দারসুল কুরআনঃ সূরা আল মায়িদাহ ০১-০৫

তেলাওয়াত ও সরল অনুবাদঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَوْفُواْ بِالْعُقُودِ أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الأَنْعَامِ إِلاَّ مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تُحِلُّواْ شَعَائِرَ اللَّهِ وَلاَ الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلاَ الْهَدْيَ وَلاَ الْقَلائِدَ وَلا آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِّن رَّبِّهِمْ وَرِضْوَانًا وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُواْ وَلاَ يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَن صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَن تَعْتَدُواْ وَتَعَاوَنُواْ عَلَى الْبَرِّ وَالتَّقْوَى وَلاَ تَعَاوَنُواْ عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُواْ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلاَّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُواْ بِالأَزْلامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلاَ تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِينًا فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَمَا عَلَّمْتُم مِّنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللَّهُ فَكُلُواْ مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَاذْكُرُواْ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ وَاتَّقُواْ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ

الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلُّ لَّهُمْ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ وَلاَ مُتَّخِذِي أَخْدَانٍ وَمَن يَكْفُرْ بِالإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

১. হে মুমিনগণ ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করবে। যা তোমাদের নিকট বর্ণিত হচ্ছে তা ছাড়া গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু তোমাদের জন্য হালাল করা হলতবে ইহরাম অবস্থায় শিকার করাকে বৈধ মনে করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা ইচ্ছে আদেশ করেন।

২. হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ  পবিত্র মাসকুরবানীর জন্য কাবায় পাঠানো পশুগলায় পরান চিহ্নবিশিষ্ট পশু এবং নিজ রবের অনুগ্রহ ও সন্তোষলাভের আশায় পবিত্র ঘর অভিমুখে যাত্রীদেরকে বৈধ মনে করবে না । আর যখন তোমরা ইহরামমুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার। তোমাদেরকে মস্‌জিদুল হালামে প্রবেশে বাঁধা দেয়ার কারণে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনই সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। নেককাজ ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালংঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।

৩. তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু রক্ত শূকরের গোস্ত আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা পশু গলা চিপে মারা যাওয়া জন্তু প্রহারে মারা যাওয়া জন্তু উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া জন্তু অন্য প্রাণীর শিং এর আঘাতে মারা যাওয়া জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু তবে যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া আর যা মূর্তি পূজার বেদীর উপর বলী দেয়া হয় তা এবং জুয়ার তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ণয় করা এসব পাপ কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দীনের বিরুদ্ধাচরণে হতাশ হয়েছে কাজেই তাদেরকে ভয় করো না এবং আমাকেই ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতঃপর কেউ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

৪. মানুষ আপনাকে প্রশ্ন করে তাদের জন্য কী কী হালাল করা হয়েছে বলুন তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে সমস্ত পবিত্র জিনিস। আর শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ  আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে সেগুলোকে তোমরা শিখিয়ে থাক সুতরাং এই (শিকারী পশুপাখি)-গুলো যা কিছু তোমাদের জন্য ধরে আনে তা থেকে খাও। আর এতে আল্লাহর নাম স্মরণ কর এবং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসেব গ্রহণকারী।

৫. আজ তোমাদের জন্য সমস্ত ভালো জিনিস হালাল করা হল ও যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের খাদ্যদ্রব্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্যদ্রব্য তাদের জন্য বৈধ। আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হল যদি তোমরা তাদের মাহর প্রদান কর বিয়ের জন্য প্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী হিসেবে নয়। আর কেউ ঈমানের সাথে কুফরী করলে তার কর্ম অবশ্যই নিস্ফল হবে এবং সে আখেরাতে ক্ষীতগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

নামকরণঃ

সূরার ১১২ নম্বর আয়াতঃ অর্থাৎ ‍”আপনার রব কি আমাদের জন্য আকাশ থেকে একটি খাবার পরিপূর্ণ খাঞ্চা নাযিল করতে পারেন”-এই আয়াতাংশের  مَائِدَةً শব্দটিকে সূরার নাম হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে। 

