প্রথম কথা হচ্ছে, পৃথিবীর যে কোন দেশ থেকে ১লা আগষ্ট থেকে কাতারে প্রবেশ করা যাবে। কিন্তু কাতারে প্রবেশ করার জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক নির্দেশনা। সারা বিশ্বের দেশ সমূহকে কাতার সরকার ৩টি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে কাতারে প্রবেশের জন্য শর্ত বা নীতিমালা তৈরী করেছে। যা নিম্নরূপঃ

 

একঃ লো রিস্ক কান্ট্রিঃ

এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের ৪০টি দেশ অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ সহ পার্শবর্তী কোন দেশ নেই। তাই আমরা তার বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম। তবে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত বা নীতিমাল হচ্ছেঃ

এই সব দেশের লোক কাতার এয়ারপোর্টে পৌছার পর তাদের করোনা টেস্ট করা হবে এবং রেজাল্ট পজেটিভ হলে সরাসরি আইসোলেশনে প্রেরণ করা হবে। আর রেজাল্ট ন্যাগেটিভ হলে তার এহতেরাজ এপ্লিক্যাশনে হলুদ রং দেখাবে। এর জন্য আগত ব্যক্তিকে এয়ারপোর্টে একটি আন্ডারটেক দিতে হবে যে তিনি নিজ দায়িত্বে তার বাসায় পুরো ১ সপ্তাহ হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করবেন। ১ সপ্তাহ শেষ হওয়ার পর যে সব স্থানে করোনা টেস্ট করা হয়, তিনি সেখানে যাবেন। টেস্ট করানোর পর যদি নেগেটিভ রেজাল্ট আসে, তাহলে আরো ১ সপ্তাহ নিজ ঘরে হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করবেন। এর পর উনি বাহিরে বের হতে পারবেন। আর এই সব টেস্টের প্রেক্ষিতে এহতেরাজ এপ্লিক্যাশন এক সময় সবুজ রং ধারণ করবে। যখন সবুজ হবে, কেবল তখনই বাহিরে বের হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন।

 

দুইঃ কাতার কিছু দেশে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বা মেডিক্যাল সেন্টারকে করোনা টেস্ট-এর জন্য অনুমোদন প্রদান করেছে এমন দেশঃ

এই সব দেশ থেকে যারা আসবেন, তাদেরকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা মেডিক্যাল স্টোর থেকে তাদের শর্ত অনুযায়ী করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে ভ্রমনের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে।  এই সার্টিফিকেট নিয়ে কাতার এয়ারপোর্টে পৌছার পর লো রিস্ক কান্ট্রি সমূহের জন্য যে নিয়ম বলা হয়েছে (১ নম্বরে), একই নিয়ম তাদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

 

তিনঃ কাতার কোন প্রতিষ্ঠান বা মেডিক্যাল সেন্টারকে করোনা টেস্ট-এর জন্য অনুমোদন প্রদান করেনি এমন দেশঃ

এই সব দেশ থেকে যারা আসবেন, তাদেরকে ১ সপ্তাহের জন্য নিজ খরচে হোটেল কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।  এই ১ সপ্তাহ এহতেরাজ এ্যাপ্লিক্যাশন হলুদ কালার দেখাবে। ১ সপ্তাহ পর তার করোনা টেস্ট করা হবে।  টেস্টের রেজাল্ট যদি নেগেটিভ হয়, তাহলে এহতেরাজ এ্যাপ্লিকেশনে সবুজ দেখাবে এবং এমন ব্যক্তি হোটেল ছেড়ে ঘরে চলে যেতে পারবেন। তবে তাকে ১ সপ্তাহ ঘরে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কিন্তু যদি আপনার রেজাল্ট পজেটিভ হয়ে থাকে, তাহলে আপনাকে কোয়ারেন্টাইন থেকে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে।

 

কোম্পানী বা ঘরে যারা স্বল্প বেতনে চাকুরী করেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছেঃ

আপনাকে এয়ারপোর্টে চেক করার পর সরাসরি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে প্রেরণ করা হবে। সেখানে আপনি নির্ধারিত সময় থাকবেন। তার পর টেস্ট করা হবে। টেস্টে যদি রেজাল্ট পজেটিভ হয়ে থাকে, তাহলে আপনাকে সম্পূর্ণ আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে। এজন্য নুন্যতম একটি খরচ আসবে, সেই খরচ স্পন্সর বা কোম্পানী বহন করবে।

কিন্তু এই সব প্রক্রিয়া আপনি কাতারে পৌছার পর। কাতারে পৌছার আগে এমন ব্যক্তিদেরকে প্রথমে কাতার পোর্টাল এর ওয়েব সাইট (portal.www.gov.qa)থেকে এপ্লিক্যাশন করতে হবে। এই পোর্টাল থেকে যখন আপনাকে কাতারে ফিরে আসার অনুমতি প্রদান করা হবে, সেই অনুমতি পত্র নিয়ে টিকেট বুকিং করতে হবে। একই ক্ষেত্রে ভ্রমনের ৪৮ ঘন্টা আগে আপনাকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে।

 

অতিরিক্ত কথাঃ

বিষয়টি সরেজমিনে জানার জন্য আমি ৩টি টিকেট নিয়ে কাতার এয়ারওয়েজ এবং কাতার হলিডে (কাতার ডিসকভার) অফিসে যাই। বাংলাদেশী যাত্রীদের জন্য তাদের বক্তব্য হচ্ছেঃ অবশ্যই কাতার পোর্টাল থেকে প্রথমে অনুমতি পত্র গ্রহণ করতে হবে। তার পর টিকেট কনফার্ম অথবা হোটেল কোয়ারেন্টাইন কনফার্ম করতে হবে। হোটেল কোয়ারেন্টাইনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৩ হাজার রিয়াল খরচ আসবে।

 

অতিরিক্ত পরামর্শঃ

যারা রিটার্ণ টিকেটে কাতার থেকে বাংলাদেশে গিয়েছেন, তারা সরাসরি বাংলাদেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অফিসে গিয়ে অথবা কাতারে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অফিস থেকে টিকেট রিকনফার্ম করবেন। কোন ট্রাভেল এজেন্সী থেকে রিকনফার্ম করাবেন না। এতে করে ভ্রমনের দিনে এয়ারপোর্টে এসে আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here