্চ ১০জন সদস্য থাকবেন।

চ. প্রাইভেট ক্লিনিক সমূহে ৬০% সার্ভিস চালু করা হবে।

ছ. শপিং মল সমূহ খুলে দেয়া হবে। তবে তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী থাকবে।

জ. রেস্টুরেন্ট সমূহ খোলা হবে। তবে সেখানে উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ঝ. মিউজিয়াম, লাইব্রেরী ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা হবে।

ঞ. সরকারী কর্মচারীদের সংখ্যা ২০% থেকে বাড়িয়ে ৫০% এ উন্নীত করা হবে।

 

১লা আগষ্ট ২০২০ থেকে যে সব কার্যক্রম শুরু হবেঃ

ক. সমাবেশ বা মিটিং সমূহে অংশ গ্রহণকারীদের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ৪০-এ উন্নিত করা হবে।

খ. পুরো কাতারে ৫৪টি মসজিদে জুমুয়ার নামায শুরু হবে। বন্ধ থাকা আরো মসজিদ সমূহ খুলে দেয়া হবে। 

গ. ফ্লাইট সমূহ চালু হবে। তবে কেবলমাত্র সেই সব দেশ থেকে ফ্লাইট আসবে, যে সব দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমন কম হচ্ছে। কোন দেশ থেকে কখন ফ্লাইট শুরু হবে, তা পরবর্তী ঘোষনার মাধ্যমে জানানো হবে।

ঘ. ড্রাইভিং স্কুল সমূহ খুলে দেয়া হবে।

ঙ. প্লে গ্রাউন্ড সমূহ খুলে দেয়া হবে। তবে অংশ গ্রহণ কারীদের সংখ্যা ৪০ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

চ. নার্সারী ও কিন্টার গার্টেন সমূহ খুলে দেয়া হবে।

ছ. শপিং মল সমূহে নির্দিষ্ট সময় সূচী অনুযায়ী খোলা রাখা হবে।

জ. রেস্টুরেন্ট সমূহে উপস্থিতির সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হবে।

ঝ. সেলুন, বিউটি পার্লার, হেলথ ক্লাব, জীম, সুইমিং পুল ইত্যাদি খুলে দেয়া হবে।

ঞ. সরকারী অফিস সমূহে কর্মচারীদের সংখ্যা ৮০% এর উন্নীত করা হবে।

 

১লা সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে লক ডাউন সম্পূর্ণ ভাব প্রত্যাহার কর হবেঃ

ক. সকল ধরণের ব্লক খুলে দেয়া হবে।

খ. সকল মসজিদ সমূহ খুলে দেয়া হবে।

গ. বিবাহ শাদীর হল বা অনুষ্ঠানের উপর আরোপ থাকবেনা।

ঘ. সকল মসজিদ সমূহে জুমুয়ার নামায চালু হবে।

ঙ. কনফারেন্স সমাবেশ প্রদর্শনী, উৎসব, খেলাধুলা সব খুলে দেয়া হবে।

চ. পাবলিক বাস সার্ভিস (কারওয়া) ও মেট্রো খুলে দেয়া হবে।

ছ. ফ্লাইট সমূহ চালু হয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলে যাবে।

জ. নানান ধরণের অনুষ্ঠানাধি শুরু হয়ে যাবে।

ঝ. মেডিক্যাল ক্যাম্পিং চালু হবে।

ঞ. নতুন শিক্ষা বর্ষের ক্লাশ চালুর মধ্য দিয়ে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ খুলে দেয়া হবে।

ট. শপিং সেন্টার সমূহ, যাদুঘর, হোটেল-রেস্টুরেন্ট সহ সব কিছু স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলে যাবে।

 

উল্লেখ্য যে,

সকল ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় নির্দেশিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। মাস্ক ও গ্লাভস পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ইত্যাদি বিষয় মেনে চলতে হবে।

উপরোক্ত নির্দেশিকা এক থেকে অপরটিতে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে ভাইরাসের বিস্তার কম হওয়া শর্ত থাকবে। কিন্তু যদি দেখা যায় যে, জনসচেতনতার অভাবে ভাইরাস পূনরায় বিস্তার শুরু হয়ে হয়েছে, তাহলে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবেনা। বরং পূণরায় ব্লক চালু হয়ে যাবে।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here