নাযিলের সময়কালঃ

** হুদায়বিয়ার সন্ধির পরে ৬ষ্ট হিজরীর শেষের দিকে অথবা ৭ম হিজরীর ১ম দিকে।

** সূরার আলোচ্য বিষয় আর হাদীসের বিভিন্ন রেওয়ায়েত প্রমাণ করে যেসূরাটি এই সময়ে নাযিল হয়েছে।

** সূরাটির বর্ণনা দেখে মনে হয় যেপুরো সূরাটি একই সময়ে নাযিল হয়েছে। যদিও কিছু কিছু আয়াত অন্যান্য সময়ে নাযিল হয়েছেকিন্তু বিষয়ের সামঞ্জস্যতার কারণে এখানে এড করা হয়েছে।

** হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তের প্রেক্ষিতে মুসলমানরা এ বছর উমরাহ করার সুযোগ না পেলেও আগামী বছর তারা উমরাহ করতে আসবেন। বিধায় ঐ উমরাহ ছিল পূর্ব প্রস্তুতি ও আয়োজনের উমরাহ। তাই ঐ উমরার নিয়ম কানুন মুসলমানদের বলে দেয়া প্রয়োজন। যাতে শান শওকতের সাথে উমরার সফর সম্পন্ন করা যায়।

** কাফেরদের বাঁধার কারণে চলতি বছরে উমরাহ করতে না পারার ক্ষোভে মুসলমানরা যাতে কাফেরদের উপর কোন স্থানে হামলা করে না বসে। উল্লেখ্য যেঅনেক কাফের গোত্র হজ্জের সফর মুসলিম অধিকৃত এলাকা দিয়েই করতো।

** সূরার শুরুতে এই দুইটি বিষয় যেমন আলোচনা করা হয়েছে১৩ নম্বর রুকুতেও একই ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

** এই আলোচনা থেকে প্রমাণ হয় যে১৪ নম্বর রুকু পর্যন্ত একই সময়ে নাযিল হয়েছে। 

** পরে নাযিল হওয়া আয়াত গুলোর বিষয় একই ধরণের। তাই পাশাপাশি সময়ে নাযিল হয়েছে।

শানে নুযুল বা নাযিলের উপলক্ষঃ

 সূরা আলে ইমরান ও সূরা আন নিসা যখন নাযিল হয়সূরা আল মায়িদা তার অনেক পরে নাযিল হয়। বিধায় আলে ইমরান ও আন নিসা নাযিলের সময় আরবের বিরাজমান পরিবেশ ও পরিস্থিতি আর সূরা আল মায়িদা নাযিলের সময়কার পরিস্থিতির মাঝে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছিল। যেমনঃ

** ওহুদ যুদ্ধে পরাজয়ের কারণে মদীনার নিকটবর্তী পরিবেশও মুসলমানদের বিপদ সংকুল করে তুলেছিল।

** পুরো আরবে ইসলাম একটি অজেয় এবং অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।

** ইসলামী রাষ্ট্রের ব্যাপকতা নজদ থেকে সিরিয়া এবং লোহিত সাগর থেকে মক্কা পর্যন্ত বিরাট এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল।

** ওহুদে মুসলমানরা যে আঘাত পেয়েছিলসে আঘাতের কারণে তাদের হিম্মত ও সাহস দমিত এবং মনোবল নিস্তেজ হওয়ার কথা ছিল। রবং হয়েছে উল্টো। এই আঘাত মুসলমানদের সংকল্প ও কর্মের উম্মাদনা চাবুকের মতো কাজ করেছিল। ফলে তারা আহত সিংহের ন্যায় গর্জে উঠে মাত্র ৩ বছরের পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছিল।

** মুসলমানদের প্রচেষ্টাসংগ্রাম আর ত্যাগের কারণে মদীনার চারপাশে দেড় থেকে দুইশ মাইলের মধ্যে সকল বিরোধী শক্তির দর্প চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

** মদীনায় অবস্থানকারী ইহুদী-যাদের তৎপরতাকে শুকনির ডানা মনে করা হতো-তা চিরকালের জন্য অবসান হয়ে গিয়েছিল। একই সাথে হিজারের আর যত ইহুদী বসতি ছিলতা মদীনা রাষ্টের শাসনের অধীনে চলে এসেছিল।

** ইসলামের উত্থানকে দমানোর জন্য কুরাইশরা সর্বশেষ খন্দকে অভিযান চালিয়ে শোচনীয় ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।

