(বাংলাদেশের বা কাতারের আইনে কি আছে, তা এই লেখার বিবেচ্য বিষয় নয়। গত ২৫শে
জানুয়ারী ঢাকা থেকে আমি দোহাতে এসেছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এই লেখাটি)

 

যারা বাংলাদেশ
থেকে কাতারে আসবেন
, তাদেরকে নিম্নোক্ত ডকুমেন্ট গুলো সাথে থাকতে হবেঃ

১. অরিজিনাল পাসপোর্ট এবং ২টি ফটোকপি।

২. কাতারী আইডি কার্ড এবং ২ টি ফটোকপি।

৩. টিকেটের কপি।

৪. করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেটের অরিজিন্যাল এবং ৫টি ফটোকপি।

৫. এন্ট্রি পারমিট অরিজিনাল এবং ১টি ফটোকপি।

৬. হোটেল কোয়ারেন্টাইন বা মেকানিস কোয়ারেন্টাইনের বুকিং-এর অরিজিন্যাল
এবং ১টি ফটোকপি।

৭. হোম কোয়ারেন্টাইন হলে কাতার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত একটি
পুরণকৃত ফরম।

৮. পুরণকৃত এমবার্গেশন কার্ড।

 

উপরে বর্ণিত ডকুমেন্ট গুলোর মধ্যে পাসপোর্ট ও আইডি কার্ড ছাড়া
বাকী সকল কাগজপত্র সিরিয়াল অনুযায়ী একসাথে স্টাপলার করে নিন
, যাতে যথা
সময়ে প্রদর্শন সমস্যায় না পড়েন।

 

এয়ারপোর্টে
আপনি ধারাবাহিক ভাবে যে সব আনুষ্ঠানিকতার সম্মুখীন হবেনঃ

একঃ করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট গ্রহণ

আপনার ফ্লাইটের ৪৮ ঘন্টা আগে আপনি এয়ারলাইন্স নির্ধারিত হাসপাতাল
থেকে করোনা সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে
, সকল হাসপাতালের
সার্টিফিকেট সকল এয়ারলাইন্স গ্রহণ করেনা। বিধায় আপনি যে এয়ারলাইন্সে ভ্রমন করবেন
, তারা যে সব
হাসপাতালকে অনুমোদন দিয়েছে
,
আপনাকে সেই সব হাসপাতাল থেকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট গ্রহণ
করতে হবে।

 

দুইঃ বিমান বন্দরে প্রবেশ

ঢাকা বিমান বন্দরে আপনি চাইলেই প্রবেশ করতে পরবেন না। আপনি প্রতিটি
গেইটে লম্বা লম্বা লাইন দেখতে পাবেন। আপনি লাইনে দাড়ানোর পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন যে
, আপনি যে বিমানে
ভ্রমন করবেন
, সেই বিমানের জন্য কোন লাইন। না হলে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে শেষ মুহুর্তে আপনি জানতে
পারবেন যে
, আপনি ভুল লাইনে দাড়িয়েছিলেন।

 

তিনঃ হেলথ চেকআপ

বিমান বন্দরে প্রবেশ করার পর আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে নির্ধারিত
হেলথ ডেস্ক-এ আপনার করোনা নেগেটভ সার্টিফিকেট প্রদর্শন করে একটি টুকেন গ্রহণ করা।

 

চারঃ চেক ইন

আপনি যে এয়ারলাইন্সে ভ্রমন করবেন, সেই এয়ার
লাইন্সের নির্ধারিত লাইনে আপনাকে দাড়াতে হবে হেলথ ডেস্ক থেকে নেয়া টুকেন সহ। ওখানে
আপনাকে আপনার পাসপোর্ট
,
কাতারি আইডি এবং স্টাপলার করা সকল কাগজ দেখাতে হবে। তারা সব
কিছু পরিক্ষা করে আপনার লাগেজ গ্রহণ করবে এবং আপনাকে বোর্ডি কার্ড প্রদান করবে। তাদের
জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ গুলো রেখে বাকী কাগজ গুলো ফেরত দেবে।

 

পাঁচঃ  ইমিগ্রেশন
কাউন্টারে প্রবেশ

ইমিগ্রেশন কাউন্টারে প্রবেশ পথে কর্তব্যরত পুলিশ আপনার সাথে
পাসপোর্ট
, আইডি এবং পুরণকৃত এমভারগেশন কার্ড আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে আপনাকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে
প্রবেশের অনুমতি দেবে।

 

