মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে খিলাফতের দায়িত্ব দিয়ে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। যুগে-যুগে আম্বিয়ায়ে আলাইহিমুসসালাম এ দায়িত্বের স্বার্থক প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নবী-রাসুলগণ প্রত্যেকেই ছিলেন আল্লাহ তায়ালার মকবুল বান্দার অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা ছিলেন স্ব-স্ব সমাজের সেরা মানুষ। শুধুমাত্র দ্বীনের কারনেই সমাজের সেরা মানুষগুলাে বিরােধীতার সম্মুখীন হয়েছেন। প্রায় সকলেই দ্বীনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখােমুখি হয়েছেন। তবুও তারা দমে যাননি, দূর্বলও হননি, আত্নসমর্পনও করেননি। কখনাে কখনাে তাদের জীবনও আল্লাহর রাহে সঁপে দিয়েছেন। কারণ সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। দ্বীনের পথে পরীক্ষা অনিবার্য। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ হার সকলের নিকট আল-আমীন হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। কিন্তু দ্বীনের দাওয়াত শুরু করার সাথে সাথে কাফের-মুশরিকদের পক্ষ থেকে প্রবল বিরােধীতা, জুলুম-নির্যাতন, কারাবরণ, জীবননাশের সম্মুখীন, এমনকি হিজরত করতে বাধ্য হয়েছেন। সেই পথ ধরে খােলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবায়ে আজমাঈনসহ সকল যুগেই সত্যপন্থীদের পরীক্ষা একই। এ পরীক্ষায় তারা অটল-অবিচল থেকে এগিয়েছেন মনজিলের দিকে। এর বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে দুনিয়ার বিজয় এবং আখেরাতে মহাসাফল্যের সু-সংবাদ দিয়েছেন।
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ

“নিশ্চয়ই যারা বলে, ‘আল্লাহ আমার রব’ অতঃপর অবিচল থাকে, ফেরেশতারা তাদের নিকট নাযিল হয় (এবং বলে), “তােমরা ভয় পেয়াে না, দুশ্চিন্তা করাে না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর তােমাদেরকে যার ওয়াদা দেয়া হয়েছিল। (সূরা হামিম আস-সিজদাহ : ৩০)

যেহেতু এ দুনিয়ায় আর নবী-রাসুল আসবেন না। সুতরাং দ্বীনের এ কঠিন জিম্মাদারী উম্মতে মুহাম্মদীকে পালন করতে হবে। এ দায়িত্ব যারাই পালন করবে তাদেরকে একই পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। পরীক্ষার ভিন্নতা যাই হােকনা কেন, বাতিলের বিরােধীতার কারণ এক ও অভিন্ন। স্থান-কাল যতই আলাদা হােকনা কেন বাতিলের জুলুম-নির্যাতন, অপপ্রচার আর কুট-কৌশল যেন একই কারখানায় তৈরী। আল্লাহ বলেন

وَمَا نَقَمُوا مِنْهُمْ إِلَّا أَن يُؤْمِنُوا بِاللَّـهِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ
“ওই ঈমানদারদের সাথে তাদের শত্রুতার এ ছাড়া আর কোন কারণ ছিল না যে তারা সেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল।” (৮৫:০৮)

একবিংশ শতাব্দীর নব্য জাহিলিয়াতের ধ্বজাধারী স্বৈরাচারী শাসক গােষ্ঠীর জেল-যুলুম, অ-মানবিক অত্যাচার-নির্যাতনে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা আজ একই পরীক্ষার সম্মুক্ষিণ । এই পরীক্ষা কোনাে কারণে আসেনি; বরং আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে তা নির্ধারিত। এটিই চিরন্তন। এই সত্য কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এভাবে

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم ۖ مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّىٰ يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَىٰ نَصْرُ اللَّـهِ ۗ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّـهِ قَرِيبٌ
“তােমাদের কি এই ধারণা যে, তােমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লােকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তােমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের ওপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য! তােমরা শােনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।” (সূরা আল-বাকারা, ২১৪)।

অনুবাদঃ ড. রেজাউল করীম

বইটির পিডিএফ ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here