** এমতাবস্থায় আরববাসীদের কাছে আর কোন সন্দেহ রইলনা যেইসলামের এই আন্দোলনকে খতম করার সাধ্য দুনিয়ার আর কোন শক্তির নাই।

** ইসলাম কেবলমাত্র আকীদা-বিশ্বাস ও আদর্শের পর্যায়ে সীমিত নয়নিছক মন আর মস্তিষ্কের উপর রাজত্ব নয়বরং ইসলাম ইসলাম একটি পরাক্রান্ত রাষ্ট্রীয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং রাষ্ট্রের সীমানায় অবস্থানকারী সকল অধিবাসীদের উপরও ইসলামের কর্তৃত্ব ও প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

** মুসলামনদের শক্তি এমন পর্যায়ে পৌছেছিল যেতারা যে চিন্তা ও ভাবধারার উপর ঈমান এনেছিলসেই চিন্তা ও ভাবধারা ছাড়া অন্য কোন আকীদা-বিশ্বাসভাবধারাকর্মনীতি অথবা আইন-বিধানকে নিজেদের জীবনে প্রবেশ করতে না দেয়ার পূর্ণ এখতিয়ার তারা লাভ করেছিল।

** এছাড়াও কয়েক বছরের মধ্যে একটি মুসলিম কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ইসলামী মূলনীতি ও দৃষ্টিভংগীর আলোকে গড়ে উঠিছিল। যার ফলে তারা সকল বিষয়ে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র ভাবমূর্তির অধিকারী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

** নৈতিকতাস্বভাব-চরিত্রআচার-আচরণজীবন যাপন প্রণালীসামাজিক রীতিনীতি সকল ক্ষেত্রে মুসলমানরা অমুসলিমদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।

** ইসলামী রাষ্টের সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মসজিদ এবং সেখানে জামায়াতের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। সকল গোত্রে একজন ইমাম নিযুক্ত হয়েছিল।

** দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন-কানুন বিস্তারিত ভাবে প্রণীত হয়েছিল। আলাদা আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

** ব্যবসা বানিজ্যে পুরাতন রীতি ও নিয়ম রহিত করে সংশোধিত পদ্ধতি চালু হয়েছিল।

** বিয়েতালাইকশরয়ী পর্দাঅনুমতি নিয়ে অন্যে ঘরে প্রবেশ করাযিনামিথ্যা অপবাদ ইত্যাদির শাস্তির বিধান জারি হয়ে গিয়েছিল।

** ইত্যাদি কারণে মুসলমান সমাজ একটি ভিন্ন স্ট্যাটাস বহন করছিল। তাদের কথাবার্তাচাল চলন পোষাক পরিচ্ছেজীবন যাপনের পদ্ধতি একটা স্বতন্ত্র ধারা সমুজ্জল হয়ে উঠেছিল।

** ‍মুসলমানদের এই অগ্রগতি এমন পর্যায়ে পৌছে ছিল যেঅমুলিমরা এই সমাজের সাথে মিলে মিশে একাত্ম হবে এটা আর সম্ববপর ছিল না।

 এমন অবস্থায় হোদায়বিয়ার সন্ধি সম্পাদিত হয়। এর ফল যা হলোঃ 

** কুরাইশ বা কাফেরদের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধসংঘর্ষ ও সংঘাত লেগেই থাকতো। এই অবস্থায় দ্বীনের দাওয়াতের সীমা বৃদ্ধি করার কাজে সময় দেয়ার অবকাশ ছিল না।

** হোদায়বিয়ার সন্ধিতে বাহ্যিক পরাজয় মনে হলেও তা বাহ্যিক বাধা দূর হয়ে যায় এবং দ্বীনের দাওয়াত সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

** হোদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে শুধু নিজ রাষ্টের মধ্যে শান্তি আসেনিবরং আশ পাশের এলাকায় নিরাপদে ইসলামের দাওয়াত প্রচারের সুযোগ ও অবকাশ অর্জিত হয়।

** হোদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে প্রাপ্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দাওয়াতী কাজের শুভ উদ্বোধন হয় ইরানরোমমিশর আর আরব বাদশাহ ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উদ্দেশ্যে রাসূল সা. এর দাওয়াতী পত্র প্রেরণের মাধ্যমে।

** হোদাবিয়ার এই নিয়ামতে পরিপূর্ণতা লাভ করে মুবাল্লিগদের বিভিন্ন গোত্র ও কওমের মাঝে ছড়িয়ে পড়া এবং মানুষদেরকে আল্লাহর দ্বীনের দিকে আহবান জানানোর মাধ্যমে।