ছয়ঃ ইমিগ্রেশন

ইমিগ্রেশন অফিসার আপনার বোডিং কার্ড, পাসপোর্ট
ও আইডি কার্ড এর সাথে সাথে এন্ট্রি পারমিট ও করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখবে। তারা
সেখানে কোন কোন কাগজের কপি রাখতেও পারে।

 

সাতঃ ওয়েটিং এরিয়া

ওখানে আপনি পৌছবেন ইমিগ্রেশন হওয়ার পরপর। ওখানে পৌছে আপনি সামাজিক
দূরত্ব বজায় রেখে বসার সুযোগ পাবেন। ওখানে আপনি স্ক্রিনে বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী আপনার
গেইট নম্বর কত
, তা দেখে নিয়ে সেই এলাকার নিকটবর্তী চেয়ার সমূহে বসবেন। ওখানে আপনার ওয়াশরুমের প্রয়োজনটাও
সারতে পারেন। নামাজেও সময় হলে নামায পড়ে নিতে পারেন। উল্লেখ্য যে
, এই মূহুর্তে
ঢাকা এয়ারপোর্টের ওয়াশরুম সমূহ খুবই পরিচ্ছন্ন-যা কাতারের ওয়ামরুম গুলোর পরিচ্ছন্নতার
চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

 

আটঃ এহতেরাজ

আপনার মোবাইলে প্লে স্টোরে গিয়ে এহতেরাজ এ্যাপটি ডাউনলোড কর
নিন। বোডিং এর সময় আপনাকে তা দেখাতে হবে। যদি আপনি এহতেরাজ ডাউনলোড করতে ব্যর্থ হোন
, তাহলে ১৫০
কাতারী রিয়াল সাথে রাখুন।

 

নয়ঃ বোডিং

আপনাকে বোডিং এর জন্য ঢাকা হবে অথবা আপনার আশপাশের পেসেজ্ঞারগন
দৌড়িয়ে লাইনে দাড়াচ্ছে দেখতে পাবেন। আপনি তাড়াহুড়া করার কোন দরকার নাই। কারণ ওখানে
আপনাকে ১ থেকে দেড় ঘন্টা লাইনে দাড়াতে হবে। তাই লাইনের ভীড় কম হলে ধীরে ধীরে লাইনে
দাড়ান। ওখানে আপনার পাসপোর্ট
, আইডি, এন্ট্রি পারমিট, হোটেল বুকিং ভাল ভাবে পরীক্ষা করা
হবে। বিধায় যদি আপনার হোটেল বুকিং হোয়াইটসআপে ছবি উঠিয়ে গ্রহণ করে থাকেন
, তাহলে আপনি
নিশ্চিত হয়ে নিন যে
,
আপনার ছবিটি সম্পূর্ণ আছে কি না। যদি না থাকে, তাহলে বাড়ীতে
থাকা অবস্থায়ই সুন্দর ছবি সংগ্রহ করে তা সুন্দর করে প্রিন্ট করে নিন।

 

বিশেষ জ্ঞাতব্যঃ

** যারা মেকানিসে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন, তারা সংশ্লিষ্ট অফিসারের হয়রানির শিকার
হতে পারেন। আপনি দৃঢ়তার সাথে তাকে বুুঝিয়ে দিন যে
, কাতার সরকার দুই ধরণের কোয়ারেন্টাইনের
ব্যবস্থা করেছে। তন্মধ্যে সাধারণ পেশায় যারা কাজ করেন
, তাদের জন্য
মেকানিস।

** যারা কিছুদিন আগে কাতার ত্যাগ করেছেন, তাদের এন্ট্রি পারমিটে হোটেল, প্রাইভেট, বাসা, মেকানিস কিছুই
লেখা থাকেনা। বিধায় কর্তব্যরত অফিসার আপনাকে হয়রানি করতে পারে। তাই তাকে বুঝিয়ে দিন
যে
, সহসা যারা কাতার ত্যাগ করেছেন, তাদরে বয়স ৫৫ বছরের উপরে না হলে তাদের
জন্য হোটেল অথবা মেকানিস বাধ্যতামূলক।

 

নয়ঃ বিমানে ভ্রমণ

বিমানে উঠার পর আগের মতো সব নিয়ম মেনে আপনি বিমানে অবস্থান করবেন।
তবে বিমানে হাটাচলা নিয়ন্ত্রিত। বিমানে চায়ের ব্যবস্থা বন্ধ আছে। কাতার আসার সময় বিমানে
আপনাকে একটা ফরম দেয়া হবে। ঐ ফরমটি অহেতুক। তা পুরণ করতে হয় না বা কাতারে কোথাও দেখাতে
হয়না।