আলোচ্য বিষয়সমূহঃ

 এ সূরায় বড় বড় তিনটি বিষয় আলোচিত হয়েছে। যেমনঃ

১. ধর্মীয়তামাদ্দুনিকসাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কি বিধি নিষেধ। যেমনঃ হজ্জ সফরের রীতি-পদ্ধতি নির্ধারণইসলামী নিদর্শন সমূহের প্রতি সম্মাণ প্রদর্শনকাবা যিয়ারতকারী বাঁধা না দেয়াখাবার ও পানীয়তে হালাল-হারামের সীমা নির্ধারণজাহেলী যুগের মনগড়া বাধা নিষেধের বিলুপ্তিআহলে কিতাবদের সাথে খাবার গ্রহণ ও তাদের মেয়েদের বিয়ের অনুমতি প্রসংগঅযু গোসল আর তাইয়াম্মুমের রীতি পদ্ধতির প্রবর্তনবিদ্রোহ অরাজকতা ও চূরি ডাকাতির শাস্তির বিধানমদ জুয়াকে নিষিদ্ধকরণকসম ভাঙার কাফ্ফার নির্ধারণসাক্ষ্য প্রদান আইনের ধারা প্রবর্তন ইত্যাদি।

২. মুসলমানদের উপদেশ প্রদান। যেমনঃ মজলুম থেকে শাসক হওয়ার প্রেক্ষিতে মুসলমানদের নসিহত করা হয়েছে যেন্যায় ইনসাফ ও ভারসাম্য নীতি অবলম্বন করে। আহলী কিতাবী মনোভাব ও নীতি পরিহারআল্লাহর আনুগত্য ও তার হুকুম এবং আইন মেনে চলার অঙ্গিকারের উপর অবিচল থাকাইহুদী ও খৃষ্টানদের মতো সীমালংগনকারী না হওয়াসকল ফায়সালার জন্য কিতাবকে অনুসরণ ও মুনাফিকী নীতি পরিহার।

৩. ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে উপদেশ প্রদান। সময়টাতে ইহুদের ‍পুরো শক্তিই খর্ব হয়ে গিয়েছিল। উত্তর আরবের সকল ইহুদী জনপদ মুসলমানদের হাতে। বিধায় তাদের ভ্রান্ত নীতি সম্পর্কে তাদেরকে আবার সতর্ক করা হয়। তাদেরকে সত্য ও সঠিক পথে আসার দাওয়াতশেষ নীবার প্রতি ঈমান আনার আহবান।

এখানে উল্লেখ্য যেমূর্তিপূজারী ও অগ্নি উপসকদের কোন সম্বোধন করা হয়নি। কারণ আরব মুশরিকদের ইতিমধ্যে যে সম্বোধন করা হয়েছিলসেই সম্বোধনই যথেষ্ট ছিল এজন্য যেতারা ছিল ওদের সমমনা।

ব্যাখ্যাঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ ۚ أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۗ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ

১) হে ঈমানদারগণ! বন্ধনগুলো পুরোপুরি মেনে চলো। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ গৃহপালিত পশু জাতীয় সব পশুই হালাল করা হয়েছে তবে সামনে যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের জানানো হবে সেগুলো ছাড়া। কিন্তু ইহ্‌রাম বাঁধা অবস্থায় শিকার করা নিজেদের জন্য হালাল করে নিয়ো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ‌ যা ইচ্ছা আদেশ করেন।

أَوْفُوا بِالْعُقُودِ– বন্ধনগুলো পুরোপুরি মেনে চলো।

 এখানে বন্ধন বলতে এই সূরায় সামনের দিকে কিছু নিয়ম-নীতি এবং বিধি-বিধান আরোপ করা হয়েছেতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। শুরু করা হয়েছে আল্লাহর শরীয়াত মেনে চলার তাগিদ দিয়ে। এরপর বিস্তারিত ভাবে সেই বিধি বিধানগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। 

أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِতোমাদের জন্য চতুষ্পদ গৃহপালিত পশু জাতীয় সব পশুই হালাল করা হয়েছে।

 الْأَنْعَام শব্দটি দ্বারা আরবী ভাষায় উটগরুছাগল ও ভেড়া বুঝায়। بَهِيمَةُ  বলতে বিচরণশীল চতুষ্পদ জন্তু।

 যদি শুধু আনআম বলা হতোতাহলে উটগরুছাগল ও ভেড়া এই ৪টি জন্তু হালাল হতো। বরং এখানে ব্যাপক করা হয়েছে গৃহপালিত বিচরণশীল চতুষ্পদ প্রাণী বলা হয়েছে। আর এই সব প্রাণীর বৈশিষ্ট হচ্ছেঃ 

১. যাদের শিকারী দান নেই।

২. যারা জান্তব খাদ্যের পরিবর্তে উদ্ভিদ জাতীয় খাদ্য খায়।

৩. যারা উপরোক্ত উটগরুছাগল ও ভেড়ার সাদৃশ্য।

 উপরোক্ত বৈশিষ্টের কারণে নিম্নোক্ত বৈশিষ্টধারী জন্তু হালাল হতে পারে না। যেমনঃ

১. যে সব পশুর শিকারী দাঁত আছে।

২. যে সব পশু অন্য প্রাণী শিকার করে খায়।

 হাদীসে রাসূলে যে বিষয়টা স্পষ্ট করা হয়েছে শিকারী হিংস্র প্রাণী হারাম বলে।

 রাসূল সা. এমন সব পাখি হারাম গন্য করেছেনযাদের শিকারী পাঞ্জা আছেঅন্যপ্রাণী শিকার করে খায় বা মৃত খায়।

 আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেনঃ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كُلِّ ذِى نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ و كُلِّ ذِى مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ– নবী সা. শিকারী দাঁত সম্পন্ন প্রত্যেকটি পশু এবং নখরধারী ও শিকারী পাঞ্জা সম্পন্ন প্রত্যেকটি পাখি আহার করতে নিষেধ করেছেন।

 আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাএর সমর্থনে আরো বহু সংখ্যক হাদীস পাওয়া যায়

عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌকিন্তু ইহ্রাম বাঁধা অবস্থায় শিকার করা নিজেদের জন্য হালাল করে নিয়ো না।

 ইহরাম কি?

** কাবাঘর এবং হজ্জ পালনকারীদের জন্য এক ধরণের ফকিরী পোষাক পরিধান করতে হয়, যার নাম ইহরাম।

** কাবাঘর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ৫দিকে ৫টি স্থানকে দূরত্ব হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যাকে বলা হয় মিক্বাত। কাবা জিয়ারতকারী সকলকে সাধারণ পোষাকে ঐ এলাকার ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নাই।

** ইহরামের পোষাক হলোঃ সেলাই বিহীন দুইটি চাদর, যার একটিকে লুঙ্গির মতো করে ব্যবহার করতে হয় এবং আরেকটিকে জামার বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করতে হয়।

** ইহরামকে এজন্য ইহরাম বলা হয় যে, ইহরামের কাপড় পরার পর বেশ কিছু হালাল কাজ আছে, যা ইহরাম গ্রহণকারীর জন্য হরার হয়ে যায়। যেমনঃ ১. সেইভ করা। ২. সুগন্ধি ব্যবহার করা, ৩. সব ধরণের সাজসজ্জা, ৪. সৌন্দর্য চর্চা, ৫. যৌনচার, ৬. প্রাণী হত্যা, ৭. শিকার করা, ৮. শিকারের বস্তু দেখিয়ে দেয়া ইত্যাদি।

اِنَّ اللّٰهَ يَحۡكُمُ مَا يُرِيۡدُ– নিঃসন্দেহে আল্লাহ‌ যা ইচ্ছা আদেশ করেন।

 আল্লাহ যা ইচ্ছা আদেশ দেন মানেঃ

** আল্লাহ সার্বভৌম কর্তৃত্বের অধিকারী একচ্ছত্র শাসক

** আল্লাহ নিজের ইচ্ছেমতো যে কোন হুকুম দেবার পূর্ণ ইখতিয়ার রাখেন

** আল্লাহর নির্দেশ ও বিধানের ব্যাপারে কোন প্রকার উচ্চবাচ্য করার বা আপত্তি জানানোর কোন অধিকার মানুষের নেই

** আল্লাহর সমস্ত বিধান জ্ঞানপ্রজ্ঞাযুক্তিন্যায়নীতি ও কল্যাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলেও ঈমানদার মুসলিম যুক্তিসঙ্গতন্যায়ানুগ ও কল্যাণকর বলেই তার আনুগত্য করে না বরং একমাত্র সর্বশক্তিমান প্রভু আল্লাহর হুকুম বলেই তার আনুগত্য করে

** আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা কেবল তাঁর হারাম করে দেবার কারণেই হারাম হিসেবে গণ্য

** আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হালাল হবার পেছনে কোন কারণ নেই। কারণ একটাইঃ আল্লাহ এসব জিনিসের মালিক তিনি তার দাসদের জন্য এ জিনিসটি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন বলে এটি হালাল

** কুরআন সর্বোচ্চ বলিষ্ঠতা সহকারে এ মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত করেছে যেকোন বস্তুর হালাল ও হারাম হবার জন্য সর্বশক্তিমান প্রভু আল্লাহর অনুমোদন  করা বা না করা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন ভিত্তির আদৌ কোন প্রয়োজন নেই

** আল্লাহ যে কাজটিকে বৈধ গণ্য করেছেন সেটি বৈধ এবং যেটিকে অবৈধ গণ্য করেছেন সেটি অবৈধএছাড়া মানুষের জন্য কোন কাজের বৈধ ও অবৈধ হবার দ্বিতীয় কোন মানদণ্ড নেই

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُحِلُّوۡا شَعَآءِرَ اللّٰهِ وَلَا الشَّهۡرَ الۡحَرَامَ وَلَا الۡهَدۡىَ وَلَا الۡقَلَٓاٮِٕدَ وَلَاۤ آٰمِّيۡنَ الۡبَيۡتَ الۡحَرَامَ يَبۡتَغُوۡنَ فَضۡلاً مِّنۡ رَّبِّهِمۡ وَرِضۡوٰنًا‌ؕ وَاِذَا حَلَلۡتُمۡ فَاصۡطَادُوۡا‌ؕ وَلَا يَجۡرِمَنَّكُمۡ شَنَاٰنُ قَوۡمٍ اَنۡ صَدُّوۡكُمۡ عَنِ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اَنۡ تَعۡتَدُوۡا‌ۘ وَتَعَاوَنُوۡا عَلَى الۡبِرِّ وَالتَّقۡوٰى‌ وَلَا تَعَاوَنُوۡا عَلَى الۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ‌ وَاتَّقُوۡا اللّٰهَ‌ؕ اِنَّ اللّٰهَ شَدِيۡدُ الۡعِقَابِ

হে ঈমানদারগণআল্লাহর আনুগত্য ও ভক্তির নিদর্শনগুলোর অমর্যাদা করো না হারাম মাসগুলোর কোনটিকে হালাল করে নিয়ো না। কুরবানীর পশুগুলোর ওপর হস্তক্ষেপ করো না। যেসব পশুর গলায় আল্লাহর জন্য উৎসর্গীত হবার আলামত স্বরূপ পট্টি বাঁধা থাকে তাদের ওপরও হস্তক্ষেপ করো না। আর যারা নিজেদের রবের অনুগ্রহ ও তাঁর সন্তুষ্টির সন্ধানে সম্মানিত গৃহের (কাবাদিকে যাচ্ছে তাদেরকেও উত্যক্ত করো না হ্যাঁইহরামের অবস্থা শেষ হয়ে গেলে অবশ্যি তোমরা শিকার করতে পারো আর দেখোএকটি দল তোমাদের জন্য মসজিদুল হারামের পথ বন্ধ করে দিয়েছেএ জন্য তোমাদের ক্রোধ যেন তোমাদেরকে এতখানি উত্তেজিত না করে যেতাদের বিরুদ্ধে তোমরা অবৈধ বাড়াবাড়ি করতে শুরু কর নেকী ও আল্লাহভীতির সমস্ত কাজে সবার সাথে সহযোগিতা করো এবং গুনাহ ও সীমালংঘনের কাজে কাউকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। তাঁর শাস্তি বড়ই কঠোর

لَا تُحِلُّوۡا شَعَآءِرَ اللّٰهِ– আল্লাহর আনুগত্য ও ভক্তির নিদর্শনগুলোর অমর্যাদা করো না