 

দশঃ কাতার এয়ারপোর্টে অবতরণ

কাতার এয়ারপোর্টে অবতরণ করে আপনি বিমানে থাকা অবস্থায় চেক করে
নিন যে
, আপনার মোবাইলে এহতেরাজ একটিভ হয়েছে কি না। যদি না হয়ে থাকে তাহলে ১৫০ রিয়াল নিয়ে
প্রস্তুত থাকুন।

 

এগারঃ এহতেরাজ

কাতার এয়ারপোর্টে অবতরণের পর আপনাকে একটি লাইনে দাড় করানো হবে।
আপনি কর্তব্যরত অফিসারদের আপনার মোবাইলের এহতেরাজ প্রদর্শণ করুন। এহতেরাজ একটিভ থাকলে
লাইনে দাড়াতে হবে না। তারা আপনাকে অন্য একটি পথ দেখিয়ে দেবে।

 

বারঃ এন্ট্রি পারমিট

আপনি এহতেরাজ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর আপনি যে লাইনে আসবেন, সেখানে আপনাকে
এন্ট্রি পারমিট দেখাতে হবে। ওখানে এন্ট্রি পারমিটে একটা সিল দেয়া হবে।

 

তেরঃ কোয়ারেন্টাইন

এন্ট্রি পারমিটে সিল দেয়ার পর আপনি চলে আসবেন হোটেল বা মেকানিস
বুকিং কাউন্টারে। তারা পরীক্ষা করে আপনাকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে প্রেরণ করবে।

 

চৌদ্দঃ ইমিগ্রেশণ

ইমিগ্রেশন সমাপ্ত হলে আপনি বেল্টে গিয়ে আপনার লাগেজ সংগ্রহ করবেন।
যদি আপনি হোম কোয়ারেন্টাইনের অধিকারী হোন
, তাহলে আপনি পূর্বের নির্ধারিত গ্রীন
লাইন দিয়ে সহজে বের হয়ে যাবেন।

 

পনেরঃ লাগেজ সংগ্রহ

লাগেজ সংগ্রহ করার জন্য আপনি যখন গ্রীন লাইন দিয়ে বের হতে যাবেন, তখন সেখানে
আপনাকে আটকিয়ে পরীক্ষা করা হবে। যদি আপনি হোটেল বা মেকানিস কোয়ারেন্টাইনের অধীনে হোন
, তাহলে আপনাকে
ভিন্ন আরেকটি কাউন্টার দেখানো হবে। যার নাম ডিসকভার কাতার।

 

ষোলঃ ডিসকভার কাতার

ডিসকভার কাতার কাউন্টার আপনার হোটেল বুকিং বা মেকানিস বুকিং
চেক করে আপনাকে একটি টোকেন দেবে। সেই টোকেন আপনি দেখানোর পর আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে
টেক্সি কাউন্টারে।

 

সতেরঃ টেক্সিতে ভ্রমন

টেক্সিতে আপনি আপনার লাগেজ সহ উঠেই ড্রাইভার থেকে তার পথ নির্দেশ
জেনে নিন এবং আপনার লাগেজে থাকা প্রয়োজনীয় দ্রব্য যা আপনার আত্মীয়ের কাছে হস্তান্তর
করতে চান
, তা পথে যে কোন এক জায়গায় গাড়ী থামিয়ে হস্তান্তরের সুযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করুন।
বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ড্রাইভার অনুরোধ গ্রহণ করবে। আপনি আপনার আত্মীয়কে সেই লকেশনে আসতে
বলুন। লাগেজ হস্তান্তর করুন।

মনে রাখবেনঃ

** কোয়ারেন্টাইনে ৭ বা ১৪ দিন থাকার জন্য আপনার প্রয়োজনীয় কাপড় ছোপড় বাড়িতে থাকা অবস্থায়
পৃথক লাগেজে রাখুন।

** আপনি আপনার লাগেজ যদি পথে আপনার আত্মীয়কে দিতে না পারেন, তাহলে হোটেলে
পৌছার পর আর আপনি তা দিতে পারবেন না এবং আপনি আপর বের হতে পারবেন না।

 

 

আমার ভ্রমন অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয় গুলো শেয়ার করলাম। আইনে ভিন্ন
ভাবে থাকতে পারে অথবা অন্য কারো ভ্রমন অভিজ্ঞতা ভিন্ন ধরণের হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here