– شعَارযেটাকে আমরা চিনি লোগো হিসাবে।

** কোন দেশ, সংস্থা বা ব্যবস্থার পরিচয় বহনকারী চিহ্ন। আলামত, নিদর্শন বা পরিচয় চিহ্নের কাজ করে শেয়ার।

** যে জিনিস কোন আক্বীদা-বিশ্বাস, মতবাদ, চিন্তাধারা, কর্মনীতি বা ব্যবস্থা, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে-তাকে শেয়ার বলা হয়।

** সরকারের শেয়ার হচ্ছেঃ পতাকা, সেনাবাহিনী ও পুলিশের ইউনিফরম, মুদ্রা, নোটি, ডাকটিকিট ইত্যাদি।

** খৃষ্টানদের শেয়ার হলোঃ গীর্জা, ফাঁসির মঞ্চ ও ক্রুশ।

** ব্রাম্মণ্যবাদের শেয়ারঃ টিকি, পৈতা ও মন্দীর।

** শিখদের নিশানী হলোঃ ঝুঁটি চুল, হাতের বালা ও কৃপান।

** সমাজতন্ত্রের নিশানীঃ হাতুড়ী ও কাস্তে।

** দেশে তার নাগরিকের প্রতি, ধর্ম বা মতবাদ তার অনুসারীদের প্রতি, প্রতিষ্ঠান তার অধীনস্তদের প্রতি এই চিহ্ন বা শেয়ারের প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনের দাবী রাখে।

** কোন ব্যবস্থায় তার নিশানীর প্রতি অবমাননা ঐ ব্যবস্থাকে অবমাননা বা ব্যবস্থার প্রতি শত্রুতার আলামত হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

** কোন ব্যবস্থার অধীনস্ত ব্যক্তি তার শেয়ারের প্রতি অবমাননা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও তার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমার্ধক বলে গন্য করা হয়।

 

– شَعَآءِرَ হলো شعَار এর বহু বচন।

شَعَآءِرَ اللّٰهِ – বলতে এমন বুঝায়ঃ

** যা শিরক, কুফরী ও বাস্তিক্যবাদের বদলে নির্ভেজাল আল্লাহর আনুগত্য মূলক মতাবাদের প্রতিনিধিত্ব করে।

** মতবাদ ও ব্যবস্থার মধ্যে এমন নিশানী পাওয়া গেলে সকল মুসলমান তার প্রতি সম্মাণ প্রদর্শন কতে হবে।

** মানসিকতায় নির্ভেজাল আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্ব থাকতে হবে।

** মানসিকতাকে মুশরিকী ও কুফুরী চিন্তার মিশ্রণ থেকে মুক্ত হওয়া চাই।

** কোন অমুসলিমের বিশ্বাস ও কাজে যদি এক আল্লাহর আরাধনা ও ইবাদতের কোন অংশ পাওয়া যায়, তাহলে মুসলমানের উচিত সেই বিষয়গুলোতে তাকে সমর্থন প্রদান করা। কারণ তার সাথে বিরুধের বিষয় হলো, সে বন্দেগীর সাথে আরো অনেক কিছু মিশিয়ে দিয়েছে।

– আল্লাহর আশআর সমূহের প্রতি সম্মাণ প্রদর্শনের নির্দেশ তখন দেয়া হয়েছে, যখন মুসলাম আর মুশরিকদের মাঝে যুদ্ধ চলছি। এবং মক্কা ছিল মুশরিকদের দখলে।

** সেই সময়ে আরবের সব এলাকা থেকে মুশরিকরা হজ্জ উমরার উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে যেতো এবং তখন তাদেরকে অনেক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা অতিক্রম করতে হতো।

** আশআরের প্রতি সম্মাণ প্রদর্শন করা রকথা বলে মুসলমানদের এই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যে, তারা মুশরিক হলেও কিংবা তাদের সাথে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করলেও তারা যেহেতু তোমাদের আল্লাহর ঘরের দিকে যাচ্ছে, তাই বাঁধা দিওনা। তারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে যে পশু গুলো নিয়ে যাচ্ছে, তাতে হস্তক্ষেপ করোনা।

 

** এর কারণ হচ্ছে, তারা মুশরিক হলেও আল্লাহর আরাধনার বিষয়টি তাদের মাঝে এখনো অবশিষ্ট রয়েছে। আর কেবল একারণে সে সম্মাণ পাওয়ার যোগ্য।

 

 

লেখাটি আপনার ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
আমার লিখা দারসুল কুরআন লেখালেখি